অভ্র-বিজয় বিতর্কে আব্দুন নূর তুষারের অসার বক্তব্য – এস এম মাহবুব মুর্শেদ

2010/05/24 at 12:04 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

লেখকঃ এস এম মাহবুব মুর্শেদ

সাইটের প্রকৃতিঃ সচলায়তন কমিউনিটি

সময়ঃ (তারিখ: বুধ, ২০১০-০৫-১৯ ০৭:০৬)

লিংকঃ

জনাব আব্দুন নূর তুষার অতি সম্প্রতি সাপ্তাহিক নামক পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। প্রতিবেদনটি আনিস রায়হানের লেখা আরেকটি আর্টিকেলের সমালোচনা।

প্রতিবেদন দুটির লিংক আমি লেখার শেষে দিচ্ছি। উল্লেখ্য যে সাপ্তাহিকের লিংকটিতে একটি ম্যালওয়ার ইনস্টল করতে চায় কম্পিউটারে। তাই সাপ্তাহিকের লিংকটি না খোলার উপদেশ থাকল। পাঠকের সুবিধার্থে রায়হানের মূল লেখাটি এবং তুষারের প্রতিবাদের একটি কপিও নিচে দেয়া হল।

আরও জানতে পারলাম জব্বার সাহেব এই লেখাটি ঘষামাজা করে বিচিত্রায় ছাপার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বোঝাই যায় লেখকের সাথে জব্বার সাহেবের দহরম মহরম কীরকম এবং কেন লেখাটি পক্ষপাতদুষ্ট।

দুই খন্ডে প্রকাশিত এই লেখায় আমি তুষারের লেখাটির পয়েন্ট বাই পয়েন্ট যুক্তি খণ্ডন করব। এখানে আপাতত আমার অবস্থান পুরোপুরি ব্যাখ্যা করবনা। আমার উদ্দেশ্য আব্দুন নূর তুষারের এই গরু-রচনাবৎ লেখাটির অসারতা তুলে ধরা।

‘গরু রচনা’ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি মুখস্থ/শেখানো বিদ্যাকে যে কোনো সুযোগে ব্যবহার করার অপচেষ্টার কথা। এটি একটি কৌতুক থেকে এসেছে। এক ছেলে গরু রচনা মুখস্থ করে গেছে পরীক্ষা দিতে। কিন্তু পরীক্ষায় এসেছে নদী রচনা। ছেলেটি কোনোভাবে নদীতে গরুকে পানি খাইতে নিয়েছে রচনায়। তারপর বাকি পৃষ্ঠা ভরেছে গরু রচনা লিখে। আমার কাছে তুষারের যুক্তি প্রদর্শন এই রকমই মনে হয়েছে। আগে থেকেই তিনি বায়াসড ছিলেন। তাই যুক্তি নামের কুযুক্তি ব্যবহার করে দাঁড় করাতে চেয়েছেন তার বক্তব্য।

ব্যক্তি আক্রমণ নিয়ে একটি নোট
ব্যক্তি আক্রমণ হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যেখান একটি বিষয়ে তর্কের সময় একজন ব্যক্তির ধর্ম, বর্ণ, কিংবা তার অন্যান্য অসর্ম্পকিত কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিকে খাটো করা কিংবা বিষয় থেকে সরে যাবার চেষ্টা করা হয়। এই রূপে বিষয়টিতে জিতে যাবার একটা প্রচেষ্টা থাকে।

আমার এই বিশ্লষণে আমি সচেতনভাবে এই ব্যক্তি আক্রমণ এড়ানোর চেষ্টা করেছি। ব্যক্তি আব্দুন নূর তুষার সম্মানিত ব্যক্তিত্ব এবং কলামিস্ট। তার সাথে আমার শত্রুতা নেই এবং সেটা শুরুও করতে চাই না। কিন্তু এমন একটি বিষয়ে তিনি এহেন একটা আর্টিকেল লিখেছেন যে আমি তার যুক্তি গুলো খণ্ডাতে বাধ্য হচ্ছি।

প্রসঙ্গতঃ কিছু মন্তব্য চলে এসেছে এই বিষয়টিতে তার জ্ঞানের অসারতা লক্ষ্য করে। কিন্তু সেটা মোটেই তাকে মানুষ হিসেবে খাটো করবার জন্য নয়, কিংবা তাকে অপমান করে জিতে যাবার চেষ্টা করার জন্য নয়। আমার আলোচনার গণ্ডি শুধুমাত্র তার এই আর্টিকেলটাই। আশা করি তার্কিক আব্দুন নূর তুষার তর্কটাকে তর্ক হিসেবেই নিবেন। তবুও তিনি আহত হলে আমি শুরুতেই তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

বিশ্লেষণ

১।

প্রথমে আব্দুন নূর তুষার রায়হানের স্ট্যাটিসটিকস তুলাধুনা করেছেন। কিন্তু তুষার কি অবগত আছেন যে মুস্তাফা জব্বার বিবিসিকে বলেছেন যে, ‘বর্তমানে কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ বিজয় দিয়েই কাজ করছেন’? তুষার কি আদৌ জানেন, শতকরা ৯৯ শতাংশের কৃতিত্বের দাবি করতে কত শক্ত পরিসংখ্যানগত ভিত্তি এবং উপাত্ত থাকা প্রয়োজন?

পাঠকের গোচরে আনার জন্য বলি, শতকরা ৯৯ মানে একটি ঘরে যদি দশজন বাংলায় কম্পিউটার ব্যবহার করে তাহলে জব্বার সাহেবের দাবি অনুযায়ী তাদের দশজনকে (আরো সঠিকভাবে ৯.৯ জন) ই বিজয় ব্যবহার করে। চট করে একটা টেস্ট করা যায়। আপনার পাঁচজন বন্ধু, যারা বাংলায় লেখে, তাদের জিজ্ঞেস করুন তারা বিজয় ব্যবহার করে কি না। যদি একজনও বিজয় না ব্যবহার করে তাহলে জব্বার সাহেবের এই দাবি ভুল। কিন্তু তুষারকে এই যুক্তি বোঝাবে কে?

তুষার সাহেব রায়হানের তথ্য থেকে বের করলেন, ৬০% (বাংলা) × ১৫% (ইন্টারনেট) × ২০% (ইন্টারনেটে বাংলা) = ১.৮%। কিন্তু রায়হান যে এই হিসেবে বিরাট একটা ভুল করেছেন সেটা লক্ষ্য করলেন না। রায়হান বাংলা ব্যবহারকারীদের দুবার অর্ন্তভুক্ত করেছেন। সুতরাং সূত্রটা হবে ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহারকারী = X (বাংলা ব্যবহারকারী)% × Y (বাংলায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী)%। এই হিসেবে শতকরা হিসাবটি আরো বড় আসা উচিত।

যদি এই ভুল হিসাবটাই ধরি, শুধুমাত্র ১.৮% লোকই অভ্র ব্যবহার করে; তাহলেও জব্বার সাহেবে হিসেবের ৯৯% লোক বিজয় ব্যবহার করেন না। গুরুর এহেন ম্যানিপুলেশনের জবাবে এখন কী বলবেন তুষার সাহেব?

উপরন্তু কিন্তু রায়হান কোথাও দাবি করেন নাই বিজয় কতখানি ব্যবহার করে। তুষার কেন রায়হানের মুখের উপর কথা বসিয়ে দিতে চাইলেন বোধগম্য হলো না।

২।

আমি জানতাম তুষার বির্তক করেন। অভ্রের শ্লোগান কেন আপনার গাত্রদাহের কারণ হল বুঝলাম না। বিতার্কিকরা মূল প্রসঙ্গে যুক্তি না পেলে সম্ভবত এই “রেড হেরিং” উপস্থাপন করতে শেখেন। অভ্রের শ্লোগানটিকে অভ্রের কৌশল মনে হয়? নাকি একটি সৎ আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ?

৩।

সফটওয়্যার সেবা আর সফটওয়্যার পণ্যের মধ্যে পার্থক্য আছে। বিজয় পণ্যটি পয়সার বিনিময়ে দেয়া হয়। সঙ্গে হয়ত কর্পোরেটদেরকে সেবাও বিক্রয় করা হয়। কিন্তু অভ্রে সফটওয়্যারটি এবং সেবা (ওমিক্রনল্যাব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে) দুটোই বিনামূল্যে দেয়া হয়। অর্থাৎ বিজয় পণ্য এবং সেবা দুটোই বিক্রয় করছে, অভ্র দুটোই ফ্রি দিচ্ছে। তাই আপনার আর্গুমেন্ট ভিত্তিহীন।

অভ্র কোনোভাবেই কারো বুদ্ধি ধার করেনি। এই কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবে। তুষার সাহেব বুঝতে পারেননি। যদিও মেহদী হাসান খান একজন চিকিৎসক, কিন্তু সব চিকিৎসকই প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখেন না, অন্তত ‘একজন চিকিৎসক’ এ ব্যাপারে চরম মূর্খতার পরিচয়ও দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের আলোচ্য তুষার। আফসোস, তিনিও কলম ধরেছেন এই বিষয়ে!

৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

সারা পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় লেআউট

মাই গুডনেস! চোখে কী আপনার ঠুলি পরা নাকি? বিজয় নাকি সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেআউট!!! চাটুকার কি গাছে ধরে?

আব্দুন নূর তুষার wrote:

এখন সেই জনপ্রিয় লে আউটটির কয়েকটি কী বদলে একটু সুবিধা বাড়িয়ে বা কমিয়ে সেটিকে ফ্রি করে দেয়া কখনোই নতুন কোনো সৃজনশীলতা না।

আপনি ওপেন অফিসের নাম শুনেছেন? কিংবা গিম্প? সম্ভবতঃ না। ওপেন অফিস, মাইক্রোসফট অফিসের একটি ফ্রি অল্টারনেটিভ। আর গিম্প হল অ্যাডোবি ফটোশপের ফ্রি অল্টারনেটিভ। এখন ফ্রি সফটওয়্যারের জন্য মাইক্রোসফটের বা অ্যাডোবির ব্যবসা কি শেষ হয়ে গেছে? হয়ে যায়নি। কেননা তার প্রতিযোগিতায় এইসব ফ্রি সফটওয়্যারের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। প্রতিযোগীতার বাজারে এইটাই সুবিধা – টেকনলজি এগিয়ে যায়। সুবিধা ভোগ করে উভয়পক্ষই। অপরপক্ষে গত বিশ বছরে কিছু চাটুকার, সুবিধাভোগী হায়েনার সহায়তায় বিজয় বাজার দখল করে আছে একই জায়গায়। নিজেও আগেও বাড়েনি কাউকে আগে বাড়তেও দেয়নি। নতুন কোনো টেকনলজি বাজারে আনেনি, কাউকে আনতেও দেয়নি।

আপনার কি ধারণা অভ্র তৈরি করতে শ্রম দিতে হয় নাই? নাকি আপনিও মনে করেন যে অভ্র বিজয়ের কোনো কম্পিউটার থেকে পাইরেট করে তৈরি করে দিয়েছেন। সফটওয়্যার তৈরির শ্রম বুঝবেন কীভাবে? সফটওয়্যার তৈরি করে দেখেছেন কখনও? প্রক্রিয়াটা সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে? অভ্র কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তৈরি, আর বিজয় কোনটি দিয়ে তৈরি, বলতে পারবেন তুষার?

৫।

কোনো পণ্য দীর্ঘদিন বাজারে থাকলে এবং তার পাইরেটেড কপি বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায় না। কিন্তু এটাকে বাজার দখলের নীরব পদ্ধতি হিসেবে লক্ষ্য করা যায়। অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কথা জানেন নাকি তুষার সাহেব?

পিসি উত্তরণের সাথে সাথে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের মাধ্যমে এক চেটিয়া বাজার দখল করে। তখন থেকে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের সাথে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার সরবরাহ করতে শুরু করে। শর্ট টার্মে এতে মাইক্রসফটের ক্ষতি। কিন্তু লং টার্মে এটা একটা বিরাট জনগোষ্ঠীকে বাধ্য করবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করতে। সেইসাথে পুরো ইন্ডাস্ট্রি তাদের ইন্টারনেটভিত্তিক প্রোডাক্ট বানাবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জন্য। অর্থাৎ মাইক্রোসফট থেকে মুক্তি নেই।

এর ফলাফল হল বাজারে অন্যান্য প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা না পাওয়া। অন্য প্রোডাক্ট দাঁড়াতে না পারা। বিজয় এই দোষে দুষ্ট। এই কারণেই বাজারে দ্বিতীয় কোনো বাংলা প্রোডাক্ট দাঁড়াতে পারছে না। এটা বিজয়ে কৃতিত্ব নয়, এটা বিজয়ের কুচক্র।

সমস্যাটির ব্যপ্তিটি ছবিতে দেখুন। বাংলাদেশের সরকারি ফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে বিজয় দিয়ে যেন ফর্ম পূরণ করা হয়। বাংলা লেখার বাজার বিজয়ের এমনই দখলে যে, সরকার পর্যন্ত বিনামূল্যে বিজয়ের বিজ্ঞাপন করছে। কারণ অল্টারনেট সমস্ত প্রচেষ্টাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আর এই খুনের রক্ত জব্বার সাহেবের সাথে তুষারের হাতেও লেগে আছে।

সরকারি চিঠিতে বিজয় ব্যবহারের নির্দেশসরকারি চিঠিতে বিজয় ব্যবহারের নির্দেশ

কিন্তু আফসোসের ব্যাপার হল বাংলাদেশে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন নাই। তাই বিজয় আস্ফালন ঠেকানোর কোনো উপায় নাই।

৬।

যাক একটা বিষয় ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। একটা লিংক দেই এটা শুনুন: http://www.bbc.co.uk/bengali/in_depth/2010/03/100311_sma_big_interview_jabbar.shtml। তাছাড়া মুস্তাফা জব্বারের ব্যক্তিগত পেইজে কিছু আর্টিকেল আছে ওইগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

৭।

অভ্র সর্ম্পকে কিছু লেখার আগে আপনারও উচিত ছিলো ভালো করে জেনে নেয়া। অভ্র ডেভলপ করেছে মেহদী হাসান খান। তার সাথে অন্যান্য কয়েকজন আছেন, যাদের নাম আমি এখানে উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। অভ্র সফটওয়্যারটিতে লেখা আছে যে এটি ফ্রি। চিরকালের প্রশ্নটি কেন আসছে বুঝছি না – সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ফ্রি বললে সেটা চিরদিনের জন্যই বুঝায়। কালকে যদি অভ্র বা অভ্র ক্লোন ফ্রি না হয় তাহলেও অভ্রর বর্তমান ভার্সন ফ্রি থাকবে। আপনার দ্বিমত থাকলে সফটওয়্যার লাইসেন্সের আইনি রেফারেন্স দেখতে পারেন (এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী দাবি করবেন)।

বাই দ্যা ওয়ে, আপনার কিন্তু অভ্র বিষয়ে লেখার আগে অভ্রের ডেভলপারের সাথে কথা বলে নেয়া দরকার ছিলো।

৮।

ফোনেটিকে বাংলা লিখলে মানুষ বাংলা ভুলে যাবে?????

প্রথমতঃ অভ্র ফোনেটিক মানুষকে বাংলা ভোলানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাংলা লেআউটকে সহজ করার উদ্দেশ্যে। এ-এম-আই লিখলে ‘আমি’ তৈরি হয় কিন্তু ‘এ-এম-শিফট-আই’ কিংবা অন্য কোন কম্বিনেশনে লিখলে ‘আমী’ হয়। অর্থাৎ বানানটি কিভাবে লেখা হচ্ছে তার সাথে বানান জানার বিষয়টি সর্ম্পকযুক্ত নয়। ‘আমি’ লিখতে হলে ‘আমি’ বানানটাই জানা চাই। অর্থাৎ বানান না জানা থাকলে ফোনেটিকও যা, বিজয়ও তাই।

অভ্র বা বিজয় “কীভাবে” লেখা হবে তার সমাধান দেয়। কিন্তু অভ্র বা বিজয় দিয়ে “কী” লেখা হবে তার দায় বা কৃতিত্ব অভ্র বা বিজয় কোনোটাই দাবি করতে পারে না? অভ্র বা বিজয় দিয়ে লিখে যদি কেউ নোবেল পুরস্কার পায় তাহলে কী এই সফটওয়্যারের কোনোটি তার ভাগ দাবি করতে পারবে? তাহলে ভুল বানানের দায়ই এদের কোনটা বা নেবে কেন?

বরং এই ফোনেটিক বিষয় অত্যন্ত এমপাওয়ারিং। যে কেউ যে কোনো কম্পিউটারে বাংলা টাইপিং না শিখেই বাংলা লেখা শুরু করতে পারবে। এটা কম্পিউটারে বাংলা ভাষার ব্যবহারকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

বিদেশে জন্ম হওয়া বড় হওয়া বাচ্চাদের কথা ভাবুন। শুধুমাত্র ফোনেটিক আছে বলেই অন্তঃত এরা বাংলা লেখার কথা ভাবতে সাহস করবে। এই ফোনেটিক টেকনোলজীটা যে কতবড় একটা রেভোল্যুশন তা বলে বোঝানো যাবে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ফোনেটিক বাংলা প্রথম ১৯৯৯ সালে আবিষ্কার (উন্মোচন অর্থে) করে ন্যাচারাল বাংলা। পরে স্বতন্ত্রভাবে ২০০২ এ শাব্দিক এবং ২০০৩ এ অভ্র এটি উদ্ভাবন করে। শাব্দিক টিম গবেষণা করে এও দেখিয়েছে যে ফোনেটিক টাইপিংয়ে প্রথাগত টাইপিংয়ের সমমানের গতি আনা সম্ভব। এই পেপারটি আইত্রিপলীতে প্রকাশিত। বিজয়ের পা চাটতে গিয়ে আপনি তিনটি সফটওয়্যার এবং আইত্রিপলীতে প্রকাশিত একটি পেপারকে শুণ্যমানের বলেছেন। কীসের ভিত্তিতে তুষার সাহেব?

৯।

বিভ্রান্তিমূলক প্রচারনা তো করছেন আপনি। জব্বার সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন ৬টি কী তে পার্থক্য আছে (অর্ধসত্য)। মেহদী দেখিয়েছে ৮ টি কীতে পার্থক্য আছে। আর আপনি বলছেন একটি!!! গুনতে শিখবেন কবে?

১০।

মূল লেখার কিছু ইন্ডিকেট করছেন হয়ত। অপ্রাসঙ্গিক বিধায় আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছি না।

১১।

বোঝা গেল না এই পয়েন্টটি যুক্তি নাকি পাগলের প্রলাপ।

১২।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা এটা ভালো বলবেন।

আপনি অভ্র ব্যবহার না করেই কথা বলছেন? বিজয় ব্যবহার করেন বুঝি? এতো বিবিসির মতো হয়ে গেল – নিজেদের ওয়েবসাইট বিজয় দিয়ে বানিয়ে বিজয়ের গুণগান করা। “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” কথাটি শুনেছেন?

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি আমি বিজয় কিংবা অভ্র কোনোটাই ব্যবহার করিনা। আমি আমার নিজের তৈরি করা সফটওয়্যারে প্রভাত লেআউট ব্যবহার করি। তবে দুটিই দীর্ঘ সময় নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ফন্ট কেবল কোডিং না, এটার চেহারাটাই আসল।

বলেছেন মহামতি আব্দুন নূর তুষার! আপনার এই দাবিটির পিছনে আপনার কত দিনের ফন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা কাজ করছে? ফন্টের কোনো অংশটি আসল দাবি করার আগে ফন্ট তৈরির একটা অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি না? আমার তো তা-ই মনে হয়।

আপনার যুক্তিতে তো তাহলে জমজ ভাই বোন বা ক্লোনিং করা শিশুরা সব পাইরেটেড! বাই দ্যা ওয়ে সফটওয়্যার পাইরেসির সংজ্ঞা জানেন তো?

উপরন্তু ফন্ট নিয়ে এই আলোচনাও হয় “রেড হেরিং“এর অথবা জ্ঞানের অগভীরতার আরেকটি উদাহরণ। ফন্ট টেকনলজির সাথে অভ্রর কোনো সরাসরি সর্ম্পক নেই। ইউনিকোড টেকনলজিতে তৈরি অভ্র ফন্টের উপর নির্ভর করে না। আবার বলি, ইউনিকোড টেকনলজিতে তৈরি কোনো সফটওয়্যার ফন্টের উপর নির্ভর করে না। এটাই ইউনিকোড টেকনলজির বৈশিষ্ট্য। তাই উপরের সরকারি চিঠির মত কোনো নির্দিষ্ট ফন্টের কথা উল্লেখ করতে হয়না। ইউনিকোডে লেখা যেমন অমিক্রন ল্যাবের যে কোনো ফন্টে পড়া যাবে, তেমনি একুশ.অর্গের ফন্টে পড়া যাবে; পড়া যাবে মাইক্রোসফটের ভ্রিন্দায়। বিজয়ের সাথে অভ্র এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ভিন্ন কোডিংএ একই চেহারার ফন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেটাও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন কারণ সেখানে ডিজাইন নকল করা হয়েছে।

পাইরেসি বা কপিরাইট এই বিষয়ের কিছুই যে জানেন না সেটা আপনার এই লাইনটি পরিষ্কার করে দিল। তুষার সাহেব, কোনো বিষয় নিতে জানতে সেটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করে নিতে হয়। নাহলে এইরকম পাগলের প্রলাপ লেখার ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

১৩।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ এগুলো মৌলিক পার্থক্য না।

এটার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে কে? বিশেষজ্ঞ তুষার সাহেব?

ইউনিকোড এবং সর্টিং পদ্ধতির একটা ধারণা দেই। তাহলে হয়ত আকার একার আগে পরে করার কারণ বুঝতে পারবেন। অন্ধ হলে সবকিছু চোখে পড়ে না।

বাংলা সর্ট অর্ডার এইরকম হওয়া উচিত যেন – ব্যঞ্জনবর্ণ অনুযায়ী শব্দগুলো আগে আসে। যদি দুটি শব্দের প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণটি একই হয় তাহলে যুক্তাক্ষরের ক্ষেত্রে তুলনা করা হবে সঙ্গের ব্যঞ্জনবর্ণটিকে। তৃতীয় তুলনায় আসবে সঙ্গের স্বরবর্ণটি। এরপরে, শুধুমাত্র এরপরেই আসবে দ্বিতীয় অক্ষর তুলনার ব্যাপারটি।

প্রতিটি বাংলা যৌগিক বর্ণ তুলনার গ্রামারটি নিম্নাকারে উপস্থাপন করা যেতে পারে:

[ব্যাঞ্জনবর্ণ+ব্যাঞ্জনবর্ণ+…][স্বরবর্ণ]

ঠিক এইকারণেই, ঠিক এইভাবেই ইউনিকোডে অক্ষর গুলো সংরক্ষণ করা হয়। এতে করে স্বরবর্ণ অক্ষরের পূর্বে বসে সর্ট অর্ডার ভন্ডুল না করে।

সুতরাং ইউনিকোড অনুযায়ী: “ক্ষরা, কিরে, কাক, খাওয়া, কিসে” শব্দগুলো সর্ট হবে (আপাত তুলনায় ম্যানুয়ালী সর্ট করা):

কাক (কা এর আকার)
কিরে (কি এর হ্রস্ব-ই-কার)
কিসে (দন্ত স)
ক্ষরা (ক-হসন্ত-ষ)
খাওয়া (খ)

এখানে স্বীকার করছি যে, বাংলা সর্টিং নিয়ে আমার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। বিষয়টি জটিল। এমনকি এব্যাপারে একটি পেপারও প্রকাশিত হয়েছে আইত্রিপলীতে। যতদূর জানি অংকুর এ বিষয়ে কাজ করছিল।

মোদ্দকাথা, ইউনিকোড বাংলা সর্টিংয়ের সমস্যা বর্ণবিন্যাসের মাধ্যমে আংশিক ভাবে সমাধান করে। বাকীটুকু সমাধানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থা কাজ করছে। বিজয় কিন্তু সর্টিং নিয়ে আমার জানামতে কোন কাজ করেনি। সর্টিং এবং সার্চিং কম্পিউটারের এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে বিজয় দিয়ে ডাটাবেইজ জাতীয় অ্যাপ্লিকেশনে কাজ করা যাবে না (বা গেলেও শ্রমসাধ্য হবে)।

তাই টেকান্ধ চোখে মনে হতে পারে যে স্বরবর্ণ আগে বা পরে বসে, এটা এমন বড় কী বিষয়? কিন্তু বিষয়টি ক্ষুদ্র হলেও এর পিছনে একটি অত্যন্ত শক্ত এবং গভীর বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। আর এটি অভ্রেরও আবিষ্কার নয়, ইউনিকোড কনসোর্শিয়াম এটি প্রণয়ন করেছে।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে দেখতে হবে, জে চাপলে ক হয় কিনা? কিংবা জি চাপ দিয়ে দিয়েই যুক্তাক্ষর বানাতে হয় কিনা?

দুটি কিবোর্ডে আশিংক মিল থাকলেই তাদের মৌলিকভাবে একই কিবোর্ড দাবী করা যায় না। এবিষয়ে QWERTY কিবোর্ডের ভ্যারিয়েশন নিয়ে তৈরী কিবোর্ড প্যাটেন্টের ঘটনাটি স্মর্তব্য। বিস্তারিত পাবেন এই লিংকে

তাছাড়া আপাত দৃষ্টিতে ৮ টি বোতামের পার্থক্য দেখা গেলেও “আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ” এসব মৌলিক পার্থক্য ধরলে অভ্র এবং বিজয়ের পার্থক্য শুধুমাত্র ৮ টি বোতামেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো ব্যাপরটি মিলিয়ে পার্থক্য গুলো দুটো কিবোর্ডকে একেবার ভিন্ন ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিণত করে। উপরন্তু অভ্যন্তরীণ টেকনোলজিও একেবারে ভিন্ন।

আবারও এই মন্তব্য এই বিষয়ে আপনার জ্ঞানের ঘাটতিই প্রমাণ করল!

১৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্রে ভুল তাড়াতাড়ি সংশোধন করা যায় এটা অবশ্যই একটি সুবিধা। কিন্তু এটা তো লে আউটের সঙ্গে সম্পর্কিত না।

সঠিক। রায়হান ভুল প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন হয়ত। আপনার সাথে আমি একমত।

কিন্তু এটাসহ আরও অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি ফিচারই আসলে অভ্রকে জনপ্রিয় করেছে। বিজয় কিবোর্ডের সাথে আপাত মিল এর জনপ্রিয়তার কারণ নয়।

সফটওয়্যারের সাফল্য অনেকে বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে কতগুলো মুখ্য উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার এমন একটি পণ্য যা ক্রমাগত বিবর্তনের ভেতর দিয়ে যায়। ইউজারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত ঘষে মেজে উন্নততর করতে হয়। ছোটখাটো সমস্যা সারাতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন তৈরী করে দিতে হয়। নন-ফ্রি সফটওয়্যার বিক্রির জন্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে হয়। সেটা ব্যবহারে ঝামেলা হলে পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। এত বিশাল একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আসে সফটওয়্যারের সাফল্য।

শুধুমাত্র বিজয় লেআউটের সাথে অভ্রর একটি লেআউটের আপাত আংশিক মিল আছে বলেই অভ্র এতগুলো মানুষের হৃদয় জয় করেনি। এই কলেজ পড়ুয়া ছেলেগুলো মানুষের হৃদয় জয় করেছে অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া সফটওয়্যারের কোয়ালিটি, সার্ভিস এবং তাদের মেধা দিয়ে।

১৫।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

বিজয়ের ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত বলেই বিজয় তার ফন্ট সিলেকশন ও স্টার্টিংয়ের ব্যাপারটি একই রেখে দিয়েছে।

আমি আপনার সাথে একমত নই। ফন্ট হল আসকি ভিত্তিতে গড়া বিজয়ের টেকনোলজির অন্যতম একটি অংশ। ফন্ট বদলালে লেখা ভেঙে যাবে। তাই বিজয়ে ফন্ট পরিবর্তনের জটিলতা দূর হবে না।

কিন্তু অভ্র ইউনিকোড ভিত্তিতে গড়া বলে ফন্টের উপর লেখা নির্ভর করে না। যেকোন ইউনিকোড ফন্টে লেখা একই থাকবে।

ঠিক এই কারনে বিজয় দিয়ে লেখা ডকুমেন্ট আপনি অন্য কম্পিউটারে কিংবা অন্য প্রোগ্রামে খুলতে পারবেন না। বিজয়ের ফন্টগুলোও এক ভার্সন আরেক ভার্সনের সাথে মেলে না। যেমন বিজয় ২০০০ এর সাথে পাওয়া ফন্ট ব্যবহার করে লেখা ডকুমেন্ট পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ভার্সনে পাওয়া ফন্টে ভিন্ন চেহারা নিতে পারে। ইউনিকোডে এই সমস্যা নেই।

১৬।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্রের লিনাক্স ভার্সন আছে কারণ এটি ফ্রি। বিজয় যেহেতু ব্যবসায়িক পণ্য তাই এটার লিনাক্স ভার্সন না থাকাটাই স্বাভাবিক।

হা হা হা… অনেক দিন এরকম মজার কোন কথা শুনিনা!

লিনাক্সের জন্য সফটওয়্যার বানালেই সেটা ব্যবসায়িক পণ্য হবে না সেটা একদম ভুল। আজকাল একটা বাচ্চা ছেলেও মনে হয় এটা জানে। আমি যে সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকুরী করি তাদেরও একটা পণ্য আছে লিনাক্সের জন্য – ফ্রি তো নয় মোটেও। আজই আমি লিনাক্সের জন্য আমাদের প্রোডাক্টের একটা মডিউল বানাচ্ছিলাম।

লিনাক্সের জন্য ব্যবসায়িক পণ্যের উদাহরণ দেই কিছু। যেকোন ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার (ইউনিগ্রাফিক্স, প্রো-ই, অ্যানসিস) লিনাক্স ভার্সন বিক্রি হয়। তাছাড়া অ্যাডোবী কিছু প্রডাক্ট যেমন অ্যাডোবী রিডার, ফ্লেক্স বিল্ডার, বোরল্যান্ডের ডেভলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ইত্যাদি প্রচুর প্রোডাক্ট লিনাক্সের জন্য হলেও পয়সা দিতে কিনতে হয়। এমনকি রেডহ্যাট এন্টারপ্রাইজ এবং সুস লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমও কিন্তু বিক্রি হয়। আসলে উইন্ডোজের মত সুবিশাল সফটওয়্যার লাইব্রেরী না থাকলেও লিনাক্সের জন্য অনেকর কমার্শিয়াল ভেন্ডর আছে। একটা কষ্ট করে গুগল করলেই জানতে পারবেন।

বিজয় লিনাক্সের জন্য তৈরী করা হয়নি কারণ বাংলাদেশে লিনাক্সের বাজার ছোট। লিনাক্সের জন্য ডেভলপ করলে কোন মুনাফার সুযোগ নেই। বাঙালি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করুক তাতে মুস্তাফা জব্বারের কী? তার তৈরি সফটওয়্যার কিনলেই হল। একেবার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।

এহেন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি লিনাক্স ভার্সন বের করে তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধের একটা সুযোগ তৈরী করতে পারতেন। তিনি তা করেননি। বৈশাখী টিভিতে বড় বড় কথা বলার সময় কিন্তু ঠিকই বলেছেন।

একটা প্রকাশনা সংস্থার কথা চিন্তা করুন। তারা বিজয় কিনেই ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু যেহেতু বিজয় লিনাক্সের জন্য পাওয়া যায় না তাই তারা বাধ্য হয়ে পাইরেটেড উইন্ডোজের সাথে বিজয় ব্যবহার করতে শুরু করে। ইটস অল অ্যাবাউট চয়েস, এবং বিজয় সেই চয়েসটা রাখে নি।

অভ্র কিন্তু ব্যবসার কথা চিন্তা করেনি। লিনাক্সে ডেভলপমেন্ট কিন্তু ছেলেমানুষী কথা না। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, প্রায় পাঁচগুণ বেশী কাজ করতে হয় ডেভলপ করতে গিয়ে। তবু এই সোনার ছেলেরা সেটা করেছে। কারণ তারা সফটওয়্যারের মুক্তি চায়, মুনাফা নয়।

১৭।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্র বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় আর বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এটা অবশ্যই পার্থক্য।

একমত।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

যেমন সাপ্তাহিকে নেট ভার্সন ফ্রি কিন্তু আমি ছাপানো পত্রিকা টাকা দিয়ে কিনি। আমি কি এখন বলতে পারি যে ছাপানো সাপ্তাহিক বের করা যাবে না অথবা এটা ফ্রি করে দেয়া উচিত? প্রতিবেদক চাকরি না করে শুধু নেটে লেখালেখি করে ফ্রি সংবাদ দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো এতে? কিন্তু একদিন তিনি নিজেই সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতেন পেট চালাতে গিয়ে। এ কারণেই সফ্টওয়্যারও বিক্রি করতে হয় কাউকে কাউকে।

সফটওয়্যার পত্রিকা নয়। সফটওয়্যারের সাথে ম্যানুফ্যাকচার করা পণ্যের সরাসরি তুলনা চলে না। এই যে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ ফ্রি জিমেইল ব্যবহার করছে, ফেইসবুক ব্যবহার করছে পয়সাটা কোথা থেকে আসছে? কিংবা ওপেন অফিস, গিম্প, উবুন্তু ওএস এইগুলো যে ফ্রি ব্যবহার করছে মানুষ সেগুলোর রেভিনিউ সোর্স কী?

আপনাকে উপদেশ দিব কিছু বই পড়াশোনা করতে। ক্যাথিড্রাল এন্ড দ্যা বাজার বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। তাছাড়া ওপেন সোর্স মডেলে কীভাবে আয় করা যায় সেটাও গুগল করে কিছু আর্টিকেল পড়ে দেখতে পারেন।

তাছাড়া বিজয়ের খরচ কতটুকু? বিশ বছরে নতুন কোন ডেভলপমেন্ট তো দেখি নাই। আমি একলাই (অরূপ কামালের প্রাথমিক সাহায্যের পর) অনলাইন কিবোর্ড ইনপুট সেস্টেম তৈরী করেছি একমাসে। অভ্র মেহেদী একলাই বানিয়েছে। একই ভাবে ন্যাচারাল বাংলা, হাসিন হায়দারের উদাহরণ দেয়া যায়। অর্থাৎ বিজয় বানাতে একজন প্রোগ্রামার অ্যাপয়েন্ট করলেই চলে।

তবু ধরি, দুজন প্রোগ্রামার আর দুজন টেস্টার দিয়ে বছর বছর বিজয় ডেভলপ করা হয়। এতে কেমন খরচ হতে পারে? আসুন একটা সহজ এবং রাফ হিসাব করি।

ধরি, দুজন প্রোগ্রামার বিশ হাজার করে এবং টেস্টার পনের হাজার করে বেতন নেন। আর মোস্তফা জব্বার নেন মাসে একলাখ। ধরি আরও গোটা পাঁচেক কর্মচারী আছে যাদের বেতন গড়ে ধরি দশ হাজার করে মাসে। বছরে তাহলে খরচ মাসে কর্মচারীর বেতন বাবদ ২লাখ বিশ হাজার করে খরচ ২৬ লাখ চার হাজার টাকা।

অফিস খরচা মাসে ২০ হাজার করে বছরে দুই লাখ চল্লিশ। মোট হল ২৮ লাখ ৮০ হাজার। ধরি মোট ৩০ লাখের মত খরচ।

গত বিশ বছরে তাহলে খরচ মোট ছয় কোটি টাকা। শুনেছি সফটওয়্যার পন্য ডেভলপমেন্টে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না। আরও আন্দাজ করছি তিনি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। তাই প্রতি ডেভলপারদের জন্য ১২ হাজার ডলার করে মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কিনতে হয় না প্রতিবছর। তাছাড়া আমার ধারণা আমি একটু ওভার এস্টিমেট করেছি, খরচ অবশ্য এর অনেক কম কিংবা বেশী হলে মার্জিনালী বেশী হবে।

তাহলে শুধুমাত্র একটা সরকারী প্রজেক্টেই তার এই ছয় কোটি উঠে আসার কথা। বিশ বছরে কম পক্ষে তিনি চল্লিশটি এইরকম প্রজেক্টের বেশী পেয়েছেন আন্দাজ করছি।

এতকিছুর পরও মুস্তাফা জব্বারের বিরুদ্ধে প্রোগ্রামারকে পয়সা পরিশোধ না করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এই ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন।

সুতরাং সরকারী (আসলে সেটাও জনগনের টাকা) কিছু প্রজেক্টে উনার সমস্ত খরচ উঠে আসে এসে আরও লাভ থাকার কথা। অর্থাৎ খাওয়া পরে টিকে থাকার যে যুক্তিটা দেয়া হয় সেটা খুবই ঠুনকো।

কিন্তু তারপরও মুস্তাফা জব্বার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বিজয় ফ্রি করবেন না। ঠিক আছে। এটা অবশ্য আমি মেনে নিতে পারি। এটা উনার বিজনেস পলিসি হতেই পারে।

কিন্তু কারও সফটওয়্যারে বিজয়ের সাথে ন্যূনতম মিল থাকলেই কেন তিনি হা হা করে ছুটে আসবেন? কারণ আসলে কিছুই না – মনোপলি। একচেটিয়া বাজার ধরে রাখার চেষ্টা। নিজেও টেকনোলজিকে সামনে আগাবেন না কাউকে আগাতেও দেবেন না।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এটাও বলেছেন নতুন কোন টেকনলজি তিনি বের করেন নি কেননা তিনি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পাননি। পাইরেটেড সফটওয়্যার দিয়ে (আন্দাজ করছি) সফটওয়্যার বানাবেন তিনি, সরকার এবং জনগণের কাছে বিক্রি করে মুনাফা করবেন তিনি আর দাবি করবেন সরকার জনগনের টাকা দিয়ে তার গবেষণার পৃষ্ঠপোকতা করবেন! মামা বাড়ির আবদার নাকি?

১৮।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

কেননা এরপর সেই ডকুমেন্টটি এডিট করতে হলে সেই লোকটাকেই লাগবে আপনার। আপনার প্রতিষ্ঠানের একেকটি কম্পিউটারে থাকবে একেক লে আউটের কী-বোর্ড। সাপ্তাহিক-এর কর্তৃপক্ষ নিজে এটি তার অফিসে করতে রাজি হবেন?

না লাগবে না! এটাই তো ইউনিকোডের মজা। ইনপুট মেথড এবং রেন্ডারিং এর সাথে টাইপিং এর কোন সর্ম্পক নেই। ইনফ্যাক্ট এটা প্রতিটা ব্লগে ব্লগে ঘটে থাকে প্রতিদিন। কে কোন কিবোর্ডে টাইপ করছে কেউ জানে না। কিন্তু শেষমেষ এন্ড প্রোডাক্ট সবার জন্যই একই। এখানটাতেই ইউনিকোডের জয়।

এখানে কিন্তু আবারও তুষারের অজ্ঞানতা বিকট ভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ল। একটু জেনেবুঝে কথা বলার জন্যে মুখটা খুলবেন দয়া করে।

১৯।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অটো কারেক্ট ফিচারের সমস্যাটিও কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য না। অটো কারেক্ট অফ করে দিলে বিজয়ের অক্ষর বা শব্দ পাল্টে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

কথাটা অ্যাম্বিগিউয়াস। বিজয়ের (মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের?) অটো কারেক্ট নাকি অভ্রের অটো কারেক্ট (একার, ইকার অবস্থান শুধরে নেয়া) ফীচারের কথা বলছেন সেটা বোধগম্য নয়।

যদি অভ্রের অটো কারেক্ট ফীচারের কথা বলে থাকেন তাহলে ১৩ নম্বর পয়েন্ট দেখুন। বিজয় দিয়ে মানুষ ভুল সর্ট অর্ডারে (একার, ইকার অক্ষরের আগে) টাইপ করে। অভ্র সেটাই ঠিক করে দেয়।

যদি বিজয়ের (মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের?) অটো কারেক্ট ফীচারের কথা বলেন তাহলে বলতে হয় যে, বিজয়ে আসকি ব‍্যবহৃত হওয়ায় তা স্পেলচেকার বা গ্রামার চেকার ইংরেজী বর্ণের সমন্বয় এবং ভুল শব্দ মনে করে অটোকারেক্ট করতে চায়। কিন্তু ইউনিকোডে তা যেহেতু ইংরেজী বর্ণে থাকে না তাই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের অটোকারেক্টে ধরার প্রশ্নই আসেনা।

২০।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

মোস্তফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করাটা অন্যায়। একজন মানুষ ৩০ বছর একটি খাতে শ্রম দিলেন, দেশের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের বার বার নেতৃত্ব দিলেন,

একমত। মুস্তাফা জব্বার তৎকালীন সময়ে একটি সফল সফটওয়্যার পণ্য তৈরী, বাজারজাত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাপ পূরণ করেছেন। তাকে এজন্য অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাই।

উদ্ধৃতি

বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। এর সঙ্গে সুদে ধার দেয়া কাবুলিওয়ালার মিল কোথায়? তার নিজের ধারণাপ্রসূত সফ্টওয়্যারটির স্বত্ব নিজের কাছে থাকবে না এটা কি দাবি করা উচিত? তার মানে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা ফেসবুকের জুকারবার্গ সবাই তো কাবুলিওয়ালা। ফেসবুকের ভেতরে বিজ্ঞাপনের টাকা তো তাহলে জুকারবার্গের উচিত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা।

একমত। ব্যবসা করাটা অবশ্যই অন্যায় কিছু নয়।

কিন্তু ব্যবসা করতে গিয়ে টেকনলজির পথ রোধ করা, যে কোন মূল্যে উঠতি প্রতিদ্বন্দ্বী সফটওয়্যারের পথ রোধ করা অন্যায় – মোনোপলি। এই মনোপলির চেষ্টা থেকে মাইক্রোসফটেরও মুক্তি মেলেনি। এই মাইক্রোসফট পিসির রেভোল্যুশনের জন্মদাতা। কিন্তু এখন ইউকে তে উইন্ডোজের সাথে অন্যান্য ব্রাউজার বাছাই করার সুযোগ দিতে হয় মাইক্রোসফট কে। বাজারের সেরা সফটওয়্যার বানায় বলেই কিন্তু ছাড় পায়নি মাইক্রোসফট। বরং সেকারণেই তাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে। মুস্তাফা জব্বার কেন ব্যতিক্রম হবেন?

২১।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

২০০৩ সালে ইউনিবিজয় তৈরি করেছেন যারা, তার অনেক আগে থেকেই মোস্তফা জব্বারের বিজয় লে আউট বাজারে ছিল। তাই মাত্র ৮টা কি অদল বদল করে ১০৫ টা কী-বোর্ডের একটি লে আউটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলাটা কতটুকু যৌক্তিক দাবি।

এ প্রসঙ্গ আগেও এসেছে। পয়েন্ট ৯ এবং ১৩ দেখুন।

২২।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

একজন ব্যবসায়ী যদি মনে করেন কেউ তার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে তিনি তো তার প্রতিকার চাইতেই পারেন। এটা নিয়ে আইনসঙ্গত লড়াই না করে, পত্রপত্রিকা, নেট কিংবা ব্লগে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা, লোভী, কার্টুন ক্যারেকটার কিংবা তাকে নিয়ে অসম্মানজনক ছড়া কবিতা লেখা প্রকৃতপক্ষে অভদ্রতা ছাড়া আর কিছু না।

একমত।

উদ্ধৃতি

তবে সেটা করতে গিয়ে আরেকজনের কলমের ডিজাইন বা কনসেপ্ট চুরি করে নিজে সেই একই ধরনের কলম বাজারে ফ্রি ছেড়ে দিলে সেটা কি ঠিক হবে?

ভুল তুলনা। ১৭ নম্বর পয়েন্ট দেখুন।

অভ্র কিছু চুরি করেনি। একদম স্বতন্ত্র্য ভাবে নিজের মেধা দিয়ে, প্রোগ্রামিং করে প্রতিটি লাইন লিখেছে। শুধু মাত্র, এবং শুধু মাত্র কিবোর্ডের কয়েকটি অক্ষর মিলে গেলেই তাকে চোর বলাটা খুবই অনৈতিক। উপরন্তু চুরির সংজ্ঞানূযায়ী জব্বার সাহেবকে প্রমাণ করতে হবে যে অভ্র তার বিজয়ের সোর্স চুরি করেছে। আইন বলে কেউ যদি নিজস্ব মেধা দিয়ে কিছু একটা তৈরী করে যা অন্য কারো উৎপাদনের সাথে মিলেও যায় তাহলে সেটা চুরি না। অভ্র আর বিজয়ের সোর্স সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব।

আপনার মত বিজ্ঞ (!) ব্যক্তি অভ্রকে চোর বললে ইন্টারনেটে আস্ফালন করা দুষ্ট লোকের সাথে আপনার কী পার্থক্য থাকে তুষার সাহেব?

উপরন্তু জব্বার সাহেবে কে গালাগালির ব্যাপারটা সুকৌশলে অভ্র এর উপর চাপানোর প্রয়াসটাও অবশ্যই নিন্দনীয়। এমন কোন প্রমাণ নেই যে এতে অভ্র টিম জড়িত। অভ্র আইনী পথেই অগ্রসর হচ্ছে এবং যারা জব্বারের সাথে তাল মিলিয়ে অভ্রকে চোর বলছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনী লড়াইয়ে যাবার কথা ভাবছে বলে শুনেছি।

২৩।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

একটি দেশে জনপ্রিয় স্বদেশী সফ্টওয়্যার মাত্র একটি। তার নাম বিজয়। দেশে ভালো সফ্টওয়্যার প্রোগ্রামাররা থাকতে চান না কারণ এই দেশের চাইতে বিদেশে তাদের কাজের দাম বেশি। এই দেশে সফ্টওয়্যার শিল্প দাঁড়ায়নি ভালোভাবে তার কারণ আমরা সবাই পাইরেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে পছন্দ করি কারণ আসলের দাম অনেক বেশি। সবাই তাদের সব সফ্টওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে গেলেই যদি ফ্রি করে দিতে বাধ্য হন সেটা কি এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিকাশের জন্য সহায়ক হবে।

নিজেই স্বীকার করছেন পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। আবার নিজেই সেটার বিরুদ্ধে কথা বলছেন!!!! কিরকম হাস্যকর রকমের কন্ট্রাডিক্টরী!!!! তার্কিক মহাশয়ের মাথা ঠিক আছে তো? আর দেশে ডেভেলপ করা কয়টা সফটওয়্যারের নাম জানেন আপনি, সে ব্যাপারেও আপনার পাঠক জানলো।

২৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

প্রতিবেদকের কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না। তবে তার উচিত ছিল এই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া।

আমি আপনার কম্পিউটার জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই। কম্পিউটার নিয়ে কী কাজ করেছেন আপনি?

আমার কম্পিউটার বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আন্দাজ করছি। ছোট্ট একটা বায়ো দিয়ে দেই। তবে, কবে কী করেছি সেটা ব্যবহার করে বাহবা না কুড়িয়ে আমি সবসময় আমার লেখা, মন্তব্য এবং কাজ দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে আগ্রহী। এখানে নিজের বায়ো দিতে বাধ্য হলাম বলে আমাকে ক্ষমা করবেন পাঠক।

আমি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ব্যাচলর করেছি। মার্স্টাসে মেজর ছিল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইনর কম্পিউটার সায়েন্স। আমার আন্ডারগ্রাজুয়েট গবেষণা ছিল কম্পিউটার এইডেড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এবং মাস্টার্সে কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বিষয়ে। এ পর্যন্ত আমার তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাচেলর শেষের পর অল্প কিছুদিন আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকুরীরত ছিলাম। বর্তমানে আমি একটি কম্পিউটার এইডেড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীতে সফটওয়্যার ডেভলপার পদে নিয়োজিত।

একাডেমিক/প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট ছাড়াও আমি এসিএম প্রোগ্রামিং কনটেস্টে প্রায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছি একসময়। বুয়েটের আইআইসিটিতে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও পড়িয়েছি এক সেমিস্টার। নিজের প্রয়াসে বেশ কিছু প্রোগ্রাম বানিয়েছি একসময়, যেগুলোর বেশীরভাগ বাজারজাত করা হয়নি। তাছাড়া নিজে থেকে অফলাইন বাংলা পরিবর্তক এবং অরূপ কামালের ইনিশিয়েটিভে অনলাইন বাংলা লেখনী এবং পরিবর্তক বানিয়েছি ২০০৬/২০০৭ সময়কালে। সচলায়তন ওয়েবসাইটটাও অরূপ কামালের সাথে যৌথভাবে ডেভলপ করেছি।

২৫।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ভাষা উন্মুক্ত করার নামে সফটওয়্যার ফ্রি করে দিতে হবে এই দাবি করার আগে তাহলে দেশে সব কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত। কারণ কলম দিয়েও তো আমরা লিখি। ওটার জন্য পয়সা নেয়াও তাহলে অন্যায়। ভাষা তাহলে বন্দি হয়ে গেল কলম বিক্রেতার কাছে?

বারবার একই কথা বলছেন কেন? পয়েন্ট বাড়ালেই যুক্তি বাড়ে না। কলম আর সফটওয়্যারও একই ধরণের বস্তু নয়। দেশে যদি আমি একটি বলপয়েন্ট পেনের কপিরাইট করে অন্য সব বলপয়েন্ট পেনের বিরুদ্ধে মনোপলি করা শুরু করি, আপনি মানবেন?

আব্দুন নূর তুষার wrote:

আশা করছি আদালতে দেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী বিজয় ও অভ্রের এই দ্বন্দ্ব মিটবে।

মিটবে আর কীভাবে? যা টের পাচ্ছি জড়িত সবাই হয়ত জব্বার সাহেবের পকেটে।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

পত্রিকাতে যারা লিখবেন তারা যুক্তি দিয়ে লিখবেন এবং গালাগাল করে দামি নিউজপ্রিন্ট এবং ব্যান্ডউইথ খরচ করবেন না।

আমিও তাই আশা করি। সেইসাথে একটু জ্ঞানও দরকার। নাহলে আপনার আবর্জনা পড়ে আমাদের সময় নষ্ট করাই সার হবে।

উপসংহার
তুষারের প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে আমার দ্বিমত থাকলেও একটা বিষয়ে আমি আশাবাদী। তুষার একজন তার্কিক। সুতরাং আমি আশা রাখি যুক্তির আলোকে তিনি তার ভুল গুলো শুধরে নিতে পারবেন।

একজন এস এম মাহবুব মুর্শেদের লেখায় যত অকাট্য যুক্তিই থাকুক না কেন একজন সাধারণ মানুষ মুখচেনা আব্দুন নূর তুষারের কথার মূল্যই বেশী দেবে। তাই তুষারের কাছে আমার করজোড়ে অনুরোধ নিজের ভুল গুলো শুধরে আপনার অবস্থানটাকে শুধরে নিন। তাহলেই বিজয়ের মনোপলির এই অপপ্রয়াস আমরা রুখতে পারব।

এটা তাই শুধু অভ্র বনাম বিজয় যুদ্ধ নয় এটা আমাদের ডিজিটাল বাংলা মুক্তির রূপরেখা। আসুন আমরা এক সাথে গলা মিলিয়ে বলি, “ভাষা হোক উন্মুক্ত”।

Advertisements
%d bloggers like this: