অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য – আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম

2010/04/22 at 12:41 পুর্বাহ্ন (প্রতিক্রিয়া, যুক্তিপ্রমাণ)

শিরোনামঃ অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য

লেখকঃ জাহিদ সুমন

সাইটের প্রকৃতিঃ আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম

সময়ঃ সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০১০ ৬:২২ অপরাহ্ন

লিংকঃ http://tinyurl.com/y4bpmam

লেখাঃ

অভ্র বিজয়কে নকল করেছে – হ্যাক করেছে- পাইরেসী করেছে……

পুরো আইটি সেক্টর গরম করে ফেলেছেন মিঃ জব্বার। যাই হোক কম্পিউটার তো বুঝে গনিতের ভাষা। আসুন গনিতের ভাষাতেই দেখি কতটুকু পাইরেসী হয়েছে। মিঃ জব্বার বলেছেন তার বিজয় কি-বোর্ড এর কথা যা অভ্রতে ইউনিজয় কি-বোর্ড হিসেবে দেয়া আছে।

এই কি-বোর্ড ছাড়া আর কি কোন কি-বোর্ড নাই? আছে – আর ও কমপক্ষে ৪টি কি-বোর্ড আছে। যেমনঃ ন্যাশনাল, বর্ননা, অভ্র ইজি, অভ্র ফোনেটিক ইত্যাদি। তাহলে ফল কি দাড়াল- পাইরেসীর হার ২০%।

আসুন এ ২০% সবেধন নীলমনি মিঃ জব্বারের বিজয় সফটওয়্যারের সাথে কতটুকু মিল রেখেছে তা আমরা দেখি।

পার্থক্যঃ

১. বিজয় উইন্ডোজ ৯৫, ৯৮ ও সাপোর্ট করে যা অভ্র করেনা। সুতরাং অভ্র তার কোডিংয়ে কোন কিছুই বিজয় থেকে ধার করেনি।

২. পুরনো বিজয়ে ইউনিকোড ফন্টগুলির সাপোর্ট নেই। অভ্র শুরু থেকেই ইউনিকোড বেজড।

৩. অভ্রতে জব্বার সাহেবের একটি ফন্টও কাজ করে না। তাই অভ্র ফন্ট পাইরেসী থেকে মুক্ত। সে সর্বদাই ইউনিকোড বেজড মুক্ত ফন্ট এর উপর নির্ভরশীল।

৪. অভ্রতে ঃ – এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৫. অভ্রতে ৎ – এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৬. অভ্রতে ঁ- এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৭. অভ্রতে ং এর কি স্ট্রোক ভিন্ন।

৮. ঙ – এর কি-স্ট্রোক আলাদা।

৯. ো – কার দিতে বিজয় এ দু’বার কি-চাপতে হয় কিন্তু অভ্রতে একবার এবং এটি অক্ষর লেখার পর চাপতে হয়।

১০. ে- কার একইভাবে অক্ষর লেখার পর চাপতে হয়।

১১. যুক্ত অক্ষর বিজয়ে লেখার পর ডিলিট করলে পুরো লেখা মুছে যায় কিন্তু অভ্র যুক্ত অক্ষরের প্রতিটি অক্ষরকে আলাদা ভাবে মুছে থাকে। তাই ভুল হলেও দ্রুত সংশোধন করা যায়।

১২. বিজয় দিয়ে টাইপ করলে ডকুমেন্টে ব্যাকরন ভুল দেখায় কিন্তু অভ্রতে এ সমস্যা নেই।

১৩. অভ্র চালু করতে একটি মাত্র কি-স্ট্রোক যথেষ্ট এবং ফন্ট ও ম্যানুয়ালী পাল্টাতে হয় না। এফ১২ চাপলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষার সাথে সাথে ফন্ট ও পাল্টে যায়। বিজয় অনেক অনেক পিছনে পড়ে আছে এ দিক থেকে।

১৪. অভ্রের লিনাক্স ভার্সন রয়েছে কিন্তু বিজয় শুধুমাত্র ম্যাক ও উইন্ডোজে চলে।

১৫. অভ্র ব্যবহারের জন্য ফ্রি কিন্তু বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

১৬. অভ্রতে নিজের কি-বোর্ড নিজেই তৈরী করে নেয়া যায় কিন্তু বিজয়ে এ ধরনের কোন সুবিধা নেই।

১৭. বিজয় দিয়ে টাইপ করলে ওয়ার্ডে অনেক সময় বিভিন্ন অক্ষর বা শব্দ পরিবর্তিত হয়ে যায় অটোকারেক্ট ফিচারের জন্য কিন্তু অভ্রতে এ ধরনের সমস্যা নেই।

১৮. অভ্র দিয়ে ইউনিকোড সাপোর্ট করে না এমন সফটওয়্যারে বাংলা লেখা যায় না যেমন- ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর কিন্তু বিজয় দিয়ে লেখা যায়- এটি বিজয়ের ভাল দিক হলেও একটি বড় পার্থক্য।

১৯. ও- লিখতে হলে অভ্রতে লিংক কি চাপতে হয় কিন্তু বিজয়ে লিংক কি চাপতে হয় না।

এবার আপনাদের পালা….

পার্থক্য বলতে থাকুন আর ২০% পাইরেসীর কত পার্সেন্ট শেষ পর্যন্ত থাকে দেখা যাক :-?

বেচার মিঃ জব্বার :ttt: সামান্য একটি লে-আউট আবিষ্কার করেই যে ক্রেডিট নিতে থাকেন তা কোন মানসিকতাকে রিপ্রেজেন্ট করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেউ কেউ কোন কাজের জন্য কতটুকু ক্রেডিট নিতে হয় তার মাত্রাজ্ঞানও মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলেন।

এজন্যই বলা হয়ে থাকে-

Great Mind Discuss Ideas
Average Mind Discuss Events
Small Mind Discuss Peoples
Very Small Mind Discuss Themselves(!!!!)

Advertisements
%d bloggers like this: