অভ্র বিজয় বিতর্ক, অভদ্র আচরণ ও আমার অবস্থা : আবদুন নূর তুষার

2010/05/24 at 12:05 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

আমি সচলায়তনে কখনো যাইনি। জনৈক এস এম মাহবুব মোর্শেদের লেখার সূত্র ধরে আমার সচলায়তনে যাওয়া। তিনি লেখাটির শুরুতেই লিখেছেন আমি একটি প্রতিবেদন লিখেছি। আমি কোনো রিপোর্ট বা প্রতিবেদন লিখি নাই। আমি মতামত দিয়েছি আনিস রায়হানের লেখা একটি প্রতিবেদনের ওপর। একটু পরেই তিনি বলেছেন এটি আমার প্রতিবাদ। জব্বার সাহেব লেখাটি ঘষামাজা করে দিয়েছেন এটি একেবারেই মিথ্যা কথা এবং এটি তিনি বিচিত্রায় ছাপার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলার মানে হলো যিনি লিখছেন তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে এটি লিখেছেন বলে মনে হয় না। কারণ বিচিত্রা নামে পত্রিকাটি এখন আর প্রকাশিত হয় না। আর জব্বার সাহেবের ঘষামাজা করার কথা যদি সত্য হতো তাহলে কার সঙ্গে দহরম-মহরম জব্বার সাহেবের সেটা প্রমাণিত হতো। কারণ জব্বার সাহেবের খবর মোর্শেদ সাহেব কত গভীরভাবে রাখেন সেটা এত গোপন একটি বিষয় তার জেনে ফেলা দিয়েই প্রমাণিত হতো। লেখাটিতে পক্ষপাত আছে, তবে সেটি জব্বার সাহেবের প্রতি নয়, কপিরাইটের প্রতি এবং অশালীন আচরণের বিপক্ষে।

ব্যক্তি আক্রমণ নিয়ে নোট দিয়েছেন তিনি। একজন ব্যক্তির ধর্ম, বর্ণ বা অসম্পর্কিত কর্মকা- নিয়ে তাকে খাটো করবেন নাÑ এমনটি তিনি লিখেছেন। তিনি সে কথা রেখেছেন কিনা সেটি আমি সবশেষে বলব। কারো জ্ঞান অসম্পূর্ণ হলে তাকে সম্মানের সঙ্গে সেটি বলা যেতেই পারে। আমাকে বা মোস্তাফা জব্বারকে তিনি বা তারা সে সম্মানটি দেখিয়েছেন কিনা সেটা বিচারের ভার পাঠকের ওপর রইল।

১. আনিস রায়হানের লেখা নিয়ে আমি লিখেছি। তাই বিবিসিতে জব্বার সাহেব কি বলেছেন সেটি আমার বিবেচ্য ছিল না। আমি আনিসের লেখার বাইরে তাই আর কোনো বিষয়ের অবতারণা করি নাই। তাই মাহবুব মোর্শেদ যখন বলেন যে ৯৯% ব্যবহারকারী বিজয় বাংলা ব্যবহার করেন এই দাবি করেছেন বিবিসিতে মোস্তাফা জব্বার, আমি কি বুঝি না এটা কত অবান্তর? তখন তিনিই গরুর রচনা লিখতে শুরু করেন। কারণ আমি লেখা লিখেছি সাপ্তাহিক-এর একটি লেখার সূত্রে। আমি তো বিবিসির সংবাদ শুনে এটা লিখি নাই। আর আমার লেখা ছাপার ব্যবস্থা জব্বার সাহেব করে দিয়েছেন এটা বলে তিনি সাপ্তাহিক-এর সম্পাদককেই অপমান করেছেন। সাপ্তাহিকের সম্পাদক কি জব্বার সাহেবের অনুগত? আর আমাকে যখন মোর্শেদ নিজেই সম্মানিত কলামিস্ট বলেছেন তার লেখায়, সেখানে আমার লেখা জব্বার সাহেবের মাধ্যমে ছাপতে হয়েছে বলা কি যুক্তিসঙ্গত?

রায়হান লিখেছেন মোট কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ৬০% বাংলা ব্যবহার করে। এদের মধ্যে অধিকাংশই বিজয় ব্যবহার করে। তার মধ্যে ১৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এই ১৫% নেট ব্যবহারকারীর ২০% ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহার করে। তাহলে ১০০%-এর হিসেবে যদি এই ২০%-এর সবাই অভ্র ব্যবহার করে, তবে এই সংখ্যাটি ১.৮% ই হয়। জব্বার সাহেবকে গুরু বলে সম্বোধন করেছেন মোর্শেদ। কার গুরু তিনি? আমার না আমি সেটা জানি এবং লেখার কোথাও আমি সে রকম কিছু লেখিনি। বিবিসির উদ্ধৃতি দিয়ে আমার কাছে ম্যানিপুলেশনের জবাব চাইলে আমি সেটি দিতে পারব না কারণ বিবিসির সেই কথা আমি শুনি নাই। আমি কেবল একটি লেখা পড়েছি এবং সেটা নিয়ে আমার মতামত দিয়েছি। রায়হানের মুখের ওপর আমি কথা বসাই নাই। তিনি নিজেই লিখেছেন অভ্রের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আমি কেবল দেখিয়ে দিয়েছি তার নিজের দেয়া পরিসংখ্যান সেটি প্রমাণ করে না।

২. অভ্রের স্লোগান আমার গাত্রদাহের কারণ হয়নি। আমি কেবল বলেছি একটি সফটওয়্যার ফ্রি পাওয়া যাওয়ার সঙ্গে ভাষার উন্মুক্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক নাই। তর্ক হচ্ছে ইউনিজয় লেআউট এবং বিজয় লেআউট নিয়ে, সেখানে ভাষা হোক উন্মুক্ত বলে অযথা আবেগনির্ভর কথা না বলাই ভালো। কলম কিনে লিখতে হয়। তাতে কি ভাষা পরাধীন হয়ে যায়। বাংলা সফটওয়্যার তো কলমের মতোই বিষয়। সৎ আকাক্সক্ষার প্রকাশ কেবল অভ্রের বেলায়? আমি যদি বলি সফটওয়্যার হোক উন্মুক্ত? যদি বলি অভ্রের জনক তার সব সফটওয়্যার কেন ফ্রি করে দেন না? শুধু লেআউটের বেলায় স্বাধীনতার ডাক?

৩. পণ্য আর সেবার মধ্যে এখন আর পার্থক্য করা হয় না। যে কোনো পণ্যই একটি সেবা। কেউ সেটি বিনামূল্যে দেয় আর কেউ মূল্য নিয়ে। আমি বলেছি মূল্য নিচ্ছে বলে তাকে কাবুলিওয়ালা বলার কোনো যুক্তি নেই। কেউ ফ্রি দিলে দেবেন আর কেউ টাকা নিলে নেবেন। তবে একজন আরেকজনেরটা ধার করে ফ্রি করে দেবেন না। ইউনিবিজয় নামের লেআউটটিতে বাংলা লিখলে কেউ ধার করেছে কিনা সেটা বোঝা যায়।

৪. সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা লেআউট কোনটি সেটা বাংলাবাজার কিংবা আরামবাগ গেলে বোঝা যায়। তারপর আমাকে বললেন চাটুকার কি গাছে ধরে? চাটুকার বলাটা কি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়? আমার আগের লেখাটি পড়েন। দেখেন তো সেখানে এরকম একটি শব্দ আছে কিনা? আমি একটি লেআউটের পক্ষ নিলাম মানে আমি চাটুকার। তার মানে মোর্শেদ কি মেহেদী হাসানের চাটুকার?

৫. পুরো লেখাটিতেই লেখক আমার কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে নানারকম শ্লে¬ষাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন আমি ওপেন অফিসের নাম শুনেছি কিনা? শুনেছি। আমি কিন্তু এটাই বলেছি যে ফ্রি ওয়্যার কেউ দিলে দিক। সে জন্য বিজয়কে যা-তা বলতে হবে কেন? এরপর তিনি গত বিশ বছরে চাটুকার, হায়েনা, সুবিধাভোগীর সহায়তায় বিজয় বাজার দখল করে আছে, এমন মন্তব্য করেছেন। বাজার দখল করা কি অন্যায়? লেখকের ভাষার ব্যবহার দেখুন। আর যারা ২০ বছর ধরে বিজয় ব্যবহার করলেন তারাও কি এই চাটুকার, হায়েনা, সুবিধাভোগী? কারণ ইউজাররাই তো একটা সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ও সুবিধাভোগী। আমি কিন্তু বলি নাই অভ্র পাইরেটেড। আমি বলেছি অভ্রের উচিত বিজয়ের কী-বোর্ড লেআউটের সঙ্গে মিল না রেখে নিজস্ব লেআউট ব্যবহার করা। সফটওয়্যার তৈরির শ্রম আমি বুঝি। আমার নিজের কনসেপ্ট থেকে ডিজাইন করা এবং আমার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রোগ্রাম করা তিনটি প্রোপ্রাইটরি সফটওয়্যার আছে যেটি কেবল আমরাই ব্যবহার করি। আমি প্রোগ্রামারদের বেতন দিয়ে এই সফটওয়্যারগুলো তৈরি করিয়েছি। আপনাকে আমন্ত্রণ রইল আমার অফিসে এসে সেগুলো দেখে যাওয়ার জন্য। বিজয় এর বিভিন্ন ভার্সন বিভিন্ন ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তৈরি করা। এর প্রথম ভার্সনটি ছিল ম্যাক এর জন্য যেটি তৈরি হয়েছিল এ্যাসেম্বলি ল্যাংগুয়েজে। পরে তৈরি হয়েছে উইন্ডোজের জন্য ভিজ্যুয়াল বেসিকে এবং এখন তৈরি হচ্ছে ডট নেট ফ্রেমওয়ার্কে। অভ্র একটি ফ্রি ওয়্যার এটি ওপেন সোর্স না। আর এর উইন্ডোজ ভার্সনটি কি দিয়ে তৈরি হয়েছে সেটি মোর্শেদ সাহেব আমাদের বলে দিন। কারণ আপনার কথামতো আমি তো জানি না কিছু। সব আপনি জানেন।

৬. এ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কথা আমি শুধু জানি না, আমি এর ইতিহাসও জানি। আপনি কি জানেন যে এই আইনটি তৈরি হয়েছিল জ্বালানি তেল ব্যবসার মনোপলি নিয়ে। বাজারে বাংলা প্রোডাক্ট দাঁড়াতে পারছে না, তার কারণ প্রোডাক্টগুলোর দুর্বলতা। ফায়ারফক্স, ক্রোম কিংবা অপেরা কিভাবে দাঁড়াচ্ছে? সেখানে কি আপনি এক্সপে¬ারারের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পান? সরকার বিজয় ব্যবহার করতে বলেছে কারণ সরকারিভাবে বিজয় ব্যবহার করা হয় এবং আপনার পূরণ করা ফর্ম যদি অন্য ফন্টের হয় তবে সেটি সব কম্পিউটারে পড়তে না পারলে অসুবিধা হতে পারে। এর সঙ্গে খুনের রক্ত হাতে লেগে থাকার কি সম্পর্ক? বাংলাদেশে এ্যান্টি ট্রাস্ট আইন নাই। পৃথিবীর অনেক দেশেই নাই। আসেন তাহলে এই আইনটির জন্য কথা বলি। নাকি এই আইনটি যে নাই সেটাও তুষারের দোষ?

৭. আমি অভ্র বা বিজয় সম্পর্কে কিছু লিখি নাই। আমি কেবল লিখেছি আনিস রায়হানের লেখাটিতে যুক্তিহীনতা নিয়ে। অভ্রের বাকি ডেভেলপারদের নাম আপনি জানলে আমাদের জানান? নাকি মেহেদীও নিজেকে অভ্রের জনক বলেই ভাবতে ভালোবাসেন? আপনি লিখেছেন অভ্রের কালকের ক্লোন বা নতুন ভার্সন ফ্রি না হলেও এখনকার ভার্সনটি ফ্রি থাকবে। হাস্যকর! ভবিষ্যতের সব অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে এই ভার্সনটি যে কমপ্যাটিবল হবে বা এর সুবিধাগুলো আধুনিক থাকবে, এ ব্যাপারে কি আপনি নিশ্চিত? আর এখনকারটা ফ্রি আর পরেরগুলার জন্য টাকা দেয়া মেনে নিলে জব্বার আর মেহেদীর মধ্যে পার্থক্য কি থাকবে? তার মানে ভবিষ্যতে মেহেদী, জব্বার হয়ে যেতে পারেন? আমি পাঠক হিসেবে একটি মতামত দিয়েছি পত্রিকাতে। আমি রিপোর্টার নই, আমি কোনো প্রতিবেদন লিখি নাই, আমার নিজস্ব মতামত দিয়েছি। এ কারণেই আমি জব্বার বা মেহেদী কারো সঙ্গেই কথা বলার দরকার মনে করি নাই।

৮. ফোনেটিকে বাংলা লিখলে বাংলা ভুলে যাবে বলে আমি বলি নাই। আমি বানান রীতির কথা বলেছি। বিদেশে যারা বড় হয়েছে তারা বাংলা অক্ষর না শিখে কেবল ফোনেটিকে বাংলা লিখতে পারলে আপনি খুশি। আমি তাতে খুশি না। তাহলে উর্দু টাইপ করে বাংলা, আরবি টাইপ করে বাংলা বা হিন্দি টাইপ করে বাংলা লিখলেও তো কোনো অসুবিধা নাই। আমি কোনো সফটওয়্যারকে শূন্যমানের বলি নাই। আইত্রিপলিতে কোনো পেপার নিয়েও আমার কোনো মন্তব্য নাই। আমি কেবল আমার একটি শঙ্কা প্রকাশ করেছি। আপনি যখন কীবোর্ড শিখে লিখছেন তখন আপনার বানান জানতে হয় কারণ মনে করে আকার ইকার লিখতে হয়। আর ফোনেটিকস দিয়ে লিখতে হলে আপনি কেবল উচ্চারণ মনে রেখে লিখবেন। বানান রীতি না জানলে তখন সিলেটিরা কাককে খাখ লিখবে, চট্টগ্রামের লোকজন পার্থক্যকে পার্থক্যই লিখবে। তারপর আপনি লিখলেন আমি বিজয়ের পা চাটতে গিয়ে লিখেছি। এটাই কি আপনার ব্যক্তি আক্রমণহীন ভাষার নমুনা। আপনিও কি কারো পা চাটতে গিয়ে লিখেছেন তাহলে?

৯. সাপ্তাহিক-এর প্রতিবেদক নিজেই লিখেছেন অন্তত একটি কী’তে বিজয় ও অভ্রের পার্থক্য আছে। আমি কোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা করি নাই। আমি আপনার আগেই গুনতে এবং পড়তে শিখেছি। আপনি যে এখনো ঠিকমতো পড়তে শেখেন নাই সেটার প্রমাণ দিয়েছেন সাপ্তাহিক-এর প্রতিবেদকের অভ্র-বিজয় পার্থক্য নিয়ে লেখাটিতে। তিনি যা লিখেছেন সেটা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে এবং সাপ্তাহিককে বিচিত্রা লিখে দিয়ে। কে যে পড়তে জানে সেটা আমারও প্রশ্ন।

১০. আপনি কিছু পয়েন্টের উত্তর না দিয়ে লিখলেন এসব পাগলের প্রলাপ। এটাও তো আপনার ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার নমুনা। আপনি আমাকে প্রলাপ বকছি বললেন, পাগলও বললেন। আবার বললেন আপনি আমাকে কোনো অসম্মান করবেন না।

১১. আপনি নিজের লেআউট ব্যবহার করেন। খুবই খুশি হলাম এ কথা শুনে। তার সঙ্গে আমি কখনো অভ্র ব্যবহার করি নাই – এটা কী করে নিশ্চিত হলেন? আমি একটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত অভ্র যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। এটার মানে এই নয় যে, আমি না জেনে কথা বলেছি।

১২. ফন্ট মানে আপনি ছাপার অক্ষরে বা কম্পিউটারে চোখে যা দেখতে পান সেটা। আমার নামের আগে মহামতি বলার মানে কি? এটা বলার জন্য ফন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা লাগে না। দীর্ঘদিন আমরা পারিবারিকভাবে ছাপাখানার ব্যবসা করেছি। সীসা দিয়ে তৈরি ফন্ট কিংবা কম্পিউটারের তৈরি ফন্ট সবই চেহারা দিয়েই আলাদা হয়। আমি সুতন্নির সঙ্গে অবিকল চেহারার মিল রেখে যদি মোর্শেদ নামে একটি ফন্ট বানাই সেটা নকল হবে। যমজ ভাই-বোন বা ক্লোন সম্পর্কে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, জ্ঞানও নেই। যমজ ভাই-বোন একই মায়ের পেটে একই বাবার কারণে জন্মায়। আর ক্লোন হতে গেলেও সেটার সোর্স একই মা-বাবার জিন। আপনার কথা ঠিক হলে দুজন মায়ের পেটে একই চেহারার যমজ জন্ম নিতে হবে। তা নাহলে দুটো আলাদা সোর্সের, আলাদা সফটওয়্যারের ফন্টের চেহারা কী করে মিলবে? এরপর আবার তিনি বলেছেন যে আমি কিছুই জানি না এবং পাগলের প্রলাপ বকছি…

আর আপনার ব্লগের পাঠকদের রুচিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়ে আমি বলতে চাই না । সেগুলো সেখানে রেখে দিয়ে আপনি নিজের রুচিকেই প্রকাশিত করেছেন।

১৩. কোন মিলটা মৌলিক বা অমৌলিক, এটার মানদ- আমি ঠিক করব না, আপনিও না। এটা করবে আদালত কিংবা কোনো বিচারকারী বা স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণী সংস্থা। প্রতিবেদক যখন বলেন আগে এ কার আর পরে এ কার একটি বিরাট পার্থক্য, সেই মানদ-টি কে ঠিক করে দিয়েছিল? আপনি? প্রতিবেদক বলেছেন, এটি একটি পার্থক্য আমি তার সঙ্গে একমত হইনি। কারণ আমার মনে হয়েছে তার চাইতে বড় পার্থক্য হবে বর্ণমালাগুলোর কোয়ার্টি কি বোর্ডে অবস্থান এবং যুক্তাক্ষর তৈরির প্রক্রিয়া।

আমরা যখন হাতে বাংলা লিখি, তখন শর্টিং এবং সার্চিং করে লিখি না। তখন অ এর পর া (আ কার) দেই আবার এ কার দেই আগেই, আগে কারণ বাংলা লিখন রীতি এটাই। আপনি হয়ত বেল লেখার সময় আগে বল লিখে পরে একার বসান কিন্তু ৯৯% বাঙালি আগে ে তার পর ব, তারপর ল লেখেন। সাধারণ বাংলা লেখনরীতিতে টাইপরাইটারেও সেটি করতে হয়। আপনি ভুলে গেছেন যে বিজয়, প্রশিকা, শহীদলিপি এরা টাইপরাইটার দিয়ে টাইপ করতে অভ্যস্ত হাজার হাজার টাইপিস্ট ও দলিল লেখককে কম্পিউটারে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করছিল। ফলে তারা টাইপরাইটারের ব্যবহারের সঙ্গে মিল রেখেই কি বোর্ড লেআউট করার চেষ্টা করেছে।

প্রতিবেদক একবার বললেন অন্তত একটি কী-তে পার্থক্য আছে, আবার বললেন আগে একার পরে একার এটাও একটি পার্থক্য, তারপর বললেন ৮টি কী-তে পার্থক্য আছে। আপনি বলছেন তাছাড়া আপাত দৃষ্টতিে ৮টি বোতামরে র্পাথক্য দখো গলেওে আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ” এসব মৌলকি র্পাথক্য ধরলে অভ্র এবং বজিয়রে র্পাথক্য শুধুমাত্র ৮টি বোতামইে সীমাবদ্ধ নয়।…

তার মানে প্রতিবেদক নিজে কনফিউজড এবং আপনি নিজেও নিশ্চিত না যে এগুলো মৌলিক পার্থক্য কিনা। নইলে “ধরলে” বলছেন কেন?
আপনার মত অনুযায়ী, দুুটি কী-বোর্ডে আংশিক মিল থাকলে সেটিকে কখন আইনের লঙ্ঘন বলা যাবে সেটা তো পার্থক্য নির্ধারণকারী বিশেষজ্ঞরা বলবেন। তাহলে মিল থাকলেও তারা বলবেন, না থাকলেও তারাই বলবেন। আনিস রায়হান কি সেই বিরাট বিশেষজ্ঞ যে তিনি আগেভাগেই বলে দিলেন দুটি কি বোর্ডে মিল নেই এবং এটা কপিরাইট লঙ্ঘন করে নাই।

১৪. বিজয়ের কী-বোর্ডের সঙ্গে অভ্রের কী-বোর্ডের মিল নয়, এর অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি বা ব্যবহারীবান্ধব সুবিধা যদি একে জনপ্রিয় করে তবে কেন আপনারা জব্বার সাহেবকে লেআউটটা ফ্রি করে দিতে বলছেন? আপনার কথা অনুযায়ী বিজয় তো এমনিতেই বাজার থেকে দূর হয়ে যাবে। কারণ এতে যথেষ্ট সুবিধা নেই। সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা কিভাবে হয় এই নিয়ে বিরাট জ্ঞানদানের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এই তর্কের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও নেই। আর আপনি যদি মেনে নেন যে বিজয়ও একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যার তবে এই কাজগুলো মোস্তাফা জব্বারও তাহলে শুরু থেকে করেছেন এবং এখনো করছেন। যদি তাই হয় তবে তার ৩০ বছরের শ্রমের দাম আপনারা বুঝতে পারছেন না কেন? যেখানে আপনি লিখেছেন নন ফ্রি সফটওয়্যারের বেলায় এটি আরো বেশি দরকার।

১৫. আমি এক ফন্ট থেকে আরেক ফন্টে পরিবর্তনের কথা বলি নাই। আমি কন্ট্রোল অল্টার বি চেপে বাংলা কী-বোর্ড সিলেকশনের যে প্রসেস এবং শুরুতে ছবিসহ বিজয় লোডের যে প্রক্রিয়া সেটার কথা বলেছি। এফ সিক্স চেপে বাংলা কী-বোর্ডে চলে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক বলেছিলেন যে এটা একটা বিরাট সুবিধা। আর এক ভার্সনের সঙ্গে পরের ভার্সনের ডকুমেন্টের যে কনভার্সন সংক্রান্ত জটিলতা সেটা বহু সফটওয়্যারে আছে। এমনকি এ্যাক্রোবেট পিডিএফ এও এটা ছিল। ভিস্তাতে করা বহু ফাইল এক্সপিতে খোলে না। আমি এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করি নাই। আপনি অযথাই এই বিষয়টির অবতারণা করেছেন।

১৬. হা হা হা করে হাসার কোনো কারণ নাই। আপনি কিন্ত আমার কথাটাই ব্যাখ্যা করেছেন। আমি কোথাও বলি নাই লিনাক্সের জন্য বানালে সেটা ব্যবসায়ী পণ্য হবে না। আমি এ কথা বলেছি কারণ ব্যবসায়ী পণ্য তৈরি হয় বিক্রিও জন্য। কোনো বাজারে যে ও এস এর জনপ্রিয়তা বেশি, পণ্য সেটাকে লক্ষ্য করেই তৈরি হয়। নিজের জ্ঞান জাহির করার জন্য পত্রিকার পাতা ভরে ব্যাখ্যা না দিয়ে আমি ভেবেছি শিক্ষিত পাঠক এটা পড়লেই বুঝবেন। আপনি কি বানাচ্ছিলেন, কি করেছেন সে সবের বর্ণনা না দিয়ে মূল কথাটুকু বললেই আমি বুঝতাম। একটু পরেই আপনি লিখলেন তিনি লিনাক্স ভার্সন বের করলে নাকি তৃতীয় বিশ্বের দেশে পাইরেটেড ও এস ব্যবহার বন্ধ হয়ে যেত?

হা হা হা .. এবার আমি একটু হাসি। আপনার ধারনামতো তাহলে বিজয় এত জনপ্রিয় যে বিজয় ব্যবহারের জন্য মানুষ লিনাক্স বেছে নিত? নাকি আপনি ভাবছেন লিনাক্সের জন্য বিজয়ের ভার্সনটি ফ্রি হতো? একটু আগেই না বললেন, লিনাক্সে মহা দামি দামি সফটওয়্যার আছে সেটা নাকি আমি জানি না। বার বার বৈশাখী টিভিতে জব্বার সাহেব কি বলেছেন, সেটা বলছেন কেন? আমার লেখার উত্তরের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক? তিনি বা আপনি কোথায় কি বললেন সেটা নিয়ে আমি তো একটুও বদার্ড নই। আমি লিখেছি আনিস কি বলেছেন সেটি নিয়ে। আলোচনা সেখানে না রেখে বিবিসি থেকে বৈশাখী পর্যন্ত দৌড়াচ্ছেন কেন? জব্বার সাহেব কি বলেছেন সেটি তার বিষয়। আমি কি বলেছি সেটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। প্রকাশনা সংস্থার উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, বিজয় কোনো চয়েস রাখে নাই। সেটা তো একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আপনাদের নির্দেশ কিংবা চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসা করতে হবে সবাইকে। এবার আপনাকে একটু জ্ঞান দেই। প্রকাশনার কাজে শুধু ওয়ার্ড প্রসেসর লাগে না। আরো অনেক সফটওয়্যার লাগে। আপনার কি ধারণা সেগুলো সব পয়সা দিয়ে কিনে নিত প্রেসের মালিকেরা? লিনাক্সের জন্য এই সব সফটওয়্যারগুলোও কি সহজেই পেতেন সেই প্রেসের মালিকেরা? অভ্র ব্যবসার কথা চিন্তা করে নাই। সেটার জন্য তাদের ধন্যবাদ দিন। তাই বলে আরেকজন ব্যবসায়ীকে গালি দিতে হবে? আর সোনার ছেলেরা এই কাজের মাধ্যমে কি চেয়েছে? আপনি নিজেই লিখেছেন তারা সফটওয়্যারের মুক্তি চায়, মুনাফা নয়। হা হা হা। সত্য কথা এভাবেই পেট থেকে বের হয়। আমিও কিন্তু সেটাই লিখেছি। সফটওয়্যারের পক্ষেই মুক্ত হওয়া সম্ভব। ভাষা হোক উন্মুক্ত – এটা কেবল আবেগ। একটা বা দশটা সফটওয়্যারের বিক্রি বা ফ্রি হওয়া কেবল সফটওয়্যারের মুক্তির সঙ্গেই সম্পর্কিত, ভাষা এমনিতেই মুক্ত। অভ্র বা বিজয়ের বেচাকেনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

১৭. আমি বুঝলাম আপনি মনোযোগী পাঠক নন। আমার লেখার মধ্যেই আমি বলেছি জুকারবার্গের কথা। আমি জানি কিভাবে ওপেন সোর্স থেকে পয়সা কামানো যায় বা কিভাবে ফ্রি ই-মেইল বা ফেসবুকের পয়সা আসে। আপনার উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। আমি কতটা পড়ুয়া সেটা আমার পরিচিতরা জানেন। আপনাকে উপদেশ দেই আমার লেখাটিই মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়তে। তাহলে বুঝতেন আপনি পড়েন লাইন বাদ দিয়ে দিয়ে। আর আপনাকে আমন্ত্রণ আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি দেখে যেতে। সব বই গুনতে আপনার ১বছর লাগবে আর পড়তে অন্তত ৩৫ বছর। আপনার ব্যবসার হিসাব চর্চা দেখে খুব ভালো লাগল। এত সহজে হিসাব করে ফেললেন খরচ? অফিস ভাড়া নাই? বিপণন বা মার্কেটিংয়ের খরচ নাই? কোনো ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট নাই? কম্পিউটার এর প্রসেসর আর মাদারবোর্ড গত ২০ বছরে বদলে গেছে কমপক্ষে ১৪ বার। একটা করে কিনলেও তো ১৪টা কম্পিউটার লেগেছে ২০ বছরে। আর যদি ধরি একটা অফিসে ৫টা পিসি আছে, তবে তার সংখ্যা হয় ৭০টা। আপনি নিশ্চিত যে জব্বার সাহেব সব পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন? তিনি প্রথম বিজয় করেছিলেন ম্যাক-এর জন্য। ম্যাক-এর পাইরেটেড সফটওয়্যার তো তখন পাওয়াই যেত না। এখনো পাওয়া কঠিন। এরপর তো আপনি দয়ালবাবা সেজে গেলেন। মনে মনে মানসাঙ্ক কষে বলে দিলেন যে একটা সরকারি প্রজেক্টেই তার ৬ কোটি টাকা উঠে আসার কথা। বিশ বছরে চল্লিশটি এ রকম প্রজেক্ট করেছেন তিনি এটাও হিসাব করলেন। আপনি জানেন সরকার প্রথম পিসি কিনেছে কবে? আমি ১৯৯৬ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে দেখেছি মাত্র ৫টি পিসি। যার মধ্যে ২ টি ছিল আমার অফিসে। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরেও একই অবস্থা ছিল। তখন কেবল একটি নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ২০টি পিসি সংগ্রহের কথা চলছিল মাত্র। অধিকাংশ সরকারি অফিসে বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার শুরুই হয়েছে ২০০১ সালের পর। আপনাকে আরো বলি, আপনি জেনে খুশি হবেন যে বিজয় বা মুস্তাফা জব্বার কখনো কোনো সরকারি প্রজেক্টে সরাসরি সফটওয়্যার বিক্রি করেন নাই। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বিজয়ের কোন উইন্ডোজ ভার্সন ছিল না। কেবল ম্যাক পিসিতে বিনামূল্যে বিজয় লোড করে দেয়া হতো।

একটা সরকারি প্রজেক্টেই ছয় কোটি টাকা উঠে আসা? আবার হাসি। হা হা হা। সরকারি কাজ টেন্ডারে পেতে হয়। টেন্ডারে পাওয়া কাজে যদি ১৫% লাভও হয় তবে প্রজেক্টটির মূল আয় হতে হবে কমপক্ষে চলি¬শ কোটি টাকা। এবার আপনার হিসাবের কথা সত্য হলে বিশ বছরে চল্লিশটি ছয় কোটি টাকা আয়ের প্রজেক্ট মানে দুই শ’ চল্লিশ কোটি টাকা আয়, মানে ষোলো শ’ কোটি টাকার কাজ? আমাকে কতকিছু শিখতে উপদেশ দিলেন। আপনি কি অংক জানেন আসলেই? মজা হলো সরকার আলাদা করে বাংলা সফটওয়্যার কেনে না। কিনলে সেটি কেনে পিসির সঙ্গে। ২০০ টাকা করে একটি বিজয়ের দাম ধরলে ১৬০০ কোটি টাকার বিজয় মানে ৮ কোটি বিজয় এর সিডি। মানে ৮ কোটি পিসি? আপনি অবশ্যই পানি মনে করে অন্য কিছু খেয়ে ফেলেছিলেন।

মোস্তাফা জব্বার যদি কাউকে পয়সা না দেন, তার উচিত দেশের শ্রম আইনে তার নামে মামলা করা। ইউ টিউবের ভিডিওটি দেখেছি আমি। এটার সত্যতা আছে কিনা সেটা যিনি পয়সা পাননি তার দেশে এসে প্রমাণ করা উচিত। তবে একটি বিষয় হলো আমার লেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবারো জব্বার সাহেবের ব্যবসার হিসাব, টাকার হিসাব, অনাদায়ী দেনাসহ নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন আপনি। এর সঙ্গে আমার লেখার কি সম্পর্ক? গরু রচনা কে লিখল তাহলে?

১৮. আপনি এবং আমি যদি দুটি ভিন্ন লেআউট ব্যবহার করি তবে সেটি সিলেক্ট করে নিতে হয়। যদি আমার লেআউটটি আমার নিজের তৈরি করা হয় তবে সেটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ আপনি আমার বাটনগুলো চেনেন না। তখন আপনাকে আপনার একটি লেআউট দিয়ে আমার লেখাটি এডিট করতে হবে। আমি এ কথাটি বলতে চেয়েছি। তার মানে দাঁড়ায় বাংলা টাইপ করার জন্য আপনি কারো পরীক্ষা নিতে চাইলে সে তার নিজস্ব লেআউটে দেখিয়ে দেবে তার স্পিড। অনেকটা সবাই যার যার পছন্দ অনুযায়ী ব্যাট নিয়ে ক্রিকেট খেলার মতো। একটি অফিসের জন্য এটি সমস্যা হতে পারে।

অটো কারেক্ট নিয়ে কথা বলেছিলেন আনিস রায়হান। আমি বলেছি এটা কোনো বিরাট অসুবিধা নয়। ওয়ার্ডের অপশনটি অফ করে দিলেই সেটা ঠিক হয়ে যায়। মজা হলো অভ্র বনাম বিজয়ের তর্কে, সফটওয়্যার দুটির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। আলোচনাটি হওয়া উচিত ছিল কপিরাইট ও আচরণ নিয়ে। আনিস অভ্রের ম্যানুয়ালের লেখত হয়ে গিয়ে নানা রকম সুবিধা-অসুবিধার কথা লিখেছিলেন বলেই আমি এটা লিখেছিলাম। তবে আপনার কথা অনুযায়ী যদি শেষ পর্যন্ত কি টাইপ হলো সেটাই যদি বড় কথা হয়, তাহলে তো অটো কারেক্ট কোনো সমস্যা না।

১৯. আপনি একমত হয়েছেন যে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা বলা ঠিক না। তাকে শ্রদ্ধা জানালেন। ব্যবসা করা অন্যায় না। এটাও বলেছেন। ইউকে তে মাইক্রোসফ্টকে অন্য ব্রাউজার বেছে নিতে দিতে হয়। ঠিক কথা। এটা তো যারা ও এস বানান তাদের বিষয়। ও এস এর সঙ্গে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার না করতে দিলে মনোপলি হয়ে যায়। একমত। জব্বার সাহেব এর তো আর বাধা দেয়ার ক্ষমতা নেই আপনি যদি অভ্র বেছে নেন। তিনি তো ও এস নির্মাতা নন। বরং তিনি লিনাক্সে অভ্রকে একচেটিয়া খেলার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন আগেই। আর উইন্ডোজেও অভ্র ফ্রি পাওয়া যায় আর তারটা কিনতে পয়সা লাগে। তিনি কেবল বাধা দিয়েছেন লেআউটে। এটা নিয়ে কথা বলেন। নাকি আপনি আশা করছেন জব্বার সাহেব বিজয় বেচার সময় ক্রেতাকে একটা অভ্র সাধবেন? অভ্রের এত বেশি সুবিধা থাকার পরও একটা লেআউটের জন্য এত হৈচৈ কেন? কারণ লেআউটটি না থাকলে অভ্রের লস।

আপনি একমত হয়েছেন যে কারো সম্পর্কে কটূক্তি করা অভদ্রতা। ধন্যবাদ। তার মানে আপনি যখন আমাকে টেকান্ধ, পাগলের প্রলাপ বকা, গরু রচনা লেখা ছাত্রের সঙ্গে তুলনা করা, পড়তে উপদেশ দেয়া, আমার গুনতে জানা নিয়ে প্রশ্ন করা, চাটুকার, পা-চাটা ইত্যাকার অসম্মানজনক বক্তব্য লেখেন, আপনার লেখার নিচে নানাবিধ পশুর সঙ্গে জব্বার সাহেবও আমাকে তুলনা করার বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেন, তখন আপনি নিজেই কি অভদ্র ও দুষ্টলোক হয়ে যান না?

আমি কোথাও বলিনি অভ্র পাইরেটেড। আমি বলেছি বিজয়ের সঙ্গে মিল আছে যে কী-বোর্ড লেআউট সেটি নিয়ে। সেটি যদি অভ্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয় তাহলে আমার কথা অভ্রের গায়ে লাগে। আর যদি সেটি অবিচ্ছেদ্য না হয় তবে সেটি অভ্রের গায়ে লাগে না। আমি অভ্রকে একবারও চোর বলি নাই। আমি কপিরাইট আইনের বিষয়টি বোঝাতে কলম ও চোরের উদাহরণটি ব্যবহার করেছি। আর অভ্র টিম যদি গালাগালিতে জড়িত না থাকে তাহলে যারা গালাগালি করছে তাদেরকে বিপ্ল¬বী, প্রতিবাদী বলে উৎসাহ দিচ্ছে কারা। দেখেন তো আনিসের লেখাতে কে বলেছে এই কথাগুলো? আর অভ্রকে যারা চোর বলেছে তাদের ব্যাপারে আইনি লড়াইয়ে যাবার কথা আপনি শুনেছেন। আমার লেখা জব্বার সাহেব ঠিক করে দেন, এটাও শুনেছেন। আপনার লেখার নিচে যারা আমাকে এবং আরো কাউকে কাউকে উদ্দেশ করে কুমন্তব্য করেছে তাদের জন্য আমিও ভাবছি, আইনি লড়াই করব কিনা? তবে একটা কথা বলতে পারেন, এই লোকগুলো গালি না দিয়ে কথা বলতে পারে না কেন? এরাই তো তারা, যাদের কাছে ভাষা উন্মুক্ত? এরাই তো সেই বিপ্ল¬বী? এদের কাছেই তো অভ্রের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা?

২০. আমি এই দেশে তৈরি আরো অনেক সফটওয়্যারের নাম জানি। ব্যবহারও করি। তাদের কোনোটিই জনপ্রিয়তায় বিজয়ের ধারেকাছে নাই। এটাও সত্য। শতকরা ৯০% ব্যবহারকারী বিজয় ছাড়া আর কোনো দেশি সফটওয়্যারের নাম জানেন না। আর আমি কোথাও বলি নাই যে আমি ব্যক্তিগতভাবে পাইরেটেডে সফটওয়্যার ব্যবহার করি। আমি নিজেকে নিয়ে আলাদা করে বলব না বলে বিনয় করে বলেছিলাম আমরা সবাই। আমার ব্যবহার করা প্রতিটি সফটওয়্যার আসল। কারণ আমি যে ব্যবসা করি সেখানে আসল সফটওয়্যার রাখতেই হয়। মাথা কার ঠিক নাই সেটা ১৬০০ কোটি টাকার হিসাবেই বোঝা গেছে।

২১. আমি যাকে প্রশ্ন করেছি বুঝেই করেছি। কার জ্ঞান কতটুকু সেটা বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। আপনার বায়ো ছেপে দেয়ার দরকার ছিল না। তবে আপনার ব্যবসা জ্ঞান নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে আনিসের মতোই। ব্যবসার খরচ কেবল বেতন আর অফিস খরচ, ২০ বছরে ৪০টা ৬ কোটি টাকা আয়ের প্রজেক্ট…….বায়ো না দিলেও বুঝি, আপনার ব্যবসা জ্ঞানের গভীরতা।

২২. যদি সেই বলপয়েন্টের নাম এর অংশ, প্যাকেট কিংবা ডিজাইনের সঙ্গে অন্যেরটা মিলে যায়, তখন আপনি মামলা করতে পারেন। তবে আপনার যে ব্যবসাবুদ্ধি তাতে আপনার পেন বাজারে চলবে না।

সব শেষে আমার লেখাটিকে আবর্জনা বলেছেন। যেটা আবর্জনা সেটা তো আবর্জনাই। সেটা নিয়ে দুই পর্বে লিখে হাজার হাজার শব্দ খরচ করলেন কেন? কেন এত সময় ব্যয়? আপনি লিখেছেন আপনার লেখাতে সব যুক্তি অকাট্য হলেও তবু মানুষ মুখচেনা তুষারকে মূল্য দেবে। আমি মেনে নিচ্ছি আমার কোনো জ্ঞান নাই। আমি মূর্খ। তাই বলে বাংলাদেশের সব মানুষ মূর্খ? তারা আপনার যুক্তি না বুঝে, বিশ্বাস করবে আমাকে?

আমাকে জ্ঞানহীন, প্রলাপে লিপ্ত পাগল, টেকান্ধ, বিজয়ের পা-চাটা, চাটুকার, লেখাটিকে আবর্জনা এতসব বলবার পর কেবল আমি তার্কিক এজন্য আপনি আশাবাদী হয়েছেন। আর কেবল মুখচেনা এই লোকটির কাছে আবার করজোরে অনুরোধও করেছেন। মুখচেনা এই লোকটি হঠাৎ এত মূল্যবান হয়ে গেল লেখার শেষে এসে? আপনার স্ববিরোধিতা এখানেই। যাকে মুখচেনা প্রলাপসর্বস্ব আবর্জনা লেখক বলেন তার কাছে হাতজোড় করতেও পারেন।

আপনার জায়গায় আমি থাকলে সক্রেটিসের বলা কথাটি স্মরণ করতাম। যে মূর্খ সে জানে না সে নিজে মূর্খ আর যে জ্ঞানী সে জানে যে সে নিজে মূর্খ। এবার আপনাকে নিয়ে লিখি।

১. আপনি লিখবেন বলেছিলেন আমার লেখার উত্তর। লিখলেন ব্যবসার হিসাব, সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তার সূত্র, শর্টিংয়ের নিয়ম। যার সঙ্গে আমার লেখার কোনো সম্পর্ক নেই। গরুর রচনা আর কাকে বলে?

২. আপনার কাছে বা আনিস রায়হানের কাছে আমার প্রশ্ন। তর্কটা কোথায়? তর্ক এটি নিয়ে নয় যে সফটওয়্যার হিসেবে কোনটা ভালো? বিজয় না অর্ক? তর্কটা হলো বিজয়ের লেআউট কি কোনো ভাবে আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে? হয়ে থাকলে সেটা কি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন? এ ব্যাপারে আপনারা বলছেন যে, লঙ্ঘন হয়নি। জব্বার বলছেন হয়েছে? রায় দেবে আদালত। অপেক্ষা করতে অসুবিধা কি?

৩. আনিস রায়হান তার প্রতিবেদনে কেন দুটি সফটওয়্যারের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে লিখতে গেলেন? এটার সঙ্গে তর্কের সম্পর্কটা কি?

৪. ভাষা হোক উন্মুক্ত না বলে আপনিও কিন্তু বলেছেন সোনার ছেলেরা সফটওয়্যার উন্মুক্ত করেছে। তাহলে একটা কী-বোর্ড নিয়ে এত হাহুতাশ কেন?

৫. কোনো পণ্য বাজারে থাকলে বা তার পাইরেটেড ভার্সন বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায়। তাই বিজয়ের লেআউটটা উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। এটা মেহেদী হাসান খান বলেছেন বলে সাপ্তাহিকের প্রতিবেদক লিখেছেন। আপনি এই বিষয়ে কিছু বললেন না কেন?

৬. আপনার লেখায় কোথাও আসল দাবির কথা কিছু বলা নাই। আমি কম্পিউটার সম্পর্কে জানি কিনা সেটা প্রমাণ করার চাইতে, যা লিখেছেন সেটা সাধারণ পাঠক বোঝে কিনা সেটাই আসল কথা। তাই আমি আসকি আর ইউনিকোড নিয়ে কিছু বলি নাই। শর্টিং ও সার্চিং নিয়ে কিছু বলি নাই।

৭. আর আমাকে যে গালিগুলো দিয়েছেন সেগুলো প্রমাণ করে আমার শেষ লাইনটির প্রয়োজনীয়তা। গালাগাল করে যত খুশি ব্যান্ডউইথ খরচ করেন। আমি অভদ্রদের সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলি না।

tushar@gatimedia.com

Advertisements
%d bloggers like this: