গুটেনবার্গ থেকে শাইলক – ইশতিয়াক রউফ

2010/05/01 at 11:05 অপরাহ্ন (প্রতিক্রিয়া, যুক্তিপ্রমাণ)

শিরোনামঃ গুটেনবার্গ থেকে শাইলক

লেখকঃ ইশতিয়াক রউফ

সাইটের প্রকৃতিঃ সচলায়তন কমিউনিটি

সময়ঃ(তারিখ: শুক্র, ২০১০-০৪-৩০ ২২:৩৩)

লিংকঃ http://www.sachalayatan.com/ishtiaqrouf/31861

লেখাঃ

প্রকাশনাশিল্পের জনক হিসেবে সুবিদিত ইয়োহানেস গুটেনবার্গের নাম সবাই জানেন। তাঁর কল্যাণে পঞ্চবিংশ শতাব্দিতে মুদ্রণশিল্পে বৈপ্লবিক উন্নতি আসে, শুরু হয় ছাপাখানার যাত্রা। গুটেনবার্গ অগ্রপথিক ছিলেন, পরহিতৈষী নয়। তাঁর কাছ থেকে এমনতর প্রত্যাশাও ছিলো না কারও। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি নিজের উদ্ভাবনকে ব্যবসায়িক ভাবে প্রয়োগের প্রয়াস পেয়েছেন, এবং সে-কারণে তাঁকে কেউ কটাক্ষ করে না। তাঁর ব্যবসার জন্য যা মঙ্গল, সর্বসাধারণের জন্যও তা মঙ্গল ছিলো। বাংলা প্রকাশনাজগতে মোস্তফা জব্বার ও বিজয় নিয়েও একই কথা বলা যায়।

কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যার প্রণয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর আগে-পরে অনেকেই বাংলা কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু তাঁর মাপের সাফল্য তেমন কেউ অর্জন করতে পারেননি। তিনি মুদ্রণ জগতে বাংলার প্রচলনে ভূমিকা রেখেছেন, বাংলা লে-আউট প্রণয়ন করেছেন, বিভিন্ন গ্রাফিক্স সফটওয়্যারে বাংলা ব্যবহার সহজ করেছেন, কম্পিউটার আমদানিকে শুল্কমুক্ত করতে দেন-দরবার করেছেন। ছিদ্রান্বেষণ করতে চাইলে অনেক কিছু বলা যায়, কিন্তু তাঁর এই অবদানগুলোর আলোকে তাঁকে কেউ বাংলাদেশের গুটেনবার্গ ডেকে থাকলে তা খুব অন্যায্য আচরণ হবে না। তিনি কত লাইন কোড লিখেছেন কিংবা কোন বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন, তা অবান্তর। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলা কম্পিউটিং-এর অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব ছিলেন, এটাই বিবেচ্য।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এই উচ্চাসন থেকে মোস্তফা জব্বারের পতন হয়েছে। ‘অভ্র বনাম বিজয়’ বিতর্ক অনেক দূর এগিয়েছে এই ক’দিনে। চোখ-কান খোলা আছে, এমন সবাই জানেন এ-কথা। শুরুটা বেশ স্পষ্ট – দৈনিক জনকণ্ঠে মোস্তফা জব্বারের একটি লেখা। তবে ঘটনাপ্রবাহে আজকে দ্বন্দ্বের মূল জায়গাটি অস্পষ্ট হয়ে গেছে কিছুটা, কারণ এই বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ আগুন ধরিয়েছে ছড়িয়ে থাকা অনেক রকম বারুদে। মুদ্রণ জগত বনাম আন্তর্জাল, প্রবীন বনাম নবীন, ব্যবসায়িক বনাম অলাভজনক উদ্যোগ, ফিক্সড বনাম ফোনেটিক, ইত্যাদি অনেক দ্বন্দ্বের মাঝে মূল বিষয়টি হারিয়ে গেছে। ভিন্ন মত বা পথের সন্ধান দিলেই বার্ধক্যের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় প্রচলিত প্রতিষ্ঠানাদি তথা হাইকোর্ট দেখানো। প্রবীন প্রজন্মের সদস্যরা সেই পথে হাঁটছেন, পত্রিকার পাতায় অভ্র টিমের প্রতীক মেহদী হাসান খান পাচ্ছেন “চোর”, “দস্যু” ও “ডাকাত”-এর অভিধা। পক্ষান্তরে, তারুণ্যের সব অনুভূতিই নিরেট, নিখাদ, সমস্বত্ত্ব। কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্বত্ত্বতা যুক্তি ও বিবেক বিসর্জন দিয়ে আবেগের দেবতার কাছে সমর্পণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে আন্তর্জালের প্রতিবাদগুলো এক পর্যায়ে উদ্ভাবনী না হয়ে অমার্জিত হচ্ছে বেশি। ফেসবুক কিংবা পত্রিকার ওয়েব পাতায় কেউ তাঁর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাচ্ছেন, কেউ তাঁকে বিবিধ প্রাণীর খাবার হিসেবে পরিবেশন করছেন, ইত্যাদি। কিছু ছাগসমাজের-অর্জুন এই সুযোগে নিজেদের বিলুপ্ত সফটওয়্যারকে প্রচলিত করার বাসনায় রটাচ্ছেন যে অভ্র নিকট ভবিষ্যতে আর বিনামূল্য থাকছে না, ইত্যাদি।

এই ডামাডোলে দু’টি পক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে যারা পরষ্পরের কোনো অবদানই স্বীকার করে না। সে-কারণেই আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন, বিজয় কিংবা লে-আউট নিয়ে নয়, ক্ষোভের কারণ অভ্র ও মেহদীর বিরুদ্ধে একের পর এক পত্রিকায় মোস্তফা জব্বারের আক্রমণাত্মক প্রচারণা।

আক্রমণের ধারা থেকে ধারণা করা যায়, ‘বিজয়’ ব্যবসায়িক ভাবে বিপণ্ন বোধ করছে প্রতিযোগী একটি লে-আউটের কারণে। মোস্তফা জব্বার কারণ দেখাচ্ছেন, অভ্রের কারণে তাঁর ৫ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে, জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থান ইউএনডিপি এর সাথে জড়িত, অভ্র ব্যবহার করার কারণে জেলায় জেলায় কম্পিউটার হ্যাকিং হচ্ছে, ইত্যাদি। শেষ অভিযোগটি মূর্খতার নামান্তর, তাই সে-প্রসঙ্গ থেকে বিরত থাকছি। মূল প্রশ্ন হলো, এত বছর পর আজ কেন মোস্তফা জব্বার এতটা আতংকিত? এর পেছনে মেধাস্বত্ব নয়, আছে ব্যবসায়িক অভিলাষ। কারিগরী কচকচি নয়, এই দিকটি স্পষ্ট করে দেওয়াই এই লেখার প্রতিপাদ্য।

মোস্তফা জব্বার আগ বাড়িয়ে কিছু অভিযোগ এনেছেন অভ্রের নামে। সেখানেই নেটিজেনদের আপত্তি শুরু। অভ্র একটি বিনামূল্য সফটওয়্যার হওয়ায় এর প্রচার অনেক, ব্যবহারবান্ধব হওয়ায় এর অনুরাগী প্রচুর, এবং অভ্রের ডেভেলপাররা অনুকরণীয় মাত্রায় নির্বিরোধ হওয়ায় তাঁদের হয়ে অনেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবাদী হয়েছেন। প্রতিবাদ বাড়তে থাকলে মোস্তফা জব্বার ক্রমে আবেগী কথাবার্তায় সরে আসেন, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিষয় তুলে আনেন, ৫ কোটি টাকার কথা বেমালুম চেপে গিয়ে একে “কিছু টাকা” লেখেন। সবশেষে তিনি আসেন আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে। এই লড়াইয়ে আইন সম্পূর্ণ তাঁর পক্ষে নয় বলেই তিনি গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেন নাম ধরে মেহদী হাসান খানকে দস্যুবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।

যুক্তি, নীতিমালা, ও আইনের বিচারের জন্য পৃথক পৃথক গোষ্ঠী আছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে যাওয়া প্রতি-বিজয় দাবানল নেভানোর উপায় একটাই – গণমাধ্যমে মোস্তফা জব্বার তাঁর ভুল স্বীকার করে নেওয়া, বিনা উষ্কানিতে পুত্রতুল্য বয়সী একটি ছেলে সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। সাময়িক ভাবে চাপা থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে সঞ্চিত ক্ষোভ চলে যাওয়ার নয়। তিনি যেকোন আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই এই ক্ষোভ আবার সম্মুখসারিতে চলে আসবে।

পানি যতদূর গড়িয়েছে, তাতে উল্লেখিত পথে কোনো সমাধান আশা করা একটু বেশিই উচ্চাকাঙ্খা হয়ে যায়। সে-কারণেই যৌক্তিক ও আইনি কাঠামোতে অভিযোগগুলোর বিবেচনা প্রাসঙ্গিক।

কপিরাইট-সংরক্ষিত ও প্যাটেন্টকৃত হওয়ায় মোস্তফা জব্বার অভিযোগ করছেন যে তাঁর সফটওয়্যারের “আংশিক বা পূর্ণ” অনুকরণ আইনত নিষিদ্ধ। তিনি আরও দাবি করছেন যে অভ্রে ব্যবহৃত ইউনিবিজয় লে-আউটের সাথে বিজয় লে-আউটের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকায় তা কপিরাইটের লঙ্ঘন। ইউনিবিজয় তৈরির প্রক্রিয়াকে তিনি “চোখে ধুলো দেওয়া” বলেছেন, অভ্রের সাথে এর বাজারজাতকরণকে বলেছেন “পাইরেসি” বা দস্যুতা। অভিযোগনামায় কিছু শব্দ ভুল ভাবে প্রযুক্ত হয়েছে। অভিযোগ ও প্রতিবাদের নির্যাসে যাওয়ার পূর্বে এই ভুলগুলো নিয়ে আলোকপাত প্রয়োজন।

উদাহরণ হিসেবে প্রখ্যাত ফুটবলার ডেভিড বেকহাম এবং তাঁর বাঁকানো ফ্রি-কিক ও ক্রসগুলোর কথা ধরা যাক। বাঁকানো ক্রস একটি ধারণা, যা বাস্তবায়নের জন্য নানান রকম প্রক্রিয়া আছে। অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় বেকহামের প্রক্রিয়াটি উন্নত। তিনি বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে একে “বেন্ড ইট লাইক বেকহাম” নাম দিতে পারেন। এটি তাঁর কপিরাইট, কেউ এই নামটি ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। আইনের বইগুলো অনেক বিস্তারিত ও বিরক্তিকর হওয়ার একটি মূল কারণ হলো, আইনের ভাষা খুব সংকীর্ণ। এতে কোনো ধরনের অনুভবগ্রাহ্যতা নেই, আছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কিছু সংকীর্ণ সংজ্ঞা। ফলস্বরূপ, অন্য কেউ “বেন্ড ইট লাইক বেকহাম” নামটি ব্যবহার করতে না পারলেও এরূপ নামকরণের ধারণাটি কাজে লাগাতে পারেন নির্বিঘ্নে। এ-কারণেই “স্বামী কেন আসামী”র অনুকরণে “বাবা কেন চাকর” নামকরণ করলে তা কপিরাইট লঙ্ঘন হয় না। একই ভাবে “বেন্ড ইট লাইক বেকহাম”-এর অনুকরণে “টুইস্ট ইট লাইক আলফাজ”, “ডক্টর পেপার”-এর অনুকরণে “মিস্টার পিব”, কিংবা “বিজয়”-এর অনুকরণে “ইউনিবিজয়” লিখলে তাতে কপিরাইট লঙ্ঘন হয় না। সমার্থক ও সমোচ্চারিত হাজারো নাম কপিরাইট-সংরক্ষিত করা হলেও লখিন্দরের বাসরের মতো কোনো না কোনো ফাঁক গলে প্রতিযোগী একটি নাম এসে পড়ে। সে-সময় অনুযোগ না করে প্রতিযোগিতায় মনোনিবেশই বুদ্ধিমানের কাজ।

এবার আসা যাক প্যাটেন্ট প্রসঙ্গে। ধরা যাক বেকহাম তাঁর বাঁকানো ফ্রি-কিক নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বাজারজাত করতে চাইছেন। বাজার মানেই হাজারও ঠগের আস্তানা। নিজের উদ্ভাবনকে বাজারে নিয়ে গেলে তাই চুরির ভয় আছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তার কিছু নিরাপত্তা প্রয়োজন, ঠগদের দূরে রাখার মতো একটি ‘বড় ভাই’ প্রয়োজন। বৃহত্তর স্বার্থে রাষ্ট্র এই সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। উদ্ভাবক তাঁর সৃষ্টির পেছনের রহস্য রাষ্ট্রের কাছে উন্মুক্ত করে দেন, বিনিময়ে রাষ্ট্র ঐ উদ্যোক্তাকে প্যাটেন্টকৃত পণ্য বাজারজাতকরণের পূর্ণ অধিকার দেয়। অতএব, বাঁকানো ফ্রি-কিকের বিপণন করতে হলে রাষ্ট্রের কাছে বেকহাম প্রকাশ করতে বাধ্য যে খেলার আগে দু’খানা ডিম না খেলে তাঁর ফ্রি-কিকগুলো ঠিকঠাক বাঁক নেয় না।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্র এখানে শুধুই অনুমতি দেয় না, নিরপেক্ষ তুলনাও করে থাকে। ধরা যাক শেখ মোহাম্মদ আসলাম হুবহু একই রকম বাঁকানো ফ্রি-কিক নিতে পারেন, এবং তিনিও তাঁর এই প্রক্রিয়াকে বাজারজাত করতে চান “আসলামপুর” নামে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র খতিয়ে দেখবে আসলামও দু’খানা ডিম খেয়ে এই ফ্রি-কিক নিয়ে থাকেন কিনা। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবে উদ্ভাবিত হওয়ার পরও আসলাম তাঁর ফ্রি-কিকের স্বত্ব পাবেন না। বাজারজাতকরণের জন্য তাঁকে অন্য কোনো কিছু তৈরি করতে হবে। পক্ষান্তরে, যদি রাষ্ট্র খতিয়ে দেখে যে আসলামের এই বাঁকানো ফ্রি-কিকের মূলে আছে লাইফবয় সাবান, তাহলে আসলাম তাঁর পণ্য বাজারজাত করতে পারেন। বাহ্যত দেখতে অভিন্ন হলেও তাঁর অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া ভিন্ন। যদিওবা বাঁকানো ফ্রি-কিকের ধারণা তিনি বেকহামকে দেখে পেয়ে থাকেন, তবুও তাঁর নিজস্ব প্রক্রিয়া স্বীকৃতি পাবে প্যাটেন্ট করবার সময়। অতএব, অভ্রকে বিজয় বা এর কোনো অংশের অনুকরণ বলে দাবি করলে রাষ্ট্র খুব সহজেই দুইয়ের সোর্স কোড ঘেঁটে মিলের পরিমাণ অনুসন্ধান করতে পারে।

এই তুচ্ছ উদাহরণের উদ্দেশ্য ছিলো অভ্রের বিরুদ্ধে একটি মুখ্য অভিযোগ সম্পর্কে আলোকপাতের পটভূমি তৈরি করা। অভিযোগটি হলো, বিজয়ের তুলনায় অভ্রে যথেষ্ট পরিমাণ পার্থক্য নেই। মেহদী হাসান খান জানিয়েছেন যে বিজয়ের তুলনায় অভ্রের ইউনিবিজয়ে ৮টি পার্থক্য আছে। মোস্তফা জব্বার দাবি করছেন যে এই পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন হলো, আইনের চোখে পার্থক্য কিংবা পরিবর্তনের সংজ্ঞা কী?

যেকোন প্রযুক্তি বা প্রক্রিয়া প্যাটেন্ট করতে গেলে তা খুব সংকীর্ণ ও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করতে হয়। প্যাটেন্ট যেমন এক উদ্ভাবকের সৃষ্টিকে নিরাপত্তা দেয়, তেমনি অন্য উদ্ভাবকের পথ বন্ধ করে দেওয়াও রোধ করে। সে-কারণেই কেউ চাইলেই বাংলা ভাষার সকল শব্দ নিজের নামে কপিরাইট করতে পারেন না, কিংবা বাংলা বর্ণমালার সকল রকম সম্ভাব্য বিন্যাসকে কুক্ষীগত করতে পারেন না। বিজয়ের সাথে বাহ্য সাদৃশ্য থাকলেই তাই অন্য কোনো লে-আউট চুরির মাল হয়ে যায় না। খুব নির্দিষ্ট একটি লে-আউট ‘বিজয়’ নামে প্যাটেন্টকৃত। এর তুলনায় চুল পরিমাণ ভিন্নতা থাকলেও তা নতুন, যদি না নির্দিষ্ট ঐ লে-আউটটিও মোস্তফা জব্বারের প্যাটেন্ট করা থেকে থাকে। স্রেফ আপাত-সাদৃশ্যের দোহাই দিয়ে বর্ণমালার সকল সম্ভাব্য বিন্যাসকে রুদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয়।

বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গে উন্নতি একটি ক্রমযোজিত ধারণা। অতএব, “সম্পূর্ণ বা আংশিক” অনুকরণের নামে পূর্বের কাজকে বাতিল করা যায় না, বিজ্ঞানের অগ্রগতির পথে দেওয়াল তুলে দেওয়া যায় না। এ-কারণেই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়, উদ্ভাবনকে গতিশীল রাখতে হয়, পরিবর্তনকে শতাংশ দিয়ে বিচার করে ভবিষ্যতের দ্বার রুদ্ধ করে রাখা যায় না। শতাংশের বিচারে পরিবর্তন কতটা অচল ধারণা, তা বোঝাতে দু’টি ছোট উদাহরণ দেওয়া যায়। অধমের ধর্মপত্নী বানরের এইডস নিয়ে কাজ করে। কাঠখোট্টা ভাষায় বললে সিমিয়ান ইমিউনো ভাইরাস। অধমকে লেখা একটি এক-লাইনের চিঠিতে বৌ লিখেছিলো – “বানর আর মানুষের ডিএনএ-তে ৯৫% মিল আছে, তবে আমি তবুও ভালোবাসি তোমাকে”। হায়, আস্ত ৫ শতাংশ ভিন্নতা সত্বেও মাফ পেলাম না।

অন্য উদাহরণটি পত্রিকায় পাতায় পেশকৃত একটি অভিযোগের আলোকে দিচ্ছি। প্রশ্ন করা হয়েছে, নজরুলে কবিতায় একটা লাইন নিজে থেকে জুড়ে দিলেই কি তা নিজের হয়ে যাবে? এ-প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় রিটন ভাইয়ের লেখা “আলো আমার আলো” কবিতাটি স্মরণ করা যায়। রবি ঠাকুরের লেখা লাইনগুলোর সাথে নিজের লাইন জুড়ে তিনি বুনেছিলেন তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

“আলো, আমার আলো, ওগো আলো ভুবন ভরা
সেই আলোতে গান কবিতা গল্প ছবি ছড়া।

আলো নয়ন-ধোওয়া আমার আলো হৃদয়হরা
রবির আলোয় উদ্ভাসিত প্রিয় বসুন্ধরা

নাচে আলো নাচে–ওভাই আমার প্রাণের কাছে,
নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে আমার রবীন্দ্রনাথ আছে।”

এই কবিতার স্বত্ব লুৎফর রহমান রিটনের এবং এতে তিনি রবি ঠাকুরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন কবিতাটির ধারণার জন্য। অভ্রও কি বিজয়কে অনুরূপ স্বীকৃতি দেয়নি ইউনিবিজয় প্রবর্তনের ক্ষেত্রে? সেখানে কি অনুরূপ ভিন্নতা নেই? যদি তা-ও যথেষ্ট না হয়, তবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় প্যাটেন্ট আইনেরই আরেকটি দিক সম্পর্কে, যা সাধারণ জ্ঞানলব্ধ কোনো কিছুকে কুক্ষীগত করা প্রতিহত করে। ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি বিচারে কি-বোর্ড লে-আউট প্রবর্তন একটি শতবর্ষপুরনো ধারণা, যার প্রয়োগ প্রচলিত সব কি-বোর্ডেই বিদ্যমান।

আইনের কচকচিতে যেতে চাইলে আরও একটি বিষয় তুলে আনা যায়। বিজয় লে-আউট প্রাথমিক অবস্থায় কপিরাইট-সংরক্ষিত করা হয়েছিলো “সাহিত্য” হিসেবে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, বা মূল্যবোধের মতো নিরাবয়ব বস্তুকে আইনের শাসনে বন্দী করা দুষ্কর। দ্বিতীয়ত, সে-সময় প্যাটেন্টকৃত হলেও তা ২০ বছর পর কার্যকর থাকতো না। আরও বলা যায়, বিসিসি কর্তৃক প্রণীত ‘জাতীয়’ লে-আউটের সাথেও কিন্তু ইউনিবিজয়ের মিল একই পরিমাণ, কারণ বিজয় ও জাতীয় লে-আউট দুটোয় স্রেফ ইংরেজি এফ এবং জে বাটনদ্বয়ের স্থানান্তর হয়েছে।

এই বিষয়গুলো মোস্তফা জব্বারেরও অজানা নয়। আইনী লড়াইয়ের পথে অনেক বাধা, তাই তিনি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমে কুৎসা রটনায় নেমেছেন। বিনা প্রমাণে এমনতর কটুক্তি ছড়ানো বরং আইনত দণ্ডনীয়। মূল গাত্রদাহ তাই কপিরাইটে নয়, নির্বাচন কমিশনের ৫ কোটি টাকা বাগাতে না পারা। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নের সংবাদে তিনি ব্যবসার সুযোগ দেখেন, সামান্য লে-আউটের জন্য কম্পিউটারপ্রতি ৫০০০ টাকা হেঁকে বসেন। মুক্তবাজারের কথা এসেছে মোস্তফা জব্বারের বিভিন্ন লেখায়। পশ্চিমা যেকোন দেশে এমনটি করলে তিনি প্রাইস-গাউজিং, ম্যালপ্র্যাকটিস, কিংবা অ্যান্টিট্রাস্টের দায়ে ফেঁসে যেতেন। খোলা বাজারে আজ উইন্ডোজ-৭ কিনতে পাওয়া যায় এর চেয়ে কম দামে। পাশাপাশি তিনি হার্ডওয়্যার বিক্রি করেও অর্থ উপার্জন করতেন, করেছেন। এক কালের গুটেনবার্গ এভাবেই দশকের পর দশক ধরে অর্জিত সহানুভূতি বিকিয়ে দিয়ে শাইলক হয়ে গেছেন।

৮টি বর্ণে ভিন্নতাকে যদি মোস্তফা জব্বার “চোখে ধুলো দেওয়া” ভেবে থাকেন তবে তা-ই। তাঁর এই দাবিতে অনুযোগ করার মতো সত্য আছে, নেই অভিযোগ করার মতো আইনী জোর। তিনি শাইলকের মতো আমাদের বাংলা লেখার অধিকারের হৃদপিণ্ড থেকে “পাউন্ড অফ ফ্লেশ” চেয়েছেন, এই ৮টি বর্ণ তাঁর শাইলক-সুলভ আচরণ থেকে আমাদের রক্ষা করেছে। মাংসের তুলনায় রক্ত বড় তুচ্ছ, বর্গীয় বর্ণের তুলনায় খণ্ড-ত থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বর্ণগুলোও তাই। তবু এই ক্ষুদ্র বর্ণগুলোই উপকারী গুটেনবার্গ থেকে স্বার্থান্বেষী শাইলক হয়ে যাওয়া মোস্তফা জব্বারের হাত থেকে অভ্রকে চূড়ান্ত নিরাপত্তা দিয়েছে।

বাংলা কম্পিউটিং-এর পথিকৃত হিসেবে মোস্তফা জব্বারের উপলব্ধির সময় এসেছে যে স্রেফ উচ্চমূল্যে লে-আউট বিক্রি করে তিনি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। বাংলা কম্পিউটিং-কে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে তাঁর। সেদিকেই মনোনিবেশ করা জরুরী। তাঁর ‘বিজয়’ লে-আউটে অনেকেই অভ্যস্ত। এ-যুক্তি খুবই ঠিক যে ইংরেজি হরফে বাংলা লেখা কখনও সম্মানজনক সমাধান হতে পারে না। ফোনেটিক লে-আউট অনভ্যস্ত প্রজন্মের জন্য একটি স্টপ-গ্যাপ সমাধান মাত্র। তিনি তাঁর বিজয় লে-আউটকে উন্মুক্ত করে দিতে পারেন, যাতে আগামী প্রজন্ম তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। একটি অভ্যস্ত গ্রাহকগোষ্ঠী থাকলে তাঁর ব্যবসাও উপকৃত হবে।

ইউনিকোডের যুগে আমাদের আসকি-তে আটকে না রেখে তিনি নিজেও এতে পদার্পণ করতে পারেন। অভ্র এক্ষেত্রে তাঁর পথ আগলে রাখবে না, বরং স্বাগত জানাবে। বিজয়ের আছে অগণিত দারুণ ফন্ট। বাংলা প্রকাশনা জগতকে ইউনিকোডে নিয়ে আসতে তিনি অগ্রণী হতে পারেন। বিজয়ের ফন্টগুলো ইউনিকোডে রূপান্তরিত করে (যৌক্তিক দামে) বাজারজাত করতে পারেন। বহুকাল ধরে প্রকাশনাশিল্পে ব্যবহৃত হওয়ায় বিজয়ে ব্যবহার্য বাংলা অভিধান ও স্পেলচেকার তৈরি হয়ে আছে। সেগুলো তিনি ইউনিকোডে রূপান্তরিত করে (যৌক্তিক দামে) বাজারজাত করতে পারেন। বাংলা ভাষাকে টিকে থাকতে হলে এর ব্যাকরণকেও টিকে থাকতে হবে। ফোনেটিক কি-বোর্ড ব্যবহার করলে ব্যাকরণ না জেনেও “শুদ্ধ” বাংলা লেখা যায়। ব্যাকরণ জেনে শুদ্ধ বাংলা লেখা প্রচলিত করতে একটি নিজস্ব কি-বোর্ড প্রয়োজন। বিজয় এক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী স্থান গড়ে নিতে পারে।

যে-শক্তি তিনি অহেতুক অপচয় করছেন অভ্রকে গালমন্দ করে, তা গঠনমূলক কোনো কাজে ব্যবহার করলে এখনও সুযোগ আছে স্বীয় সম্মান ধরে রাখার। নয়তো উঠতি প্রজন্ম হেলাভরে “খুদাপেজ” দিয়ে দেবে দ্বিতীয় চিন্তা না করেই।

ভাষা উন্মুক্ত হবেই।

Advertisements

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

মোস্তফা জব্বার, যদি মনে করেন ‘অভ্র’ বিজয়ের পাইরেটেড, মেহদী বিজয় হ্যাক করে অভ্র বানিয়েছে, তাহলে তা প্রমাণ করুন

2010/04/22 at 4:38 অপরাহ্ন (প্রতিক্রিয়া)

শিরোনামঃ মোস্তফা জব্বার, যদি মনে করেন ‘অভ্র’ বিজয়ের পাইরেটেড, মেহদী বিজয় হ্যাক করে অভ্র বানিয়েছে, তাহলে তা প্রমাণ করুন

লেখকঃ লোকেন বোস

সাইটের প্রকৃতিঃ আমরা বন্ধু কমিউনিটি

সময়ঃ এপ্রিল ১৭, ২০১০ – ২:৩১ অপরাহ্ন

লিংকঃ http://tinyurl.com/y7urd3e

লেখাঃ

কম্পিউটারে বাংলা লেখায় বিজয় মাইল ফলক হয়ে এসেছিলো। বিজয়ের অবদানকে অস্বীকার করার কিছু নেই। এখনো প্রফেশনাল প্রিন্টিংয়ের কাজে বিজয়ের বিকল্প নেই।

কিন্তু ইন্টারনেটের এই প্রসারের যুগে বিজয় ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। ইউনিকোডের যুগে বিজয় চলে না। তাই নতুন সময়ের দাবীতেই এলো অভ্র। মেহদী হাসান খান নামের এক তরুণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করলেন অভ্র নামক একটি সফটওয়্যার। এবং যা তিনি বিনামূল্যে ছড়িয়ে দিলেন সমস্ত বিশ্বে। যে কেউ চাইলেই এই সফটওয়্যার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

অভ্রর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গেছে বিজয় বর্জন। এখন অনেক কম্পিউটারেই বিজয়ের লেশ মাত্র নেই।
মূলত ইউনিকোড ভিত্তিক হওয়ায় ইন্টারনেটে লেখালেখির সুবিধা আর ফোনেটিক পদ্ধতিতে লেখার সুযোগ, এই দুটো কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে অভ্র খুব সহজেই জনপ্রিয় হয়ে গেলো।
আর তার চেয়ে বড় কথা, যারা টাইপিং অসুবিধার জন্য বাংলায় লিখতে পারত না, রোমান হরফে বাংলা লেখার মত একটা জঘন্য স্টাইল চালু হয়েছিল, অভ্র তাদের জন্য এলো আশীর্বাদ হয়ে।

অভ্র না থাকলে বাংলা ভাষায় রোমান হরফ চর্চা আজকে কোথায় চলে যেত, সেটা ভাবনার বিষয়। কিন্তু এখন ব্লগ, ফেসবুক, চ্যাটরুম সবখানে অভ্র দিয়ে বাংলা লেখা হচ্ছে। ধীরে ধীরে রোমান হরফে বাংলা লেখার চর্চা বাদ দিয়ে তরুণ প্রজন্ম প্রাণের ভাষা বাংলাতেই ইন্টারনেট চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য অবশ্যই কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ অভ্রর প্রতি, অমিক্রনল্যাব-এর প্রতি। এবং অবশ্যই মেহদী হাসান খান-এর প্রতি।

এক বিজয় কাঁধে নিয়ে মোস্তফা জব্বার বাংলাদেশের আইটি সেক্টরের প্রধান বিশেষজ্ঞের গদিনশীন হয়েছেন। পত্রিকাগুলোতে উপসম্পাদকীয় লিখে চলেছেন। সরকারকে আইটি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের দেশের সরকার আইটি বান্ধব না। জানার পরিধি কম, তাই মোস্তফা জব্বার যা বলেন তাই বিশেষজ্ঞীয় বলে মেনে নেন। আমাদের দেশের আপামর জনতা আরো বেশি আইটি অবান্ধব। মোস্তফা জব্বারের লেখাকেই তারা সত্য ভেবে বসে থাকেন।

কিন্তু আমরা জানি, জব্বার সাহেব সর্বদা সত্য কথা বলেন না, ভুল বা মিথ্যে বলেন অনেক ক্ষেত্রেই। সম্প্রতি যেমন বলেছেন এই লেখাটিতে

এখানে তিনি অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলেছেন। এটা ভুল না, মিথ্যে কথা। একজন আইটি বিশেষজ্ঞ [!] জানেন না মুক্ত সফটওয়্যার হলেই সেটা পাইরেটেড হয়ে যায় না।

এই লেখাটি নিয়ে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগ সাইটে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশই উপহাসমূলক। কিন্তু মোস্তফা জব্বার শুধু মিথ্যে বলেননি, এটা একটা কূটকৌশল। অভ্রকে বলেছেন পাইরেটেড সফটওয়্যার, যা বিজয় হ্যাক করে করা হয়েছে এবং এর নির্মাতা অর্থাৎ মেহদীকে বলেছেন হ্যাকার।

অভিযোগ কিন্তু মোটেও ফেলনা নয়। গুরুতর। একই সঙ্গে তিনি হ্যাকারদের কারণে যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এসব বলছেন। সরকারী অনেকগুলো সাইট হ্যাক হয়ে যাচ্ছে, র‌্যাবের সাইট হ্যাক হয়েছে, এসব তথ্য দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে হ্যাকার নির্মূল অভিযানের জন্য সরকারকে প্ররোচিতই করলেন। এখন সরকার যদি দেশের প্রধান আইটি বিশেষজ্ঞ [!] মোস্তফা জব্বারের কলাম পড়ে হ্যাকার ধরতে নামে তখন মেহদীর কী হবে?

এখন প্রশ্ন হলো তিনি কি সত্যি জানেন না নাকি ইচ্ছে করে এই মিথ্যাচার?

জানা কথা অভ্রর এই বিপুল জনপ্রিয়তায় বিজয় তলানীতে আশ্রয় নিচ্ছে। এতবছরের জীবনে বিজয় আর বড় বড় কথা ছাড়া মোস্তফা জব্বারের আর কোনো কীর্তি নেই। এই জাতিকে যে তিনি নতুন আর কিছুই দিতে পারবেন না, সেটা নিশ্চিত। বিজয়ের জায়গা অভ্র নিয়ে নিলে সেটা মোস্তফা জব্বারের অস্তিত্ব নিয়েই টান দেবে। ব্যবসায়িক ক্ষতি তো আছেই।

মোস্তফা জব্বার শঙ্কিত। তাই এই মিথ্যাচার। নির্বাচন কমিশন যখন ভোটার আইডির কাজে বিজয় না ব্যবহার করে অভ্র ব্যবহার করলো, তখনই তার গাত্রদাহ প্রবল হয়েছিলো। এমনকী সরকারকে ভুল বুঝিয়ে কিবোর্ড লেআউটের কপিরাইটও তিনি নিজের নামে করিয়ে নেন। যা অবৈধ। আর পাশাপাশি নিজের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অভ্রর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। আর এই করে করে তিনি নিজেই নিজেকে হাস্যকর প্রমাণ করছেন, আমাদের যেখানে উনাকে শ্রদ্ধা করার কথা ছিলো, সেখানে এখন তার প্রতি ঘৃণা তৈরি হচ্ছে। নতুন মেধাকে উদারতার সঙ্গেই গ্রহণ করা উচিত ছিলো তার। না করে বেছে নিলেন নোঙড়া পথ। মেহদীর উদারতা দেখেও লোকটা কিছুই শিখলো না।

অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলায় অভ্রর হয়তো কিছুই যাবে আসবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা অভ্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না, তারা একে পাইরেটেডই জানবেন! সরকারও মেনে নেবেন অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে। আর সব মিলিয়ে মেধাবী, নির্লোভ মেহদী হাসান খান চোর হিসেবে চিহ্নিত হবেন!

শুধু বিজয় নিয়ে মোস্তফা জব্বার একাধারে ব্যবসা আর খ্যাতি দুই-ই কামিয়েছেন। আর তরুণ মেধাবী মেহদী হাসান খান ব্যবসা তো করতেই চাননি, খ্যাতিকেও উল্টো সরিয়ে রাখেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটা নিজে কখনোই কিছু করবেন না বলে শুনেছি। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব এবং কর্তব্য অভ্র, মেহদীর কীর্তির কথা প্রচার করা।

মোস্তফা জব্বারের এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ আমরা দায়িত্বের সঙ্গেই করবো। পাশাপাশি প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানাবো। মোস্তফা জব্বার, হয় আপনি আপনার কথা প্রমাণ করুন। প্রমাণ করুন যে অভ্র একটি পাইরেটেড সফটওয়্যার, মেহদী হাসান খান একজন হ্যাকার। নতুবা ক্ষমা প্রার্থণা করুন প্রকাশ্যে।

শ্রদ্ধা জানাই মেহদী হাসান খান এবং অভ্র টিমের প্রতিটি কর্মীকে। যারা একেবারেই কোনো লাভের আশা ছাড়া শুধু আমাদের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

স্যালুট জানাই মেহদী হাসান খান আপনাকে
জানবেন, আমরা আপনার পাশে আছি, থাকবো।

পার্মালিঙ্ক মোস্তফা জব্বার, যদি মনে করেন ‘অভ্র’ বিজয়ের পাইরেটেড, মেহদী বিজয় হ্যাক করে অভ্র বানিয়েছে, তাহলে তা প্রমাণ করুন তে মন্তব্য বন্ধ

অভ্রকে পাইরেটেড বলার কারণ বিশ্লেষণ ও একটি দাবী

2010/04/22 at 12:59 পুর্বাহ্ন (প্রতিক্রিয়া, যুক্তিপ্রমাণ)

শিরোনামঃ অভ্র বিজয় লেআউট ব্যবহার করেছে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট

লেখকঃ সিউল রায়হান

সাইটের প্রকৃতিঃ ব্লগ (সচলায়তন ও সামহোয়্যারিন)

সময়ঃ ১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৪

লিংকঃ
http://www.sachalayatan.com/guest_writer/31568

লেখাঃ

খুব গুরুতর একটা অভিযোগ করেছেন মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেছেন, “অভ্র নামক একটি পাইরেটেড বাংলা সফটওয়্যারকে নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ইউএনডিপির অবদান সবচেয়ে বেশি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন সেলের ওয়েবসাইট হ্যাক হলে তার দায় থেকেও ইউএনডিপিকে ছাড় দেয়া যায় না।” সামারাইজ করে বলা যায় এখানে তার পয়েন্ট হল:

১) সরকারী ওয়েবসাইট গঠনে পাইরেটেড সফটওয়ার ব্যবহার হয়েছে যা পুরো ব্যাপারটিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ।
২) অভ্র একটি পাইরেটেড সফটওয়ার। সাম্প্রতিককালে সংগঠিত হ্যাকিং গুলিতে এইসব সফটওয়ারের ভূমিকা রয়েছে।
৩) যেখানে বিজয়ের মত একটি সফটওয়ার গর্ভমেন্ট টাকা দিয়ে কিনতে পারতো সেখানে অভ্রের মত ফ্রি একটা সফটওয়ার বেছে নিয়ে সরকার চরম নির্বুদ্ধিতা দেখিয়েছে।
৪) ইউএনডিপি’র মত প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় এরকম অবৈধ/পাইরেটেড জিনিসকে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।

মোটামুটি এই হল জব্বার কাগু’র পয়েন্ট। এখন আসুন ওর কথাকে বিশ্লেষণ করি এবং কোন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই। প্রথমেই জানতে হবে হ্যাকিং কি কি ভাবে হয়। সহজভাবে বলতে গেলে হ্যাকিং ২ভাবে হতে পারে: (১) কোড হ্যাক && (২) সার্ভার হ্যাক।
কোড হ্যাক হল কোন প্রোগ্রামের এমন একটি স্টেট আবিস্কার করে সেটাকে ব্যবহার করা যেই স্টেটটির উপস্থিতি কাঙ্ক্ষিত ছিল না। যেমন: আপনি একটি ব্যাংকিং সফটওয়ার এমনভাবে বানালেন যে যখন ব্যবহারকারী অনুরোধ করে x পরিমাণ টাকা তোলার জন্যে আপনি অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স থেকে x পরিমাণ টাকা বিয়োগ করে দিবেন। অর্থাৎ সূত্রটি হল: নতুন ব্যালেন্স= পুরাতন ব্যালেন্স – x টাকা……….
কিন্তু কেউ আবিস্কার করে ফেললো ব্যবহারকারী যখন x এর ভ্যালু ইনপুট দিচ্ছেন তখন তিনি চাইলে নেগেটিভ ভ্যালু ইনপুট দিতে পারেন। ফলে সেক্ষেত্রে সূত্রটি হয়ে যাচ্ছে:
নতুন ব্যালেন্স= পুরাতন ব্যালেন্স – (-x) টাকা
অথবা, নতুন ব্যালেন্স= পুরাতন ব্যালেন্স + x টাকা (মানে টাকা কাটার বদলে উল্টো যোগ হয়ে যাচ্ছে)
এটা হল হ্যাকিং কারণ আপনি একটি সফটওয়ারের কোন ভুল বের করেছেন ও সেটার ব্যবহার করতে পেরেছেন।

সার্ভার হ্যাক হল যেই ওয়েব সার্ভারে কোন ওয়েব সাইটের ফাইলগুলি থাকে সেই ওয়েব সার্ভারে প্রবেশ করে সেই ফাইলগুলি পাল্টে দেয়া। মানে ধরুন, আপনার ভিসতা’য় পাসওয়ার্ড দেয়া থাকলেও আমি কোনভাবে আপনার মাই কম্পিউটার ওপেন করতে পারলাম………… সার্ভার হ্যাক অনেকটাই এরকম………

পাইরেটেড সফটওয়ার মানে, কোন সফটওয়ার তার অরিজিনাল ভেন্ডর কিংবা স্বত্তাধিকারীর অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা অথবা যেভাবে সেই সফটওয়ারটি ব্যবহার করার জন্যে সেটি ইনস্টল বা ক্রয়ের সময় আপনি ভেন্ডর কিংবা স্বত্তাধিকারীর সাথে চুক্তি করেছেন তা ব্যতীত অন্যভাবে ব্যবহার করা। সহজ একটা উদাহরণ হল: উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম……… কারণ এর লাইসেন্সে বলা আছে একটি সিডি শুধু একটি পিসিতেই ব্যবহার করা যাবে কিন্তু একটি সিডি বহুবার বহুজন ব্যবহার করেন ফলে সবগুলি কপি পাইরেটেড হয়ে যায়।

ব্যস, এবার কাগুর দাবীর ব্যবচ্ছেদ করা যাক।

»»»»»»»»»»»»»»

অভ্র যদি পাইরেটেড হয়ে থাকে তাহলে এর অরিজিনাল কোন ভেন্ডর কিংবা স্বত্তাধিকারী রয়েছেন। কিন্তু এর কোন অরিজিনাল ভেন্ডর কিংবা স্বত্তাধিকারী নেই। উদারহরণ স্বরূপ বলা যায় ফ্লক ব্রাউজারটির কথা। এটি ফায়ারফক্সের কোড ব্যবহার করে বানানো হয়েছে কিন্তু ফায়ারফক্সের যেসকল কোড ব্যবহার করা হয়েছে তার স্বত্তাধিকারী তারা দাবী করেনি। এখন তাহলে প্রশ্ন অভ্র কি তাহলে এমন কোন সফটওয়ার থেকে বানানো ??? উত্তর: না, এটি একদম ইউনিক, ফায়ারফক্সের মত। একেবারে যাকে বলে “বিল্ট ফ্রম স্ক্র‌্যাচ”, আমাদের দেশের সফটওয়ার শিল্পের গর্ব এমন ইউনিক একটি সফটওয়ার।
সুতরাং এই লজিকে একে পাইরেটেড বলা নির্বোধ ও হীন মনের পরিচায়ক।

»»»»»»»»»»»»»»

এবার দেখা যাক অভ্রের লাইসেন্স কি বলছে এবং সেটি পাইরেটেড কিনা। অভ্রের লাইসেন্সের ক্লজ অনুসারে:
■ আপনি এটি ফ্রি-তে ব্যবহার করতে পারবেন
■ আপনি এটি যেকাউকে ডিস্ট্রিবিউট করতে পারবেন, মানে আপনার পিসি থেকে অভ্র একজিকিউটেবল ফাইলটা আরেকজন কপি করে নিয়ে যেতে পারবে এবং এক্ষেত্রে অভ্রের একজিকিউটেবল ফাইলটার যে ২টি কপি তৈরী হবে তার দু’টোই ভ্যালিড। আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন নেই কপি করার মাধ্যমে তৈরী হওয়া নতুন একজিকিউটেবলটার।
■ আপনি এই সফটওয়ারটি’র ক্রিয়েটরদের নাম পাল্টাতে পারবেন না।
■ সকল ক্ষেত্রে অভ্রের লাইসেন্স নোটিশটি অপরিবর্তিত রাখতে হবে।

ফলে নির্বাচন কমিশন যেখান থেকেই অভ্র সফটওয়ারটি পাক না কেন তারা সেটির ব্যবহার করলে সেটি কোনভাবেই অনুমতি ছাড়া ব্যবহৃত সফটওয়ার হয়নি কারণ তারা এটিকে নিজের বলে দাবী করেনি, অভ্র যেহেতু এর সকল একজিকিউটেবল ভার্সনকে ভ্যালিড বলে দিয়েছে সুতরাং নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়ারটিও ভ্যালিড, অবশ্যই পাইরেটেড কপি নয়।

»»»»»»»»»»»»»»»»»»

বাকি থাকলো হ্যাকিং এর সাথে এর সংশ্লিষ্টতা। উপরে বলেছি কি কি ভাবে হ্যাকিং হতে পারে। হ্যাকিং সম্পূর্ণভাবে সফটওয়ার/ওয়েব সাইটের কোডিং ও ওয়েবসাইট যেখানে হোস্ট করা হয়েছে তার অ্যাডমিনদের উপর নির্ভর করে। অভ্র শুধু বাংলা লিখার জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে, ওয়েবসাইটের কোডিং অথবা হোস্টিংয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই, শুধু এটা হ্যাকিংয়ে সহায়তা করেছে এটা যে বলে তাকে কোরবানীর ঈদে গাবতলীর হাটের সকল গরু+ছাগলকে দিয়ে লাত্থি দেয়া উচিত (নিজেকে আইটি’র লোক দাবী করা কোন মানুষ এতটা বলদ হতে পারে আমার ধারণাতেও ছিল না)।
আরো সহজে বুঝাই, ধরুন আপনার কোন বন্ধু আপনার পিসি থেকে আপনার এম.এস. ওয়ার্ডে করা কোন ডকুমেন্ট বা অ্যাসাইনমেন্ট আপনাকে না বলে নিয়ে গেলো। এখন দোষটা কার ??? নিশ্চয়ই আপনার কারণ আপনি পিসি’র নিরাপত্তা ঠিক রাখতে পারেন নাই অথবা আপনার অপারেটিং সিস্টেমের কারণ সেটিতে পাসওয়ার্ড দেয়া থাকলেও হয়তোবা যেকোন ফাইল ওপেন করা যায়।( এটা একধরণের হ্যাকিং)………………. এখন আমাকে বলেন, কোনভাবে কি এম.এস. ওয়ার্ড-কে দায়ী করা যায় এই হ্যাকিংয়ের জন্য ??? ওটা দিয়ে আপনি লিখেছেন, ফাইলের সুরক্ষা করা কি সেটার কাজ ??? অভ্র দিয়ে বাংগালীরা বাংলা লিখেন, এখন বাংলা ভাষার কোন সাইট হ্যাক হলে সেটার দোষ অভ্রের কেন হবে ??? কেন এটাকে পাইরেটেড হবে ???

»»»»»»»»»»»»»»»»

সবশেষ পয়েন্ট হল, বুঝতেই পারছেন বিজয় ব্যবহার না করাতে জব্বার নাখোশ হয়ে এই মন্তব্যটি করেছেন। আমিও বুঝিনা মানুষ কেন বিজয় ব্যবহার করে ??? প্রিন্ট মিডিয়ায় যারা আছেন তারা চাইলে গিম্প দিয়েই ফটোশপের কাজগুলি করতে পারেন এমনটাই দেখছি এই লিংকে। যাইহোক, আমার মনে হয় কেউ যদি আগ্রহী হয়ে ফটোশপে ইউনিকোড সাপোর্টের প্লাগইন বানিয়ে ফেলতে পারেন তাহলেই হয়। এটা সম্ভব বলেই এই লিংকে দাবী করা হয়েছে, বিস্তারিত জানিনা জন্যে কমেন্ট করতে পারলাম না।

**********

অনেক বড় হয়ে গেল লিখাটা, ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছি অবশ্যই এবং সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আমি চেষ্টা করেছি জব্বার কাগু’র কথার ডিফেন্ড করতে। মেহেদী ভাইয়ার উচিত এই ব্যাটাকে উকিল নোটিশ পাঠানো এই কথা বলার জন্যে। কাগু এই কথাগুলি এমন সব জায়গায় বলে যেখানে উপস্থিত কেউই এই কথার মাধ্যমে বলা মিথ্যাটা ধরতে সক্ষম না কিন্তু এদিকে “জব্বার কাগু বলেছেন বলে” সেই কথাটাকে ছড়িয়ে দিতে পুরাই এক পায়ে খাঁড়া।

জব্বার কাগুর সাইটটা দেখেছেন ??? বিজয় ফন্টে বানানো তাই দেখতে পারিনাই। কবে যে সে ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামকেও পাইরেটেড কনসোর্টিয়াম বলে বিজয় ফন্ট ব্যবহার না করাতে।

অনেকেই বলেছেন অভ্র’র জন্যে মেহেদী ভাইয়াকে একুশে পদক দেয়া হোক। আমিও এই দাবীর সাথে একাত্মতা জানিয়ে পোস্ট শেষ করলাম। আমি মনে করি “মেহেদী ভাইয়া, অমি ভাইয়া, একুশে টিম”- এনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর মত কোন শব্দই আমার কাছে নেই।

পার্মালিঙ্ক অভ্রকে পাইরেটেড বলার কারণ বিশ্লেষণ ও একটি দাবী তে মন্তব্য বন্ধ

অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য – আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম

2010/04/22 at 12:41 পুর্বাহ্ন (প্রতিক্রিয়া, যুক্তিপ্রমাণ)

শিরোনামঃ অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য

লেখকঃ জাহিদ সুমন

সাইটের প্রকৃতিঃ আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম

সময়ঃ সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০১০ ৬:২২ অপরাহ্ন

লিংকঃ http://tinyurl.com/y4bpmam

লেখাঃ

অভ্র বিজয়কে নকল করেছে – হ্যাক করেছে- পাইরেসী করেছে……

পুরো আইটি সেক্টর গরম করে ফেলেছেন মিঃ জব্বার। যাই হোক কম্পিউটার তো বুঝে গনিতের ভাষা। আসুন গনিতের ভাষাতেই দেখি কতটুকু পাইরেসী হয়েছে। মিঃ জব্বার বলেছেন তার বিজয় কি-বোর্ড এর কথা যা অভ্রতে ইউনিজয় কি-বোর্ড হিসেবে দেয়া আছে।

এই কি-বোর্ড ছাড়া আর কি কোন কি-বোর্ড নাই? আছে – আর ও কমপক্ষে ৪টি কি-বোর্ড আছে। যেমনঃ ন্যাশনাল, বর্ননা, অভ্র ইজি, অভ্র ফোনেটিক ইত্যাদি। তাহলে ফল কি দাড়াল- পাইরেসীর হার ২০%।

আসুন এ ২০% সবেধন নীলমনি মিঃ জব্বারের বিজয় সফটওয়্যারের সাথে কতটুকু মিল রেখেছে তা আমরা দেখি।

পার্থক্যঃ

১. বিজয় উইন্ডোজ ৯৫, ৯৮ ও সাপোর্ট করে যা অভ্র করেনা। সুতরাং অভ্র তার কোডিংয়ে কোন কিছুই বিজয় থেকে ধার করেনি।

২. পুরনো বিজয়ে ইউনিকোড ফন্টগুলির সাপোর্ট নেই। অভ্র শুরু থেকেই ইউনিকোড বেজড।

৩. অভ্রতে জব্বার সাহেবের একটি ফন্টও কাজ করে না। তাই অভ্র ফন্ট পাইরেসী থেকে মুক্ত। সে সর্বদাই ইউনিকোড বেজড মুক্ত ফন্ট এর উপর নির্ভরশীল।

৪. অভ্রতে ঃ – এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৫. অভ্রতে ৎ – এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৬. অভ্রতে ঁ- এর কি-স্ট্রোক ভিন্ন।

৭. অভ্রতে ং এর কি স্ট্রোক ভিন্ন।

৮. ঙ – এর কি-স্ট্রোক আলাদা।

৯. ো – কার দিতে বিজয় এ দু’বার কি-চাপতে হয় কিন্তু অভ্রতে একবার এবং এটি অক্ষর লেখার পর চাপতে হয়।

১০. ে- কার একইভাবে অক্ষর লেখার পর চাপতে হয়।

১১. যুক্ত অক্ষর বিজয়ে লেখার পর ডিলিট করলে পুরো লেখা মুছে যায় কিন্তু অভ্র যুক্ত অক্ষরের প্রতিটি অক্ষরকে আলাদা ভাবে মুছে থাকে। তাই ভুল হলেও দ্রুত সংশোধন করা যায়।

১২. বিজয় দিয়ে টাইপ করলে ডকুমেন্টে ব্যাকরন ভুল দেখায় কিন্তু অভ্রতে এ সমস্যা নেই।

১৩. অভ্র চালু করতে একটি মাত্র কি-স্ট্রোক যথেষ্ট এবং ফন্ট ও ম্যানুয়ালী পাল্টাতে হয় না। এফ১২ চাপলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষার সাথে সাথে ফন্ট ও পাল্টে যায়। বিজয় অনেক অনেক পিছনে পড়ে আছে এ দিক থেকে।

১৪. অভ্রের লিনাক্স ভার্সন রয়েছে কিন্তু বিজয় শুধুমাত্র ম্যাক ও উইন্ডোজে চলে।

১৫. অভ্র ব্যবহারের জন্য ফ্রি কিন্তু বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

১৬. অভ্রতে নিজের কি-বোর্ড নিজেই তৈরী করে নেয়া যায় কিন্তু বিজয়ে এ ধরনের কোন সুবিধা নেই।

১৭. বিজয় দিয়ে টাইপ করলে ওয়ার্ডে অনেক সময় বিভিন্ন অক্ষর বা শব্দ পরিবর্তিত হয়ে যায় অটোকারেক্ট ফিচারের জন্য কিন্তু অভ্রতে এ ধরনের সমস্যা নেই।

১৮. অভ্র দিয়ে ইউনিকোড সাপোর্ট করে না এমন সফটওয়্যারে বাংলা লেখা যায় না যেমন- ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর কিন্তু বিজয় দিয়ে লেখা যায়- এটি বিজয়ের ভাল দিক হলেও একটি বড় পার্থক্য।

১৯. ও- লিখতে হলে অভ্রতে লিংক কি চাপতে হয় কিন্তু বিজয়ে লিংক কি চাপতে হয় না।

এবার আপনাদের পালা….

পার্থক্য বলতে থাকুন আর ২০% পাইরেসীর কত পার্সেন্ট শেষ পর্যন্ত থাকে দেখা যাক :-?

বেচার মিঃ জব্বার :ttt: সামান্য একটি লে-আউট আবিষ্কার করেই যে ক্রেডিট নিতে থাকেন তা কোন মানসিকতাকে রিপ্রেজেন্ট করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেউ কেউ কোন কাজের জন্য কতটুকু ক্রেডিট নিতে হয় তার মাত্রাজ্ঞানও মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলেন।

এজন্যই বলা হয়ে থাকে-

Great Mind Discuss Ideas
Average Mind Discuss Events
Small Mind Discuss Peoples
Very Small Mind Discuss Themselves(!!!!)

পার্মালিঙ্ক অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য – আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম তে মন্তব্য বন্ধ

Bangladesh: Let Language Be Free

2010/04/21 at 1:42 পুর্বাহ্ন (প্রতিক্রিয়া, যুক্তিপ্রমাণ)

শিরোনামঃ Bangladesh: Let Language Be Free

লেখকঃ Rezwan

সাইটের প্রকৃতিঃ http://globalvoicesonline.org

সময়ঃ Tuesday, April 20th, 2010 @ 21:55 UTC

লিংকঃ http://globalvoicesonline.org/2010/04/20/bangladesh-let-language-be-free/

লেখাঃ

The Bangla blogosphere and Bangladeshi Facebook users are angry with protests as ‘Avro‘, a freeware and one of the popular and widely used Bangla input systems, was accused as a pirated version of another popular Bangla input system ‘Bijoy‘ and the Avro team was mentioned as hackers.

In an article in a Bangla news daily, Mustafa Jabbar, the proprietor of Bijoy and a pioneer of Bangla computing said hackers were responsible for spreading pirated copies of his Bijoy software on the internet. He also said that UNDP had helped these hackers to be selected by the Bangladesh Election commission for their national database works.

It may be mentioned here that Bangladesh saw more than 20 proprietary Bangla input software from 1984 to 2002 and the most popular of them was Mustafa Jabbar’s Bijoy during those days. Many developers worked on its various versions.

But the real boost in Bangla computing came when in 2003 Mehdi Hasan Khan, a Bangladeshi medical student developed Avro software, a free and closed source graphic keyboard layout changer, using Unicode which was further developed during last six years by Mehdi and his friends Rifatunnabi, Tanvin Islam Siam, Ryan Kamal, Shabab Mustafa and Nipun Haq.

Bijoy Ekusheyavro4splash

While Bijoy is a ASCII based proprietary Bangla input system software and is sold in exchange of license fees, Avro on the other hand is an Unicode based freeware which has in fact four input system with four keyboard layouts – Avro Phonetic, Bornona, National (Jatiyo) and UniBijoy. The Avro phonetic (or transliteration) input system is the most popular and widely used – especially by the diaspora who do not have access to a physical Bangla keyboard. Using the Avro phonetic transliteration system they can generate Bangla words from Roman typefaces with ease.

After the accusations of Mr. Jabbar the Bangla blogosphere reacted swiftly. Loken Bosh in Amar Bondhu blog challenged Mr. Jabbar to prove that Avro is a pirated software. He wrote:

কম্পিউটারে বাংলা লেখায় বিজয় মাইল ফলক হয়ে এসেছিলো। বিজয়ের অবদানকে অস্বীকার করার কিছু নেই। এখনো প্রফেশনাল প্রিন্টিংয়ের কাজে বিজয়ের বিকল্প নেই।

কিন্তু ইন্টারনেটের এই প্রসারের যুগে বিজয় ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। [..] তাই নতুন সময়ের দাবীতেই এলো অভ্র। মেহদী হাসান খান নামের এক তরুণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করলেন অভ্র নামক একটি সফটওয়্যার। এবং যা তিনি বিনামূল্যে ছড়িয়ে দিলেন সমস্ত বিশ্বে। যে কেউ চাইলেই এই সফটওয়্যার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

অভ্রর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গেছে বিজয় বর্জন। [..] মোস্তফা জব্বার শঙ্কিত। তাই এই মিথ্যাচার। নির্বাচন কমিশন যখন ভোটার আইডির কাজে বিজয় না ব্যবহার করে অভ্র ব্যবহার করলো, তখনই তার গাত্রদাহ প্রবল হয়েছিলো। [..] আর পাশাপাশি নিজের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অভ্রর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। আর এই করে করে তিনি নিজেই নিজেকে হাস্যকর প্রমাণ করছেন, আমাদের যেখানে উনাকে শ্রদ্ধা করার কথা ছিলো, সেখানে এখন তার প্রতি ঘৃণা তৈরি হচ্ছে।

Bijoy was a milestone for Bangla Computing. There is nothing to belittle Bijoy’s contribution. Even today there is no option for Bijoy in the print industry (Unicode Bangla is not supported in Photoshop).But in this era of Internet Bijoy is lagging behind. [..] So Avro came with a promise. A young man named Mehdi Hasan created Avro on his own. And he spread it across the globe via internet. Anyone can download the software and use it (for free).

The popularity of Avro is now sky high. Many people are not using Bijoy anymore. [..] Mustafa Jabbar is afraid. When the Election commission chose Avro instead of Bijoy for their voter ID project, he was infuriated with Avro. [..] So he is using his popularity to spread allegations against Avro. And he has created himself a laughing stock. Where we were supposed to revere him, hatred against him is being generated.

Avronil informs in Sachalayatan:

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই পর্যন্ত বাংলায় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের সব চাইতে বড় প্রকল্প ‘ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতকরণ’ প্রকল্পে অভ্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের প্রথম পছন্দ বিজয় হলেও বিজয়ের প্রস্তুতকারক কম্পানি বিজয়ের জন্য কম্পিউটার প্রতি পাঁচ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি চেয়েছিল যা পরে বাতিল করে দিয়ে অভ্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের অভ্রকে দেয়া একটা স্বীকৃতিমুলক সনদের জন্য একটা কাগজ আর সামান্য কালি ছাড়া আর কিছুই খরচ করতে হয় নি।

The Voter ID and National ID project, the largest digital database project in Bangladesh’s history, used Avro. Their first choice was Bijoy, but its proprietor company asked Taka 5000 (US$70) license fee for each computer, so they have decided to use Avro instead. In return they only had to give a certificate to Avro.

The claim of Mr. Jabbar is that UniBijoy keyboard system, one of the four keyboards in Avro, is a pirated version of his Bijoy keyboard layout which he copyrighted a few years ago. Here is how Mehdi Hasan Khan responded to Mr. Jabbar in his blog:

মোস্তফা জব্বার তার লেখায় ঢালাওভাবে পুরো অভ্র কীবোর্ডকেই “পাইরেটেড” হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। মজার ব্যাপার হল, মানুষজন অভ্র কীভাবে পাইরেটেড প্রশ্নটা করে তাকে চেপে ধরার পর তিনি বললেন অভ্র নিয়ে তার আপত্তি নেই, অভ্রতে ইউনিবিজয় নামে যে কীবোর্ড লেআউট আছে ঐটা তার বিজয় লেআউট থেকে চুরি করা। চমৎকার, আসুন দেখি কী করলে একটা কপিরাইটেড/পেটেন্ডেড লেআউট (অথবা সেটার প্রয়োগ) এ আমরা চুরির অভিযোগ দিতে পারি।

১) অবিকল লেআউট স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে:

অনুমতির প্রসঙ্গ যখন উঠলই তখন বলি, ২০০৩ সালে অভ্র ডেভেলপের পরিকল্পনা করার সময় আমি ফোনে মোস্তফা জব্বারের কাছে বিজয় লেআউট ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনিও তার জবাব জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাকে টাকা না দিলে তিনি অনুমতি দিবেন না। বেশ ভালো কথা, আমিও বিজয় কীবোর্ড অভ্রর সাথে দেইনি। [..] ইউনিবিজয় আর বিজয় কোনদিনই এক কীবোর্ড লেআউট ছিল না, এখনও নেই। যেখানে একটা কী এর পার্থক্য একটা আলাদা লেআউটের জন্ম দেয়, ইউনিবিজয়ের সাথে বিজয়ের সেখানে অন্তত ৮ টি কীতে পার্থক্য রয়েছে।

২) ফিজিক্যাল লেআউট অনুমতি ছাড়া বিতরণ করলেঃ
প্রশ্নই আসে না। অভ্র কীবোর্ড একটা সফটওয়্যার মাত্র, এর সাথে বিজয় লেআউট ছাপানো কোন কীবোর্ড আমরা বিতরণ করি না।

৩) কীবোর্ড ইন্টারফেস প্রোগ্রামের কোড অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলেঃ
আবারো বলি, এই পয়েন্টও খাটে না। বিজয় ক্লোজড সোর্স, সেটার সোর্স থেকে অভ্র ডেভেলপ করা সম্ভব না। কীভাবে বিজয় হ্যাক করে অভ্র বানানো হল তার ব্যাখ্যা আপনার কাছে দাবী করছি।

avro keyboard layout

Mustafa Jabbar has accused the whole Avro software as ‘pirated’. The interesting thing is when people ask him how Avro is pirated then he says I don’t have problem with Avro, but the Unibijoy layout is stolen from Bijoy. Ok. lets see how we can accuse violation of a copyrighted or patented layout:1) If the clone of the layout is used without permission.

When the question of permission came I called Mr. Jabbar in 2003 when I was planning to build Avro for his permission to use Bijoy. He answered that he will not give permission without a fee. So I did not use the Bijoy keyboard with the (open source) Avro. UniBijoy and Bijoy were never the same keyboard layout, not even now. Where only one key difference creates a different layout, there are a difference of 8 keys between Unijoy and Bijoy.

2) If the physical layout is sold without permission
We never did! Avro input system is just a software. We do not sell any physical keyboard with Bijoy layout.

3) If the code of the Keyboard interface is reused without the permission of the programmer.

I say again, this point does not stand out. Bijoy is a closed source program. Avro cannot be developed from that source code. So how Bijoy was hacked to create Avro – I demand an explanation.

Read his post for detailed explanations.

Zahid Sumon in Projukti Forum detailed the differences between UniBjioy and Bijoy. Here are a few points:

* অভ্রতে জব্বার সাহেবের একটি ফন্টও কাজ করে না। তাই অভ্র ফন্ট পাইরেসী থেকে মুক্ত। সে সর্বদাই ইউনিকোড বেজড মুক্ত ফন্ট এর উপর নির্ভরশীল।
* অভ্রের লিনাক্স ভার্সন রয়েছে কিন্তু বিজয় শুধুমাত্র ম্যাক ও উইন্ডোজে চলে।

* In Avro no fonts of Bijoy software works. So Avro is free from piracy. It is always based on free unicode fonts.
* Avro has also a linux version. But Bijoy runs only in Windows and Mac.

Renowned wikipedian Ragib hasan writes in a comment on Mehdi’s article:

২০০৬ এ যখন বাংলা উইকির কাজ শুরু করি, তখন বাংলা টাইপিং এ অভ্যস্ত ছিলাম না মোটেও। আমাদের উইকির কর্মী যারা আছেন, তাঁদের প্রায় সবাইই বাংলা লিখতে শিখেছেন অভ্র ফোনেটিকে। আজ বাংলা উইকিতে ২০,০০০ ভুক্তি আছে, যার প্রায় সবটাই লেখা হয়েছে অভ্র দিয়ে। আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলায় তথ্য রেখে যাওয়ার এই প্রয়াসে অভ্র তাই রেখেছে এক বিশাল অবদান।

When I started work on Bangla wiki in 2006, then I was not conversant with Bangla typing. Most of our Bangla wiki volunteers learned to type in Bangla using Avro Phonetic. Today there are 20,000 entries in Bangla Wikipedia and most of them were written using Avro. So Avro has a huge contribution in leaving the next generation a large collection of Bangla content in the internet.

Bangladeshi netizens are showing their support towards Avro in Facebook and blogs. It is unforeseen that three Bangla blogging platforms Sachalayatan, Amar Blog and Amar Bondhu had changed their banner to Avro Logo to show their support in protesting Mr. Jabbar’s claims.

People are creating groups in Facebook and changing their Facebook statuses in solidarity with Avro. Here are a couple of status messages:

নজরুল ইসলাম ভাষা হোক উন্মুক্ত। কোনো বেনিয়ার কাছে আমার মাতৃভাষাকে ইজারা দেবো না… কক্ষণো না

Nazrul Islam Let language be free. I will not lease my language to any profiteer.. never.

অমি রহমান পিয়াল: রক্ত দিয়ে যে অক্ষর কিনেছি তার জন্যে যে বেনিয়া টাকা খোঁজে তাকে ধিক্কার। ভাষা হোক উন্মুক্ত।

Omi Rahman Pial: We have bought our language with blood. Shame to those who wants to make profit from it. Let language be free.

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

মোস্তফা জব্বারের কাছে খোলা চিঠি

2010/04/20 at 8:40 পুর্বাহ্ন (প্রতিক্রিয়া)

শিরোনামঃ মোস্তফা জব্বারের কাছে খোলা চিঠি

লেখকঃ লোকেন বোস

সাইটের প্রকৃতিঃ আমরা বন্ধু কমিউনিটি

সময়ঃ এপ্রিল ২০, ২০১০ – ১২:৫৭ অপরাহ্ন

লিংকঃ http://www.amrabondhu.com/lokenbosh/1012

লেখাঃ

জনাব মোস্তফা জব্বার,
শুভেচ্ছা জানবেন।

আপনি দৈনিক জনকণ্ঠে একটি লেখায় অভ্রকে নিয়ে একটি মিথ্যাচার করেছেন, যা নিয়ে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে, হয়তো আপনি অবগত আছেন।
যারা আইটি সেক্টরে বাংলা নিয়ে কাজ করে, সারাবিশ্বে বাংলা এবং বাংলাদেশের মহিমা তুলে ধরতে চায়, সেই আধুনিক প্রজন্মর প্রতিক্রিয়া আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন। আপনার ভুল বক্তব্য চারদিকে আপনার প্রতি কেবল ঘৃণারই প্রকাশ! শুধু ঘৃণাই না, যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে কেন আপনার দাবী ভুল এবং বক্তব্য মিথ্যা। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?

অথচ এই ঘৃণা আপনার প্রাপ্য ছিলো না। কম্পিউটারে বাংলা ভাষা জনপ্রিয় করার কাজে, বিজয়ের অবদান কেউ অস্বীকার করবে না। আপনাকে দীর্ঘদিন আমরা সম্মানের চোখেই দেখে এসেছিলাম। আপনি এই সম্মান নিয়েই বাঁচতে পারতেন। কিন্তু অভ্রর বিরুদ্ধে আপনার অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার আপনাকে আজ এরকম ঘৃণার পাত্রে পরিণত করেছে। এতবছর ধরে অর্জিত আপনার সম্মানের প্রাসাদ আজ চূর্ণ।

আপনি নিজেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রণেতা, আইটি বিশেষজ্ঞ দাবী করেন। কিন্তু ইন্টারনেটে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন এক সপ্তাহ পর আপনি প্রিন্ট মিডিয়ায় কী লিখবেন না লিখবেন তার জন্য। আপনি এখনো মধ্যযুগে আছেন জব্বার সাহেব।

প্রিয় মোস্তফা জব্বার, অভ্রকে পাইরেটেড বলে ইতোমধ্যে আপনি যথেষ্ট মুর্খতার পরিচয় দিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে নতুন করে সেই প্রমাণ আর দিতে হবে না! আপনি যতই গোঁয়ার্তুমি করুন, জনগণ ছেড়ে কথা বলবে না। আইটির সুফল ভোগকারী এবং বিশেষজ্ঞরা সকলেই অভ্রের সঙ্গে আছে, থাকবে অবিচল।

আপনি ভাবছেন আগামী সপ্তাহে যা লিখবেন তা পড়ে সবাই আপনার প্রতি ভক্তিতে গদগদ হয়ে যাবে? প্রিয় মোস্তফা জব্বার, আপনি ভুল ভাবছেন। বোধকরি আগামী সপ্তাহে মানুষের ঘৃণার স্তরটা বাড়বে বই কমবে না।

আপনি হয়তো মনে করতে পারেন ইন্টারনেটে বসে আমরা যতোই যা খুশি করি না কেন, এর গণ্ডি সীমিত। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রণেতা আপনি জানেন দেশটা এখনো নামেই ডিজিটাল [আপনি যখন প্রণেতা, আমরা বেশি কিছু আশা করি কীভাবে!]। আপনি হয়তো ভাবছেন ইন্টারনেটে আমাদের এই প্রতিবাদ সারাদেশে কোন প্রভাব ফেলবে না, পত্রিকায় লেখা আপনার কথাই সবাই বিশ্বাস করবে। আবারো বলছি, আপনি ভুলের স্বর্গেই বাস করছেন।

আপনার এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ আমজনতা করে যাবে, অব্যাহত রাখবে ঘৃণাবর্ষণ। এখন বাংলা কমিউনিটিগুলোতে আছে, অচিরেই সারা বিশ্বের আইটি ফোরামগুলোতে আপনার এই মিথ্যাচারের কথা প্রচার করা হবে। বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকেরা চোখে দেখে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। এই গণজাগরণ সম্পর্কে তাঁরা অবহিত। অচিরেই আপনার পত্রিকাদুর্গও ভেঙে যাবে। পত্রিকাগুলোতেও পৌঁছে যাবে প্রতিবাদলিপি। ওপেন লিফলেট ছড়িয়ে যাবে ইন্টারনেটে, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে যে কেউ তা প্রিন্ট করতে পারবে। সারা দেশে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে আপনার প্রতি ঘৃণার বার্তা। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রণেতা আপনি [!] হয়তো বর্তমান দুনিয়ায় ব্লগের ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত নন। আপনার জন্য করুণা।

প্রিয় মোস্তফা জব্বার, আপনি জেনে রাখুন, শুধু একটি মিথ্যাচারের জন্য আজ আপনার এতবছরের অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে। আর যদি একটা মিথ্যা বলেন, অভ্রকে বিজয়ের পাইরেটেড বলেন- তবে জেনে রাখবেন, আগামীর বাংলাদেশে আপনি হবেন একটি ঘৃণার নাম। ঘৃণা ছাড়া আপনার কপালে আর কিছুই জুটবে না।

জনাব মোস্তফা জব্বার, আপনি আপনার বিজয় নিয়ে থাকুন, কেউ আপনাকে কিছু বলবে না। কিন্তু অভ্রকে নিয়ে এই মিথ্যাচার আপনি বন্ধ করুন। যা বলেছেন, তার জন্য ক্ষমা চান। নতুবা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে একটি ঘৃণিত জীবন। প্রস্তুত হোন।

ধন্যবাদসহ
অভ্র ব্যবহারকারী আমরা সবাই

পার্মালিঙ্ক মোস্তফা জব্বারের কাছে খোলা চিঠি তে মন্তব্য বন্ধ