প্রযুক্তি বিতর্ক-বিজয় বনাম অভ্র – আব্দুন নূর তুষার

2010/05/24 at 12:03 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

অভ্র-বিজয় বিতর্ক নামে সাপ্তাহিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নিয়ে একজন বাংলা ব্যবহারকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হিসেবে আমার মতামত জানাতে চাই।

১. শুরুতেই প্রতিবেদক একটি জটিল শতকরা হিসেব দিয়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং এদের মধ্যে অভ্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে অংক ফেঁদেছেন। এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করার কৌশল। মোট ব্যবহারকারীর ৫০-৬০ শতাংশ ব্যবহার করেন বাংলা। ৫০ থেকে ৬০ এর মধ্যে ১০% পার্থক্য। কোন অ্যাপ্রক্সিমেট বা অনুমিত হিসেবে এত বড় রেঞ্জ বা সীমানা, প্রমাণ করে হিসাবটি মনগড়া। তার পরেও ধরে নিলাম এটা ঠিক। এই ৬০%-এর মধ্যে ১৫% যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে মোট ব্যবহারকারীর ৯% ব্যবহার করেন ইন্টারনেট। আবার এই ১৫% এর মধ্যে ২০% ব্যবহার করেন ইন্টারনেট বাংলা। তার মনে মোট বাংলা ব্যবহারকারী জনসংখ্যার মাত্র ১.৮% ইন্টারনেটে বাংলা লেখেন। যদি তাদের সবাইকে ধরে নেয়া হয় অভ্র ব্যবহারকারী তাহলেও বিজয়ের সঙ্গে অভ্রের কোনো তুলনা চলে না। কারণ লেখক শুরুতেই বলেছেন যে মোট ৫০-৬০ শতাংশ বাংলা ব্যবহারকারীর প্রায় সবাই বিজয় ব্যবহার করেন। এই হিসাবটি এভাবে বলা হয়েছে সুকৌশলে বিজয়ের পাশে অভ্রকে দাঁড় করানোর জন্য। অভ্রর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী বলে আসলে মিথ্যাচার করেছেন আনিস রায়হান। ১.৮% মানুষের পাশে ৬০%। অভ্র যদি আকাশ ছোয় তাহলে বিজয় তো তার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি জনপ্রিয় প্রতিবেদকের হিসাবমতেই।

২. ভাষা সবার জন্য উন্মুক্ত। এটা স্বতঃসিদ্ধ। সফ্টওয়্যার কিন্তু সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কারণ এটি কারো না কারো সৃজনশীলতার ফলে সৃষ্ট হয়। পৃথিবীতে যারা সফ্টওয়্যার উন্মুক্ত করে দেয়ার পক্ষপাতী তাদের পক্ষে যুক্তি আছে। কিন্তু সে যুক্তি মেনে নিলে লেখক, সাহিত্যিক, গানের শিল্পী, সুরকার কারোই কপিরাইট বা সৃজিত পণ্যের ওপর মালিকানা থাকা উচিত না। ভাষা উন্মুক্ত হলে গানও উন্মুক্ত, ছায়াছবিও উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। কারণ এরা সবাই ভাষা ব্যবহার করেই নিজেকে প্রকাশ করেন। তাই ভাষা হোক উন্মুক্ত এই কথাটিই ভুল। বলা যেতে পারে, সফ্টওয়্যার হোক উন্মুক্ত। মোস্তফা জব্বার বাংলা ভাষার কপিরাইট দাবি করেন নাই। তিনি দাবি করেছেন বিজয় সফ্টওয়্যার ও এর কী-বোর্ড লে আউট এর ওপর কপিরাইট। ভাষা হোক উন্মুক্ত বললে দরিদ্র বাঙালির আবেগ নিয়ে খেলা যায়। তাই এটাও অভ্র তৈরিকারীদের একটি কৌশল বলেই মনে হয়।

৩. মূল্য এবং বিনামূল্য, যেভাবেই কোনো বস্তু পাওয়া যাক না কেন দুটোই সেবা। হোটেল সেবা, মোটেল সেবা, সফ্টওয়্যারও সেবা। অভ্রকে তাই আলাদাভাবে সেবা আর বিজয়কে ব্যবসা বলাটাও ভুল। অভ্রর জনক মেহেদী হাসান খান বলেছেন বিনামূল্যে সেবা কেউ দিলে তাতে কারো বাধা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই মানবেন যে অন্য কারো বুদ্ধি ধার করে সেটা বিনামূল্যে দিয়ে দিলে তাতে বাধা দেয়া যেতে পারে।

৪. বিজয় কী-বোর্ডের লে আউটে কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু সারা পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় লে আউট এবং বাংলা ব্যবহারকারীরা এটাতে অভ্যস্ত হয়েছেন যেটা মোস্তফা জব্বার ও তার কর্মী দলের কৃতিত্ব। এখন সেই জনপ্রিয় লে আউটটির কয়েকটি কী বদলে একটু সুবিধা বাড়িয়ে বা কমিয়ে সেটিকে ফ্রি করে দেয়া কখনোই নতুন কোনো সৃজনশীলতা না। কেউ যদি কবি নজরুলের কবিতার মহাশ্মশান কে গোরস্তান বানিয়ে পুরো কবিতার মালিকানা দাবি করে তাহলে সেই দাবি কি গ্রহণযোগ্য? কারো যদি নতুন বাংলা ফন্ট বা ওয়ার্ড প্রসেসর তৈরি করতে ইচ্ছা করে তবে তিনি সেটি মৌলিকভাবে করলেই পারেন। মোস্তাফা জব্বার সবাইকে চা বানানো এবং খাওয়া শেখালেন নিজের অর্থ, শ্রম ও বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে, তাতে দু চামচ চিনি বেশি দিয়ে সেটা ফ্রি করে দিলাম। কারণ নতুনভাবে এটা তৈরি করলে নতুনভাবে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। এতে অভ্র তৈরি যারা করেছেন তাদের কৌশলটা টের পাওয়া যায়, বিজয়ের লে আউটের ঘাড়ে চড়ে নিজেদের জনপ্রিয় করার চেষ্টা।

৫. কোনো পণ্য দীর্ঘদিন বাজারে থাকলে এবং তার পাইরেটেড কপি বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায় এটা কি যুক্তিসঙ্গত কথা? জনস্বার্থে কেউ তার ব্যবসায়িক পণ্যের লে আউট উন্মুক্ত করে দেবে এটা তো মামার বাড়ির আবদার হয়ে গেল।

৬. ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে মোস্তাফা জব্বারকে কেউ বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এটা তিনি নিজে কোথাও দাবি করেছেন বলেও আমি জানি না। করে থাকলে এটা ঠিক হয় নি। কারণ এটা কোনো একজনের কাজ না, এটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল।

৭. মোস্তফা জব্বারের আক্ষেপ বা স্মৃতিচারণের বর্ণনা না দিয়ে প্রতিবেদকের উচিত ছিল তার সরাসরি মতামত নেয়া। বার বার লেখাটিতে মেহেদি হাসান খানকে অভ্রের জনক বলার মানেটা কি? তিনি কি নিজে একলা এটি ডেভেলপ করেছেন? আর তিনি যদি ওমিক্রনল্যাবের মালিক হয়ে থাকেন তাহলে এটা কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাকি কোনো চ্যারিটি? এই অভ্র সফ্টওয়ারটির কোথাও লেখা নেই যে এটি চিরকালের জন্য ফ্রি। লেখা আছে এটা ফ্রি ডাউনলোড করা যায়। কালকে এটা যে পণ্যে পরিণত হবে না এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা কোথাও নেই।

৮. অভ্রে রোমান হরফে এ এম আই টাইপ করলে সেটা আমি হিসেবে দেখানোর সুযোগ আছে। বিষয়টি ভয়াবহ। তরুণ সমাজ আর বানান শিখবে না। ভবিষ্যতে পেপারলেস সমাজে তাকে আর বাংলা বানান লেখা বা শেখার দরকার অনুভব করতে হবে না। আমাদের বর্ণমালা টিকে আছে তার ব্যবহারে, সেটা ভুলে গিয়ে তরুণ সমাজ বানান করবে টি ইউ এম আই, তুমি। এভাবে যদি বাংলা লেখা ঠিক হয় তাহলে একসময় বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারীরা আমাদের উর্দু হরফে বাংলা লিখতে বলেছিল আবার ইংরেজি হরফেও বাংলা লিখতে বলেছিল। তাদের ভূত দেখতে পাই আমি। কম্পিউটারে বাংলা বানান রীতি মনে রেখে কাউকে বানান করতে হবে না। ২৫ বছর পরে এর কি প্রভাব হবে সেটা কেউ ভেবেছেন?

৯. বিজয় এবং অভ্রের পার্থক্য বলতে গিয়ে কিছু অর্ধ সত্য এবং কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য লেখা হয়েছে। ইউনিজয় এবং বিজয়ে অন্তত একটি কি পজিশনে পার্থক্য আছে। এটা দিয়ে কখনো একে সম্পূর্ণ আলাদা বলা যাবে না। আর নামটি ইউনি অভ্র না রেখে ইউনিজয় রাখা হলো কেন?

১০. বিজয় উইন্ডোজ ৯৫, ৯৮ সাপোর্ট করে কারণ এটা অনেক আগে তৈরি। স্বাভাবিকভাবেই এটা অভ্রের সাপোর্ট করার কথা নয়। সমস্যা তো লে আউট নিয়ে। কে কোনটা সাপোর্ট করে সেটা তো সমস্যা নয়। কোডিং ধার করা হয়েছে কিনা সেটা বিজয় ও অভ্রের কোডিং পরীক্ষা করে বলা যাবে। তবে লে আউট এর মিল দেখে মনে হয় এখানে খানিকটা হলেও একই কোডিং থাকতেই হবে।

১১. ইউনিকোড পুরনো বিজয়ের ভার্সনে থাকবে না এটাও তো স্বাভাবিক। পুরনো টয়োটা গাড়িতে কি এখনকার মতো টিভি, ন্যাভিগেটর এসব ছিল?

১২. অভ্র ফন্ট পাইরেসি করে নাই এটা বলা যাবে যদি অভ্রের ফন্টগুলোর চেহারা বিজয়ের ফন্টগুলোর চাইতে একদম আলাদা হয়। যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা এটা ভালো বলবেন। ফন্ট কেবল কোডিং না, এটার চেহারাটাই আসল। ব্যবহারকারী ফন্টের কোডিং দেখেন না এর চেহারা দেখেন। ভিন্ন কোডিংএ একই চেহারার ফন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেটাও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন কারণ সেখানে ডিজাইন নকল করা হয়েছে।

১৩. আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ এগুলো মৌলিক পার্থক্য না। মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে দেখতে হবে, জে চাপলে ক হয় কিনা? কিংবা জি চাপ দিয়ে দিয়েই যুক্তাক্ষর বানাতে হয় কিনা?

১৪. অভ্রে ভুল তাড়াতাড়ি সংশোধন করা যায় এটা অবশ্যই একটি সুবিধা। কিন্তু এটা তো লে আউটের সঙ্গে সম্পর্কিত না।

১৫. এক বাটনে চাপ দিয়ে ফন্ট বদলানো এটা অনেক অনেক পেছনে পড়ে থাকার বিষয় না। যারা একসময় ওয়ার্ড স্টার আর ওয়ার্ড পারফেক্ট ব্যবহার করতেন তারা জানেন যে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে এমএস ওয়ার্ডের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এটা ব্যবহারকারীর অভ্যাসের বিষয়। বিজয়ের ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত বলেই বিজয় তার ফন্ট সিলেকশন ও স্টার্টিংয়ের ব্যাপারটি একই রেখে দিয়েছে।

১৬. অভ্রের লিনাক্স ভার্সন আছে কারণ এটি ফ্রি। বিজয় যেহেতু ব্যবসায়িক পণ্য তাই এটার লিনাক্স ভার্সন না থাকাটাই স্বাভাবিক।

১৭. অভ্র বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় আর বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এটা অবশ্যই পার্থক্য। যেমন সাপ্তাহিকে নেট ভার্সন ফ্রি কিন্তু আমি ছাপানো পত্রিকা টাকা দিয়ে কিনি। আামি কি এখন বলতে পারি যে ছাপানো সাপ্তাহিক বের করা যাবে না অথবা এটা ফ্রি করে দেয়া উচিত? প্রতিবেদক চাকরি না করে শুধু নেটে লেখালেখি করে ফ্রি সংবাদ দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো এতে? কিন্তু একদিন তিনি নিজেই সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতেন পেট চালাতে গিয়ে। এ কারণেই সফ্টওয়্যারও বিক্রি করতে হয় কাউকে কাউকে।

১৮. অভ্রতে নিজের কী-বোর্ড নিজে তৈরি করে নেয়া যায়। এটা যেমন সুবিধা তেমন অসুবিধাও। মনে করেন আপনি কারো বাংলা টাইপিং স্পীড পরীক্ষা করবেন। অথবা কাউকে টাইপ করার জন্য বা কম্পোজ করার জন্য চাকরি দেবেন। সবাই সঙ্গে যার যার একটা কী-বোর্ড লে আউট নিয়ে এলো। এটা পার্সোনাল ব্লগ লেখার জন্য ঠিক হতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিক না। কেননা এরপর সেই ডকুমেন্টটি এডিট করতে হলে সেই লোকটাকেই লাগবে আপনার। আপনার প্রতিষ্ঠানের একেকটি কম্পিউটারে থাকবে একেক লে আউটের কী-বোর্ড। সাপ্তাহিক-এর কর্তৃপক্ষ নিজে এটি তার অফিসে করতে রাজি হবেন?

১৯. অটো কারেক্ট ফিচারের সমস্যাটিও কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য না। অটো কারেক্ট অফ করে দিলে বিজয়ের অক্ষর বা শব্দ পাল্টে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

২০. মোস্তফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করাটা অন্যায়। একজন মানুষ ৩০ বছর একটি খাতে শ্রম দিলেন, দেশের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের বার বার নেতৃত্ব দিলেন, বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। এর সঙ্গে সুদে ধার দেয়া কাবুলিওয়ালার মিল কোথায়? তার নিজের ধারণাপ্রসূত সফ্টওয়্যারটির স্বত্ব নিজের কাছে থাকবে না এটা কি দাবি করা উচিত? তার মানে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা ফেসবুকের জুকারবার্গ সবাই তো কাবুলিওয়ালা। ফেসবুকের ভেতরে বিজ্ঞাপনের টাকা তো তাহলে জুকারবার্গের উচিত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা।

২১. ২০০৩ সালে ইউনিবিজয় তৈরি করেছেন যারা, তার অনেক আগে থেকেই মোস্তফা জব্বারের বিজয় লে আউট বাজারে ছিল। তাই মাত্র ৮টা কি অদল বদল করে ১০৫ টা কী-বোর্ডের একটি লে আউটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলাটা কতটুকু যৌক্তিক দাবি।

২২. একজন ব্যবসায়ী যদি মনে করেন কেউ তার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে তিনি তো তার প্রতিকার চাইতেই পারেন। এটা নিয়ে আইনসঙ্গত লড়াই না করে, পত্রপত্রিকা, নেট কিংবা ব্লগে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা, লোভী, কার্টুন ক্যারেকটার কিংবা তাকে নিয়ে অসম্মানজনক ছড়া কবিতা লেখা প্রকৃতপক্ষে অভদ্রতা ছাড়া আর কিছু না।

বাজারে ফ্রি থাকবে, পয়সা দিয়ে কেনার সফ্টওয়্যারও থাকবে। তবে একটি আরেকটির নকল হতে পারবে না। ভাষার স্বাধীনতার সঙ্গে একটি সফ্টওয়্যার এর বিক্রির কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি বাংলা লিখবেন, লেখেন। যেভাবে চান সেভাবে লেখেন। যা দিয়ে পারেন তাই দিয়ে লেখেন। তবে সেটা করতে গিয়ে আরেকজনের কলমের ডিজাইন বা কনসেপ্ট চুরি করে নিজে সেই একই ধরনের কলম বাজারে ফ্রি ছেড়ে দিলে সেটা কি ঠিক হবে? ওপেন সোর্স পণ্য অনেক আছে, কিন্তু সেগুলোর সমস্যাও আছে। তাই এখনো উইন্ডোজ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ জন্য বিল গেটসকে গালি দেয়া যেমন অন্যায়, জব্বার সাহেবকে কাবুলিওয়ালা বলাও একইরকম অন্যায়।

২৩. একটি দেশে জনপ্রিয় স্বদেশী সফ্টওয়্যার মাত্র একটি। তার নাম বিজয়। দেশে ভালো সফ্টওয়্যার প্রোগ্রামাররা থাকতে চান না কারণ এই দেশের চাইতে বিদেশে তাদের কাজের দাম বেশি। এই দেশে সফ্টওয়্যার শিল্প দাঁড়ায়নি ভালোভাবে তার কারণ আমরা সবাই পাইরেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে পছন্দ করি কারণ আসলের দাম অনেক বেশি। সবাই তাদের সব সফ্টওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে গেলেই যদি ফ্রি করে দিতে বাধ্য হন সেটা কি এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিকাশের জন্য সহায়ক হবে।

২৪. প্রতিবেদকের কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না। তবে তার উচিত ছিল এই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া। আর ধরা যাক তাকে কেউ বাজে কথা বলল। আমি কি সেটা এখানে উল্লেখ করে দেব? বার বার এই প্রতিবেদনটিতে মোস্তফা জব্বার সম্পর্কে কে কি বাজে কথা বলছে সেটি উল্লেখ করা কখনোই সৎ সাংবাদিকতা নয়। ভাষা উন্মুক্ত করার নামে জিহ্বা উন্মুক্ত করাটা ভদ্রতা নয়। কিছুদিন আগে ন্যাপস্টারের সঙ্গে লড়াই করেছে আমেরিকার গানের কোম্পানিগুলো। বিল গেটস এর সঙ্গে নেটস্কেপ এর লড়াই হয়েছে। এতে কি কেউ কাউকে গালাগাল দিয়েছে?

২৫. ভাষা উন্মুক্ত করার নামে সফটওয়্যার ফ্রি করে দিতে হবে এই দাবি করার আগে তাহলে দেশে সব কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত। কারণ কলম দিয়েও তো আমরা লিখি। ওটার জন্য পয়সা নেয়াও তাহলে অন্যায়। ভাষা তাহলে বন্দি হয়ে গেল কলম বিক্রেতার কাছে?

আশা করছি আদালতে দেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী বিজয় ও অভ্রের এই দ্বন্দ্ব মিটবে। পত্রিকাতে যারা লিখবেন তারা যুক্তি দিয়ে লিখবেন এবং গালাগাল করে দামি নিউজপ্রিন্ট এবং ব্যান্ডউইথ খরচ করবেন না।

tushar@gatimedia.com

Advertisements
%d bloggers like this: