প্রসঙ্গ বিজয় কীবোর্ডের মেধাস্বত্ব – মোস্তাফা জব্বার

2010/05/24 at 12:06 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

সাপ্তাহিক পত্রিকার ৬ মে ২০১০ সংখ্যার ৩৯-৪১ পৃষ্ঠায় ‘অভ্র-বিজয় বিতর্ক – ব্যবসা নাকি সেবা?’ শিরোনামে আনিস রায়হানের একটি লেখা ছাপা হয়েছে। এই লেখাটির প্রেক্ষিতে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষারের একটি লেখাও একই পত্রিকায় ১৩ মে ২০১০ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। জনাব আব্দুন নূর তুষারের লেখাটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং বিষয়ভিত্তিক। তার লেখা থেকে পাঠক-পাঠিকারা আনিস রায়হানের লেখার অনেক জবাব পেয়ে থাকবেন। আমি আব্দুন নূর তুষারকে ধন্যবাদ জানাই। যে সময়ে ইন্টারনেটের কয়েকটি বাংলা ব্লগিং সাইট, কিছু ফেসবুক ও মেইলে অশ্লীল, অরুচিকর, অযৌক্তিক, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই সময়ে জনাব তুষার একটি নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এজন্য জনাব তুষারকেও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। সাপ্তাহিকের সাইটসহ বিভিন্ন ব্লগে মিথ্যা ও অরুচিকর মন্তব্যও করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমার অনুরোধ, বিজয় প্রসঙ্গে গালাগাল করতে হলে আমাকে করুন, অন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার চেষ্টা করবেন না, এটি অমানবিকও।

জনাব আনিস রায়হানের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আমার প্রাথমিক মন্তব্য ও সার্বিক মূল্যায়ন হচ্ছে যে, তিনি জনাব মেহেদী হাসান খান এবং অভ্র’র প্রতি অনেকটা ঝুঁকে পড়ে প্রতিবেদনটিকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করেননি, যা সাপ্তাহিক-এর মতো পত্রিকার কাছে সকলে কাম্য। তিনি পুরো প্রতিবেদনটি জুড়ে আমার লেখাসমূহ থেকে অংশবিশেষ এমনভাবে তুলেছেন যাতে আমার একটি নেতিবাচক ইমেজ দাঁড়ায়। অথচ ইচ্ছে করলেই তিনি আমার সাক্ষাৎকার নিতে পারতেন।

প্রতিবেদনটি সম্পাদনা করার সময়ও বিষয়টি লক্ষ্য করা হয়নি। ৪১ পৃষ্ঠায় বিজয় ও অভ্র’র পার্থক্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে একতরফাভাবে অভ্র’র বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ পত্রিকার পক্ষ থেকে এভাবে কোন পক্ষাবলম্বন করা উচিত নয়। প্রতিবেদনের শিরোনামটি থেকে লক্ষ্য করা যায় যে একটি তির্যক মনোভাব আমার মতো একজন ব্যবসায়ীর প্রতি ছিল-নইলে ব্যবসার সঙ্গে সেবার মহত্ত্ব তুলনীয় হতোনা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি বলে যেটি আমার কাছে মনে হয়েছে সেটি হচ্ছে যে, প্রতিবেদনটিতে মেধাস্বত্ত্ব বা পুরা বিষয়টির মূল প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আসলে অভ্রর সঙ্গে বিজয়-এর কোনো বিতর্ক বা বিরোধ নেই। যেটি আছে সেটি হলো বিজয় কীবোর্ডের লেআউটের মেধাস্বত্ব নিয়ে। অথচ আমার ও কপিরাইট রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে আইনের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলেও প্রতিবেদক বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে গেছেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবেদক তার ভাষা ব্যবহারেও সংযত থাকেননি। আমাকে ‘কাবুলিওয়ালা’ তিনি নিজে কেন বললেন, তার কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। আমি তাকেই বলতে বলব, ব্যবসা করলেই কি কেউ কাবুলিওয়ালা হয়? সাপ্তাহিক পত্রিকার পাঠকগণ যাতে প্রতিবেদনটির বিষয়ে নিরপেক্ষ মতামত গঠন করতে পারেন তার জন্য আমি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বক্তব্য দিতে চাই।

১। জনাব মেহেদী হাসান খান বলেছেন, “ব্যবসার অধিকার সবার আছে। যে কেউ চাইলে ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি বিনামূল্যে কাউকে কোন সেবা দিতে চান তাহলে সেখানে কারো বাধা দেবার অধিকার নেই বলে মনে করি।”

আমার বক্তব্য হচ্ছে, জনাব মেহেদী হাসান খানের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত। এমনকি তার ফ্রি সফটওয়্যার বিতরণে কোন বাধা এলে আমি তার পাশে দাঁড়াতে রাজি আছি। কিন্তু তাকে আগেই বুঝতে হবে যে, তিনি তার অভ্র’তে ইউনিবিজয় নামে যে কীবোর্ড লেআউট অন্তর্ভুক্ত করেছেন সেটি তার সম্পদ নয়। এটি আমার সম্পদ। সেটি তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করতে পারেন না। এছাড়াও তার ওয়েবসাইট থেকে বিজয় কীবোর্ড লেআউট যেভাবে বিতরণ করা হচ্ছে সেটিও যে মেধাস্বত্ব আইনের পরিপন্থী, সেটিও তাকে বুঝতে হবে।

আমি একেবারে স্পষ্ট করে বলেছি, আমার সম্পদ আমার অনুমতি ছাড়া তিনি বা অন্য কেউ তার সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন না বা ব্যবহার করতে পারেন না। জনাব মেহেদী এটি স্বীকার করেন যে, বিজয় কীবোর্ড লেআউট আমার সম্পদ। তিনি দাবি করেন যে, আমার কীবোর্ড লেআআউট তিনি পরিবর্তন করেছেন। সেজন্যই তিনি তার ওয়েবসাইটে বলেছেন যে, ইউনিবিজয় জনপ্রিয় বিজয় কীবোর্ডের শতকরা ৯৯ ভাগ অনুরূপ। এটি সারাবিশ্বের মানুষ দেখেছে। আমিও তার ওয়েবসাইটে দেখেছি। অবশ্য গত ২১ মে ২০১০ থেকে আমি তার ওয়েবসাইটে সেটি আর দেখতে পাইনি। তবে এখনো তিনি বিজয়-এর নকল ইউনিবিজয় সংযুক্ত অবস্থায় অভ্র ৪.৫.১ সংস্করণ বিতরণ করছেন। শুধু তাই নয়, তার ওয়েবসাইট থেকে SamBijoy, Clonejoy, likebijoy এবং RRbijoy ইত্যাদি নামে আরো কয়েকটি কীবোর্ড লেআউট বিতরণ করা হয়। নাম থেকেই বোঝা যায়, এসব লেআউট বিজয়ের নকল। আমি জনাব মেহেদীর কাছে জানতে চাই, বিজয়ের নকল এসব কীবোর্ড লেআউট বিতরণ করার অধিকার তিনি কোন আইনে পেয়েছেন? জনাব মেহেদী আবেদন করেছেন এভাবে “আপনি আপনার সফটওয়্যার বিক্রি করেন। কিন্তু জনস্বার্থে লেআউটটি উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।”

জনাব খানকে প্রশ্ন, আমি আপনার উন্মুক্ত করার আবেদন বিবেচনা করার আগেই আপনি কেন তা বিতরণ করা শুরু করলেন এবং দেশবাসীকে জানান সেটি কোন আইনের বলে করছেন।

মাননীয় প্রতিবেদক, অভ্র’র জনক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার পাঠক-পাঠিকাদের জন্য আমি কপিরাইট আইন ২০০০ (২০০৫ সালে সংশোধিত) এর ২(৮)(ঙ) ধারাটি তুলে দিচ্ছি। এতে লেখা আছে, “কপিরাইট লঙ্ঘনকারী অনুলিপি হচ্ছে” “কম্পিউটার প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে কোন কম্পিউটার প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষের পুনরুৎপাদন বা ব্যবহার” অন্য কোনো আইন বা অন্য কোনো ধারার কথা উল্লেখ না করেও এ কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, অভ্র বিজয় কীবোর্ডের সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক যে নকল সেই বিষয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। যারা মনে করেন যে, কীবোর্ডের একটি বা ৮টি বোতাম বদলালেই নতুন মৌলিক কীবোর্ড হবে- সেজন্য তাদেরকে আগে আইনটি বদলাতে হবে, পরে একথা বলতে হবে। নইলে বক্তব্যটি আইনানুগ হবে না। গায়ের জোরে মগের মুল্লুকে কথা বলা যেত-একটি সভ্য দেশে আইনকে অস্বীকার করে গায়ের জোরে কিছু বলা যায় না। সেজন্যই মেহেদী হাসান খানকে বিদ্যমান আইন মেনে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্লগে-পত্রিকায় গালাগাল দিয়ে আইন বদলানো যাবে না, আইনটি সংসদে বদলাতে হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিবেদক আমার উদ্ধৃতি দিয়ে আইনের এই ধারাটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করলেও সেই ধারাটিতে যা বোঝানো হয় সেটি মাথায় নিয়ে কাজ করেননি। কপিরাইট রেজিস্ট্রারের উদ্ধৃতি হিসেবেও একই ধারার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদক সেই ধারাটির ব্যাখ্যা মনে রাখেননি।

২। বিজয় বনাম অভ্র : এবারে প্রতিবেদক বিজয় বনাম অভ্র’র যেসব পার্থক্য তুলে ধরেছেন তার কয়েকটি সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করতে চাই।

  • ইউনিবিজয় ও বিজয় কীবোর্ড আলাদা নয়। কারণ বিজয় কীবোর্ড লেআউটের A থেকে Z পর্যন্ত সকল বোতামের সকল পজিশন হুবহু এক ও অভিন্ন। যে কটি পজিশন পরিবর্তন করা হয়েছে সেগুলো গৌণ ও স্বল্প। এছাড়া অভ্র’র সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য বিজয়-এর অনুরূপ কীবোর্ডও বিতরণ করা হচ্ছে যাতে বস্তুত কোন পরিবর্তনই নেই। SamBijoy, Clonejoy, likebijoy এবং RRbijoy ইত্যাদি দেখুন। তা ছাড়া আলাদা হলেও এটি আইনের পরিপন্থী। কারণ এতে বিজয় কীবোর্ডের আংশিক পুনরুৎপাদন ও ব্যবহার করা হয়েছে।
  • বিজয় উইন্ডোজ ৯৫, ৯৮ সাপোর্ট করে। অভ্র করে না। কারণ বিজয় ১৯৮৮ সালে প্রথমে ম্যাকের জন্য ও পরে ১৯৯৩ সালে উইন্ডোজের জন্য বাজারে আসে। অভ্র শুধু ইউনিকোড সাপোর্ট করে, আসকি কোড সাপোর্ট করে না। এর অন্যতম কারণ, উইন্ডোজ ৯৫/৯৮ ইউনিকোড সাপোর্ট করে না। কিন্তু বিজয় ASCII এবং ইউনিকোড উভয়ই সাপোর্ট করে এবং এখন উইন্ডোজের সকল সংস্করণ সাপোর্ট করে। অভ্র’র সীমাবদ্ধতা আছে, বিজয়ের নেই। এটি পার্থক্য নয়, অভ্র’র অক্ষমতা। সেজন্য এটি সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ প্রায় সকল কাগজের প্রকাশনা ব্যবহার করে না।
  • অভ্রে বিজয়ের একটি ফন্টও কাজ করে না, এটি ডাহা মিথ্যা কথা। বিজয়-এর যেসব ফন্টের নামের শেষে OMJ আছে এমন সকল ফন্ট অভ্র ব্যবহার করতে পারে। এই ফন্টগুলো ইউনিকোড সমর্থন করে। ইউনিকোড ওপেনটাইপ ব্যবহার করেÑ এর মানে এই নয় যে, এগুলো মুক্ত ফন্ট। এভাবে মুক্ত শব্দটির বাজে ব্যবহার না করা ভালো। বিজয়-এর সকল ইউনিকোড ফন্ট ওপেনটাইপÑতার মানে এগুলো বিনা লাইসেন্সে ব্যবহার করার জন্য নয়। এতে পার্থক্য কোথায়? প্রতিবেদককে অনুরোধ করব, তিনি যেন বিজয়-এর একুশে সংস্করণ দেখেন এবং বিস্মিত হন যে, এতে কীবোর্ড এডিটর রয়েছে। সবার জন্য এই কথাটি বলতে চাই যে, অভ্র মুক্ত সফটওয়্যার নয়, বিনামূল্যের সফটওয়্যার।

৩। জনাব মেহেদী হাসান খান তার বক্তব্যে অভ্র দিয়ে ভাষা উন্মুক্ত করার দাবি করেছেন। বিপ্লবের কথা বলেছেন। তিনি যদি বাংলা ভাষাকে উন্মুক্ত করে দিয়ে থাকেন তার জন্য পুরো বাঙালি জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি তার এই কৃতিত্বকে খাটো করতে চাই না। কিন্তু এই মহৎ কাজে তিনি বিজয় কীবোর্ড যা আমার মতো একজন ‘ভাষা নিয়ে ব্যবসা করার’ লোকের সম্পদ, সেটি কেন ব্যবহার করছেন? তিনি যদি অভ্র দিয়ে বিশ্ব-মহাবিশ্ব জয় করেন আমরা তার পূজা করব- কিন্তু অন্যের সম্পদ নিয়ে বাহাদুরি করার মাঝে তাকে কোনো কৃতিত্ব আমি দিতে পারছি না। বরং এমন একটি বাজে কাজ এমন মহৎ মানুষের করা উচিত নয় বলেই আমি মনে করি।

প্রসঙ্গত, আমি সবিনয়ে এই কথাটি বলতে চাই যে, দুনিয়াতে বাংলা লেখার সম্পূর্ণ সমাধানের নাম বিজয়। ১৯৮৮ সাল থেকেই এটি চরম সত্য। কারণ বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি মানুষ তাদের বাংলা লেখার চাহিদা বিজয় দিয়ে পূরণ করে থাকে। ১৯৮৭ সাল থেকে বাংলা বর্ণমালা কম্পিউটারে লেখার যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে তার নায়ক বিজয় – অন্য কেউ নয়। এটিও সত্য যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা কীবোর্ডের নাম বিজয়। যদি তা না হতো তাহলে পাইরেসির দায়ে কপিরাইট আইনের শাস্তির খড়গ মাথায় রেখে মেহেদী হাসান খান অভ্রতে তা অন্তর্ভুক্ত করত না এবং উন্মুক্ত করার আবেদনও জানাত না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অন্যের মেধাসম্পদ চুরি করে মহৎ হওয়াতে কোন কৃতিত্ব নেই, নিজেরটা দিয়ে মহৎ হোন।

ঢাকা, ২২ মে ২০১০
mustafajabbar@gamil.com

Advertisements

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

অভ্র বিজয় বিতর্ক, অভদ্র আচরণ ও আমার অবস্থা : আবদুন নূর তুষার

2010/05/24 at 12:05 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

আমি সচলায়তনে কখনো যাইনি। জনৈক এস এম মাহবুব মোর্শেদের লেখার সূত্র ধরে আমার সচলায়তনে যাওয়া। তিনি লেখাটির শুরুতেই লিখেছেন আমি একটি প্রতিবেদন লিখেছি। আমি কোনো রিপোর্ট বা প্রতিবেদন লিখি নাই। আমি মতামত দিয়েছি আনিস রায়হানের লেখা একটি প্রতিবেদনের ওপর। একটু পরেই তিনি বলেছেন এটি আমার প্রতিবাদ। জব্বার সাহেব লেখাটি ঘষামাজা করে দিয়েছেন এটি একেবারেই মিথ্যা কথা এবং এটি তিনি বিচিত্রায় ছাপার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলার মানে হলো যিনি লিখছেন তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে এটি লিখেছেন বলে মনে হয় না। কারণ বিচিত্রা নামে পত্রিকাটি এখন আর প্রকাশিত হয় না। আর জব্বার সাহেবের ঘষামাজা করার কথা যদি সত্য হতো তাহলে কার সঙ্গে দহরম-মহরম জব্বার সাহেবের সেটা প্রমাণিত হতো। কারণ জব্বার সাহেবের খবর মোর্শেদ সাহেব কত গভীরভাবে রাখেন সেটা এত গোপন একটি বিষয় তার জেনে ফেলা দিয়েই প্রমাণিত হতো। লেখাটিতে পক্ষপাত আছে, তবে সেটি জব্বার সাহেবের প্রতি নয়, কপিরাইটের প্রতি এবং অশালীন আচরণের বিপক্ষে।

ব্যক্তি আক্রমণ নিয়ে নোট দিয়েছেন তিনি। একজন ব্যক্তির ধর্ম, বর্ণ বা অসম্পর্কিত কর্মকা- নিয়ে তাকে খাটো করবেন নাÑ এমনটি তিনি লিখেছেন। তিনি সে কথা রেখেছেন কিনা সেটি আমি সবশেষে বলব। কারো জ্ঞান অসম্পূর্ণ হলে তাকে সম্মানের সঙ্গে সেটি বলা যেতেই পারে। আমাকে বা মোস্তাফা জব্বারকে তিনি বা তারা সে সম্মানটি দেখিয়েছেন কিনা সেটা বিচারের ভার পাঠকের ওপর রইল।

১. আনিস রায়হানের লেখা নিয়ে আমি লিখেছি। তাই বিবিসিতে জব্বার সাহেব কি বলেছেন সেটি আমার বিবেচ্য ছিল না। আমি আনিসের লেখার বাইরে তাই আর কোনো বিষয়ের অবতারণা করি নাই। তাই মাহবুব মোর্শেদ যখন বলেন যে ৯৯% ব্যবহারকারী বিজয় বাংলা ব্যবহার করেন এই দাবি করেছেন বিবিসিতে মোস্তাফা জব্বার, আমি কি বুঝি না এটা কত অবান্তর? তখন তিনিই গরুর রচনা লিখতে শুরু করেন। কারণ আমি লেখা লিখেছি সাপ্তাহিক-এর একটি লেখার সূত্রে। আমি তো বিবিসির সংবাদ শুনে এটা লিখি নাই। আর আমার লেখা ছাপার ব্যবস্থা জব্বার সাহেব করে দিয়েছেন এটা বলে তিনি সাপ্তাহিক-এর সম্পাদককেই অপমান করেছেন। সাপ্তাহিকের সম্পাদক কি জব্বার সাহেবের অনুগত? আর আমাকে যখন মোর্শেদ নিজেই সম্মানিত কলামিস্ট বলেছেন তার লেখায়, সেখানে আমার লেখা জব্বার সাহেবের মাধ্যমে ছাপতে হয়েছে বলা কি যুক্তিসঙ্গত?

রায়হান লিখেছেন মোট কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ৬০% বাংলা ব্যবহার করে। এদের মধ্যে অধিকাংশই বিজয় ব্যবহার করে। তার মধ্যে ১৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এই ১৫% নেট ব্যবহারকারীর ২০% ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহার করে। তাহলে ১০০%-এর হিসেবে যদি এই ২০%-এর সবাই অভ্র ব্যবহার করে, তবে এই সংখ্যাটি ১.৮% ই হয়। জব্বার সাহেবকে গুরু বলে সম্বোধন করেছেন মোর্শেদ। কার গুরু তিনি? আমার না আমি সেটা জানি এবং লেখার কোথাও আমি সে রকম কিছু লেখিনি। বিবিসির উদ্ধৃতি দিয়ে আমার কাছে ম্যানিপুলেশনের জবাব চাইলে আমি সেটি দিতে পারব না কারণ বিবিসির সেই কথা আমি শুনি নাই। আমি কেবল একটি লেখা পড়েছি এবং সেটা নিয়ে আমার মতামত দিয়েছি। রায়হানের মুখের ওপর আমি কথা বসাই নাই। তিনি নিজেই লিখেছেন অভ্রের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আমি কেবল দেখিয়ে দিয়েছি তার নিজের দেয়া পরিসংখ্যান সেটি প্রমাণ করে না।

২. অভ্রের স্লোগান আমার গাত্রদাহের কারণ হয়নি। আমি কেবল বলেছি একটি সফটওয়্যার ফ্রি পাওয়া যাওয়ার সঙ্গে ভাষার উন্মুক্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক নাই। তর্ক হচ্ছে ইউনিজয় লেআউট এবং বিজয় লেআউট নিয়ে, সেখানে ভাষা হোক উন্মুক্ত বলে অযথা আবেগনির্ভর কথা না বলাই ভালো। কলম কিনে লিখতে হয়। তাতে কি ভাষা পরাধীন হয়ে যায়। বাংলা সফটওয়্যার তো কলমের মতোই বিষয়। সৎ আকাক্সক্ষার প্রকাশ কেবল অভ্রের বেলায়? আমি যদি বলি সফটওয়্যার হোক উন্মুক্ত? যদি বলি অভ্রের জনক তার সব সফটওয়্যার কেন ফ্রি করে দেন না? শুধু লেআউটের বেলায় স্বাধীনতার ডাক?

৩. পণ্য আর সেবার মধ্যে এখন আর পার্থক্য করা হয় না। যে কোনো পণ্যই একটি সেবা। কেউ সেটি বিনামূল্যে দেয় আর কেউ মূল্য নিয়ে। আমি বলেছি মূল্য নিচ্ছে বলে তাকে কাবুলিওয়ালা বলার কোনো যুক্তি নেই। কেউ ফ্রি দিলে দেবেন আর কেউ টাকা নিলে নেবেন। তবে একজন আরেকজনেরটা ধার করে ফ্রি করে দেবেন না। ইউনিবিজয় নামের লেআউটটিতে বাংলা লিখলে কেউ ধার করেছে কিনা সেটা বোঝা যায়।

৪. সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা লেআউট কোনটি সেটা বাংলাবাজার কিংবা আরামবাগ গেলে বোঝা যায়। তারপর আমাকে বললেন চাটুকার কি গাছে ধরে? চাটুকার বলাটা কি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়? আমার আগের লেখাটি পড়েন। দেখেন তো সেখানে এরকম একটি শব্দ আছে কিনা? আমি একটি লেআউটের পক্ষ নিলাম মানে আমি চাটুকার। তার মানে মোর্শেদ কি মেহেদী হাসানের চাটুকার?

৫. পুরো লেখাটিতেই লেখক আমার কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে নানারকম শ্লে¬ষাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন আমি ওপেন অফিসের নাম শুনেছি কিনা? শুনেছি। আমি কিন্তু এটাই বলেছি যে ফ্রি ওয়্যার কেউ দিলে দিক। সে জন্য বিজয়কে যা-তা বলতে হবে কেন? এরপর তিনি গত বিশ বছরে চাটুকার, হায়েনা, সুবিধাভোগীর সহায়তায় বিজয় বাজার দখল করে আছে, এমন মন্তব্য করেছেন। বাজার দখল করা কি অন্যায়? লেখকের ভাষার ব্যবহার দেখুন। আর যারা ২০ বছর ধরে বিজয় ব্যবহার করলেন তারাও কি এই চাটুকার, হায়েনা, সুবিধাভোগী? কারণ ইউজাররাই তো একটা সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ও সুবিধাভোগী। আমি কিন্তু বলি নাই অভ্র পাইরেটেড। আমি বলেছি অভ্রের উচিত বিজয়ের কী-বোর্ড লেআউটের সঙ্গে মিল না রেখে নিজস্ব লেআউট ব্যবহার করা। সফটওয়্যার তৈরির শ্রম আমি বুঝি। আমার নিজের কনসেপ্ট থেকে ডিজাইন করা এবং আমার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রোগ্রাম করা তিনটি প্রোপ্রাইটরি সফটওয়্যার আছে যেটি কেবল আমরাই ব্যবহার করি। আমি প্রোগ্রামারদের বেতন দিয়ে এই সফটওয়্যারগুলো তৈরি করিয়েছি। আপনাকে আমন্ত্রণ রইল আমার অফিসে এসে সেগুলো দেখে যাওয়ার জন্য। বিজয় এর বিভিন্ন ভার্সন বিভিন্ন ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তৈরি করা। এর প্রথম ভার্সনটি ছিল ম্যাক এর জন্য যেটি তৈরি হয়েছিল এ্যাসেম্বলি ল্যাংগুয়েজে। পরে তৈরি হয়েছে উইন্ডোজের জন্য ভিজ্যুয়াল বেসিকে এবং এখন তৈরি হচ্ছে ডট নেট ফ্রেমওয়ার্কে। অভ্র একটি ফ্রি ওয়্যার এটি ওপেন সোর্স না। আর এর উইন্ডোজ ভার্সনটি কি দিয়ে তৈরি হয়েছে সেটি মোর্শেদ সাহেব আমাদের বলে দিন। কারণ আপনার কথামতো আমি তো জানি না কিছু। সব আপনি জানেন।

৬. এ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কথা আমি শুধু জানি না, আমি এর ইতিহাসও জানি। আপনি কি জানেন যে এই আইনটি তৈরি হয়েছিল জ্বালানি তেল ব্যবসার মনোপলি নিয়ে। বাজারে বাংলা প্রোডাক্ট দাঁড়াতে পারছে না, তার কারণ প্রোডাক্টগুলোর দুর্বলতা। ফায়ারফক্স, ক্রোম কিংবা অপেরা কিভাবে দাঁড়াচ্ছে? সেখানে কি আপনি এক্সপে¬ারারের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পান? সরকার বিজয় ব্যবহার করতে বলেছে কারণ সরকারিভাবে বিজয় ব্যবহার করা হয় এবং আপনার পূরণ করা ফর্ম যদি অন্য ফন্টের হয় তবে সেটি সব কম্পিউটারে পড়তে না পারলে অসুবিধা হতে পারে। এর সঙ্গে খুনের রক্ত হাতে লেগে থাকার কি সম্পর্ক? বাংলাদেশে এ্যান্টি ট্রাস্ট আইন নাই। পৃথিবীর অনেক দেশেই নাই। আসেন তাহলে এই আইনটির জন্য কথা বলি। নাকি এই আইনটি যে নাই সেটাও তুষারের দোষ?

৭. আমি অভ্র বা বিজয় সম্পর্কে কিছু লিখি নাই। আমি কেবল লিখেছি আনিস রায়হানের লেখাটিতে যুক্তিহীনতা নিয়ে। অভ্রের বাকি ডেভেলপারদের নাম আপনি জানলে আমাদের জানান? নাকি মেহেদীও নিজেকে অভ্রের জনক বলেই ভাবতে ভালোবাসেন? আপনি লিখেছেন অভ্রের কালকের ক্লোন বা নতুন ভার্সন ফ্রি না হলেও এখনকার ভার্সনটি ফ্রি থাকবে। হাস্যকর! ভবিষ্যতের সব অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে এই ভার্সনটি যে কমপ্যাটিবল হবে বা এর সুবিধাগুলো আধুনিক থাকবে, এ ব্যাপারে কি আপনি নিশ্চিত? আর এখনকারটা ফ্রি আর পরেরগুলার জন্য টাকা দেয়া মেনে নিলে জব্বার আর মেহেদীর মধ্যে পার্থক্য কি থাকবে? তার মানে ভবিষ্যতে মেহেদী, জব্বার হয়ে যেতে পারেন? আমি পাঠক হিসেবে একটি মতামত দিয়েছি পত্রিকাতে। আমি রিপোর্টার নই, আমি কোনো প্রতিবেদন লিখি নাই, আমার নিজস্ব মতামত দিয়েছি। এ কারণেই আমি জব্বার বা মেহেদী কারো সঙ্গেই কথা বলার দরকার মনে করি নাই।

৮. ফোনেটিকে বাংলা লিখলে বাংলা ভুলে যাবে বলে আমি বলি নাই। আমি বানান রীতির কথা বলেছি। বিদেশে যারা বড় হয়েছে তারা বাংলা অক্ষর না শিখে কেবল ফোনেটিকে বাংলা লিখতে পারলে আপনি খুশি। আমি তাতে খুশি না। তাহলে উর্দু টাইপ করে বাংলা, আরবি টাইপ করে বাংলা বা হিন্দি টাইপ করে বাংলা লিখলেও তো কোনো অসুবিধা নাই। আমি কোনো সফটওয়্যারকে শূন্যমানের বলি নাই। আইত্রিপলিতে কোনো পেপার নিয়েও আমার কোনো মন্তব্য নাই। আমি কেবল আমার একটি শঙ্কা প্রকাশ করেছি। আপনি যখন কীবোর্ড শিখে লিখছেন তখন আপনার বানান জানতে হয় কারণ মনে করে আকার ইকার লিখতে হয়। আর ফোনেটিকস দিয়ে লিখতে হলে আপনি কেবল উচ্চারণ মনে রেখে লিখবেন। বানান রীতি না জানলে তখন সিলেটিরা কাককে খাখ লিখবে, চট্টগ্রামের লোকজন পার্থক্যকে পার্থক্যই লিখবে। তারপর আপনি লিখলেন আমি বিজয়ের পা চাটতে গিয়ে লিখেছি। এটাই কি আপনার ব্যক্তি আক্রমণহীন ভাষার নমুনা। আপনিও কি কারো পা চাটতে গিয়ে লিখেছেন তাহলে?

৯. সাপ্তাহিক-এর প্রতিবেদক নিজেই লিখেছেন অন্তত একটি কী’তে বিজয় ও অভ্রের পার্থক্য আছে। আমি কোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা করি নাই। আমি আপনার আগেই গুনতে এবং পড়তে শিখেছি। আপনি যে এখনো ঠিকমতো পড়তে শেখেন নাই সেটার প্রমাণ দিয়েছেন সাপ্তাহিক-এর প্রতিবেদকের অভ্র-বিজয় পার্থক্য নিয়ে লেখাটিতে। তিনি যা লিখেছেন সেটা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে এবং সাপ্তাহিককে বিচিত্রা লিখে দিয়ে। কে যে পড়তে জানে সেটা আমারও প্রশ্ন।

১০. আপনি কিছু পয়েন্টের উত্তর না দিয়ে লিখলেন এসব পাগলের প্রলাপ। এটাও তো আপনার ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার নমুনা। আপনি আমাকে প্রলাপ বকছি বললেন, পাগলও বললেন। আবার বললেন আপনি আমাকে কোনো অসম্মান করবেন না।

১১. আপনি নিজের লেআউট ব্যবহার করেন। খুবই খুশি হলাম এ কথা শুনে। তার সঙ্গে আমি কখনো অভ্র ব্যবহার করি নাই – এটা কী করে নিশ্চিত হলেন? আমি একটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত অভ্র যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। এটার মানে এই নয় যে, আমি না জেনে কথা বলেছি।

১২. ফন্ট মানে আপনি ছাপার অক্ষরে বা কম্পিউটারে চোখে যা দেখতে পান সেটা। আমার নামের আগে মহামতি বলার মানে কি? এটা বলার জন্য ফন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা লাগে না। দীর্ঘদিন আমরা পারিবারিকভাবে ছাপাখানার ব্যবসা করেছি। সীসা দিয়ে তৈরি ফন্ট কিংবা কম্পিউটারের তৈরি ফন্ট সবই চেহারা দিয়েই আলাদা হয়। আমি সুতন্নির সঙ্গে অবিকল চেহারার মিল রেখে যদি মোর্শেদ নামে একটি ফন্ট বানাই সেটা নকল হবে। যমজ ভাই-বোন বা ক্লোন সম্পর্কে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, জ্ঞানও নেই। যমজ ভাই-বোন একই মায়ের পেটে একই বাবার কারণে জন্মায়। আর ক্লোন হতে গেলেও সেটার সোর্স একই মা-বাবার জিন। আপনার কথা ঠিক হলে দুজন মায়ের পেটে একই চেহারার যমজ জন্ম নিতে হবে। তা নাহলে দুটো আলাদা সোর্সের, আলাদা সফটওয়্যারের ফন্টের চেহারা কী করে মিলবে? এরপর আবার তিনি বলেছেন যে আমি কিছুই জানি না এবং পাগলের প্রলাপ বকছি…

আর আপনার ব্লগের পাঠকদের রুচিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়ে আমি বলতে চাই না । সেগুলো সেখানে রেখে দিয়ে আপনি নিজের রুচিকেই প্রকাশিত করেছেন।

১৩. কোন মিলটা মৌলিক বা অমৌলিক, এটার মানদ- আমি ঠিক করব না, আপনিও না। এটা করবে আদালত কিংবা কোনো বিচারকারী বা স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণী সংস্থা। প্রতিবেদক যখন বলেন আগে এ কার আর পরে এ কার একটি বিরাট পার্থক্য, সেই মানদ-টি কে ঠিক করে দিয়েছিল? আপনি? প্রতিবেদক বলেছেন, এটি একটি পার্থক্য আমি তার সঙ্গে একমত হইনি। কারণ আমার মনে হয়েছে তার চাইতে বড় পার্থক্য হবে বর্ণমালাগুলোর কোয়ার্টি কি বোর্ডে অবস্থান এবং যুক্তাক্ষর তৈরির প্রক্রিয়া।

আমরা যখন হাতে বাংলা লিখি, তখন শর্টিং এবং সার্চিং করে লিখি না। তখন অ এর পর া (আ কার) দেই আবার এ কার দেই আগেই, আগে কারণ বাংলা লিখন রীতি এটাই। আপনি হয়ত বেল লেখার সময় আগে বল লিখে পরে একার বসান কিন্তু ৯৯% বাঙালি আগে ে তার পর ব, তারপর ল লেখেন। সাধারণ বাংলা লেখনরীতিতে টাইপরাইটারেও সেটি করতে হয়। আপনি ভুলে গেছেন যে বিজয়, প্রশিকা, শহীদলিপি এরা টাইপরাইটার দিয়ে টাইপ করতে অভ্যস্ত হাজার হাজার টাইপিস্ট ও দলিল লেখককে কম্পিউটারে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করছিল। ফলে তারা টাইপরাইটারের ব্যবহারের সঙ্গে মিল রেখেই কি বোর্ড লেআউট করার চেষ্টা করেছে।

প্রতিবেদক একবার বললেন অন্তত একটি কী-তে পার্থক্য আছে, আবার বললেন আগে একার পরে একার এটাও একটি পার্থক্য, তারপর বললেন ৮টি কী-তে পার্থক্য আছে। আপনি বলছেন তাছাড়া আপাত দৃষ্টতিে ৮টি বোতামরে র্পাথক্য দখো গলেওে আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ” এসব মৌলকি র্পাথক্য ধরলে অভ্র এবং বজিয়রে র্পাথক্য শুধুমাত্র ৮টি বোতামইে সীমাবদ্ধ নয়।…

তার মানে প্রতিবেদক নিজে কনফিউজড এবং আপনি নিজেও নিশ্চিত না যে এগুলো মৌলিক পার্থক্য কিনা। নইলে “ধরলে” বলছেন কেন?
আপনার মত অনুযায়ী, দুুটি কী-বোর্ডে আংশিক মিল থাকলে সেটিকে কখন আইনের লঙ্ঘন বলা যাবে সেটা তো পার্থক্য নির্ধারণকারী বিশেষজ্ঞরা বলবেন। তাহলে মিল থাকলেও তারা বলবেন, না থাকলেও তারাই বলবেন। আনিস রায়হান কি সেই বিরাট বিশেষজ্ঞ যে তিনি আগেভাগেই বলে দিলেন দুটি কি বোর্ডে মিল নেই এবং এটা কপিরাইট লঙ্ঘন করে নাই।

১৪. বিজয়ের কী-বোর্ডের সঙ্গে অভ্রের কী-বোর্ডের মিল নয়, এর অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি বা ব্যবহারীবান্ধব সুবিধা যদি একে জনপ্রিয় করে তবে কেন আপনারা জব্বার সাহেবকে লেআউটটা ফ্রি করে দিতে বলছেন? আপনার কথা অনুযায়ী বিজয় তো এমনিতেই বাজার থেকে দূর হয়ে যাবে। কারণ এতে যথেষ্ট সুবিধা নেই। সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা কিভাবে হয় এই নিয়ে বিরাট জ্ঞানদানের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এই তর্কের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও নেই। আর আপনি যদি মেনে নেন যে বিজয়ও একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যার তবে এই কাজগুলো মোস্তাফা জব্বারও তাহলে শুরু থেকে করেছেন এবং এখনো করছেন। যদি তাই হয় তবে তার ৩০ বছরের শ্রমের দাম আপনারা বুঝতে পারছেন না কেন? যেখানে আপনি লিখেছেন নন ফ্রি সফটওয়্যারের বেলায় এটি আরো বেশি দরকার।

১৫. আমি এক ফন্ট থেকে আরেক ফন্টে পরিবর্তনের কথা বলি নাই। আমি কন্ট্রোল অল্টার বি চেপে বাংলা কী-বোর্ড সিলেকশনের যে প্রসেস এবং শুরুতে ছবিসহ বিজয় লোডের যে প্রক্রিয়া সেটার কথা বলেছি। এফ সিক্স চেপে বাংলা কী-বোর্ডে চলে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক বলেছিলেন যে এটা একটা বিরাট সুবিধা। আর এক ভার্সনের সঙ্গে পরের ভার্সনের ডকুমেন্টের যে কনভার্সন সংক্রান্ত জটিলতা সেটা বহু সফটওয়্যারে আছে। এমনকি এ্যাক্রোবেট পিডিএফ এও এটা ছিল। ভিস্তাতে করা বহু ফাইল এক্সপিতে খোলে না। আমি এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করি নাই। আপনি অযথাই এই বিষয়টির অবতারণা করেছেন।

১৬. হা হা হা করে হাসার কোনো কারণ নাই। আপনি কিন্ত আমার কথাটাই ব্যাখ্যা করেছেন। আমি কোথাও বলি নাই লিনাক্সের জন্য বানালে সেটা ব্যবসায়ী পণ্য হবে না। আমি এ কথা বলেছি কারণ ব্যবসায়ী পণ্য তৈরি হয় বিক্রিও জন্য। কোনো বাজারে যে ও এস এর জনপ্রিয়তা বেশি, পণ্য সেটাকে লক্ষ্য করেই তৈরি হয়। নিজের জ্ঞান জাহির করার জন্য পত্রিকার পাতা ভরে ব্যাখ্যা না দিয়ে আমি ভেবেছি শিক্ষিত পাঠক এটা পড়লেই বুঝবেন। আপনি কি বানাচ্ছিলেন, কি করেছেন সে সবের বর্ণনা না দিয়ে মূল কথাটুকু বললেই আমি বুঝতাম। একটু পরেই আপনি লিখলেন তিনি লিনাক্স ভার্সন বের করলে নাকি তৃতীয় বিশ্বের দেশে পাইরেটেড ও এস ব্যবহার বন্ধ হয়ে যেত?

হা হা হা .. এবার আমি একটু হাসি। আপনার ধারনামতো তাহলে বিজয় এত জনপ্রিয় যে বিজয় ব্যবহারের জন্য মানুষ লিনাক্স বেছে নিত? নাকি আপনি ভাবছেন লিনাক্সের জন্য বিজয়ের ভার্সনটি ফ্রি হতো? একটু আগেই না বললেন, লিনাক্সে মহা দামি দামি সফটওয়্যার আছে সেটা নাকি আমি জানি না। বার বার বৈশাখী টিভিতে জব্বার সাহেব কি বলেছেন, সেটা বলছেন কেন? আমার লেখার উত্তরের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক? তিনি বা আপনি কোথায় কি বললেন সেটা নিয়ে আমি তো একটুও বদার্ড নই। আমি লিখেছি আনিস কি বলেছেন সেটি নিয়ে। আলোচনা সেখানে না রেখে বিবিসি থেকে বৈশাখী পর্যন্ত দৌড়াচ্ছেন কেন? জব্বার সাহেব কি বলেছেন সেটি তার বিষয়। আমি কি বলেছি সেটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। প্রকাশনা সংস্থার উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, বিজয় কোনো চয়েস রাখে নাই। সেটা তো একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আপনাদের নির্দেশ কিংবা চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসা করতে হবে সবাইকে। এবার আপনাকে একটু জ্ঞান দেই। প্রকাশনার কাজে শুধু ওয়ার্ড প্রসেসর লাগে না। আরো অনেক সফটওয়্যার লাগে। আপনার কি ধারণা সেগুলো সব পয়সা দিয়ে কিনে নিত প্রেসের মালিকেরা? লিনাক্সের জন্য এই সব সফটওয়্যারগুলোও কি সহজেই পেতেন সেই প্রেসের মালিকেরা? অভ্র ব্যবসার কথা চিন্তা করে নাই। সেটার জন্য তাদের ধন্যবাদ দিন। তাই বলে আরেকজন ব্যবসায়ীকে গালি দিতে হবে? আর সোনার ছেলেরা এই কাজের মাধ্যমে কি চেয়েছে? আপনি নিজেই লিখেছেন তারা সফটওয়্যারের মুক্তি চায়, মুনাফা নয়। হা হা হা। সত্য কথা এভাবেই পেট থেকে বের হয়। আমিও কিন্তু সেটাই লিখেছি। সফটওয়্যারের পক্ষেই মুক্ত হওয়া সম্ভব। ভাষা হোক উন্মুক্ত – এটা কেবল আবেগ। একটা বা দশটা সফটওয়্যারের বিক্রি বা ফ্রি হওয়া কেবল সফটওয়্যারের মুক্তির সঙ্গেই সম্পর্কিত, ভাষা এমনিতেই মুক্ত। অভ্র বা বিজয়ের বেচাকেনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

১৭. আমি বুঝলাম আপনি মনোযোগী পাঠক নন। আমার লেখার মধ্যেই আমি বলেছি জুকারবার্গের কথা। আমি জানি কিভাবে ওপেন সোর্স থেকে পয়সা কামানো যায় বা কিভাবে ফ্রি ই-মেইল বা ফেসবুকের পয়সা আসে। আপনার উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। আমি কতটা পড়ুয়া সেটা আমার পরিচিতরা জানেন। আপনাকে উপদেশ দেই আমার লেখাটিই মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়তে। তাহলে বুঝতেন আপনি পড়েন লাইন বাদ দিয়ে দিয়ে। আর আপনাকে আমন্ত্রণ আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি দেখে যেতে। সব বই গুনতে আপনার ১বছর লাগবে আর পড়তে অন্তত ৩৫ বছর। আপনার ব্যবসার হিসাব চর্চা দেখে খুব ভালো লাগল। এত সহজে হিসাব করে ফেললেন খরচ? অফিস ভাড়া নাই? বিপণন বা মার্কেটিংয়ের খরচ নাই? কোনো ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট নাই? কম্পিউটার এর প্রসেসর আর মাদারবোর্ড গত ২০ বছরে বদলে গেছে কমপক্ষে ১৪ বার। একটা করে কিনলেও তো ১৪টা কম্পিউটার লেগেছে ২০ বছরে। আর যদি ধরি একটা অফিসে ৫টা পিসি আছে, তবে তার সংখ্যা হয় ৭০টা। আপনি নিশ্চিত যে জব্বার সাহেব সব পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন? তিনি প্রথম বিজয় করেছিলেন ম্যাক-এর জন্য। ম্যাক-এর পাইরেটেড সফটওয়্যার তো তখন পাওয়াই যেত না। এখনো পাওয়া কঠিন। এরপর তো আপনি দয়ালবাবা সেজে গেলেন। মনে মনে মানসাঙ্ক কষে বলে দিলেন যে একটা সরকারি প্রজেক্টেই তার ৬ কোটি টাকা উঠে আসার কথা। বিশ বছরে চল্লিশটি এ রকম প্রজেক্ট করেছেন তিনি এটাও হিসাব করলেন। আপনি জানেন সরকার প্রথম পিসি কিনেছে কবে? আমি ১৯৯৬ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে দেখেছি মাত্র ৫টি পিসি। যার মধ্যে ২ টি ছিল আমার অফিসে। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরেও একই অবস্থা ছিল। তখন কেবল একটি নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ২০টি পিসি সংগ্রহের কথা চলছিল মাত্র। অধিকাংশ সরকারি অফিসে বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার শুরুই হয়েছে ২০০১ সালের পর। আপনাকে আরো বলি, আপনি জেনে খুশি হবেন যে বিজয় বা মুস্তাফা জব্বার কখনো কোনো সরকারি প্রজেক্টে সরাসরি সফটওয়্যার বিক্রি করেন নাই। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বিজয়ের কোন উইন্ডোজ ভার্সন ছিল না। কেবল ম্যাক পিসিতে বিনামূল্যে বিজয় লোড করে দেয়া হতো।

একটা সরকারি প্রজেক্টেই ছয় কোটি টাকা উঠে আসা? আবার হাসি। হা হা হা। সরকারি কাজ টেন্ডারে পেতে হয়। টেন্ডারে পাওয়া কাজে যদি ১৫% লাভও হয় তবে প্রজেক্টটির মূল আয় হতে হবে কমপক্ষে চলি¬শ কোটি টাকা। এবার আপনার হিসাবের কথা সত্য হলে বিশ বছরে চল্লিশটি ছয় কোটি টাকা আয়ের প্রজেক্ট মানে দুই শ’ চল্লিশ কোটি টাকা আয়, মানে ষোলো শ’ কোটি টাকার কাজ? আমাকে কতকিছু শিখতে উপদেশ দিলেন। আপনি কি অংক জানেন আসলেই? মজা হলো সরকার আলাদা করে বাংলা সফটওয়্যার কেনে না। কিনলে সেটি কেনে পিসির সঙ্গে। ২০০ টাকা করে একটি বিজয়ের দাম ধরলে ১৬০০ কোটি টাকার বিজয় মানে ৮ কোটি বিজয় এর সিডি। মানে ৮ কোটি পিসি? আপনি অবশ্যই পানি মনে করে অন্য কিছু খেয়ে ফেলেছিলেন।

মোস্তাফা জব্বার যদি কাউকে পয়সা না দেন, তার উচিত দেশের শ্রম আইনে তার নামে মামলা করা। ইউ টিউবের ভিডিওটি দেখেছি আমি। এটার সত্যতা আছে কিনা সেটা যিনি পয়সা পাননি তার দেশে এসে প্রমাণ করা উচিত। তবে একটি বিষয় হলো আমার লেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবারো জব্বার সাহেবের ব্যবসার হিসাব, টাকার হিসাব, অনাদায়ী দেনাসহ নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন আপনি। এর সঙ্গে আমার লেখার কি সম্পর্ক? গরু রচনা কে লিখল তাহলে?

১৮. আপনি এবং আমি যদি দুটি ভিন্ন লেআউট ব্যবহার করি তবে সেটি সিলেক্ট করে নিতে হয়। যদি আমার লেআউটটি আমার নিজের তৈরি করা হয় তবে সেটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ আপনি আমার বাটনগুলো চেনেন না। তখন আপনাকে আপনার একটি লেআউট দিয়ে আমার লেখাটি এডিট করতে হবে। আমি এ কথাটি বলতে চেয়েছি। তার মানে দাঁড়ায় বাংলা টাইপ করার জন্য আপনি কারো পরীক্ষা নিতে চাইলে সে তার নিজস্ব লেআউটে দেখিয়ে দেবে তার স্পিড। অনেকটা সবাই যার যার পছন্দ অনুযায়ী ব্যাট নিয়ে ক্রিকেট খেলার মতো। একটি অফিসের জন্য এটি সমস্যা হতে পারে।

অটো কারেক্ট নিয়ে কথা বলেছিলেন আনিস রায়হান। আমি বলেছি এটা কোনো বিরাট অসুবিধা নয়। ওয়ার্ডের অপশনটি অফ করে দিলেই সেটা ঠিক হয়ে যায়। মজা হলো অভ্র বনাম বিজয়ের তর্কে, সফটওয়্যার দুটির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। আলোচনাটি হওয়া উচিত ছিল কপিরাইট ও আচরণ নিয়ে। আনিস অভ্রের ম্যানুয়ালের লেখত হয়ে গিয়ে নানা রকম সুবিধা-অসুবিধার কথা লিখেছিলেন বলেই আমি এটা লিখেছিলাম। তবে আপনার কথা অনুযায়ী যদি শেষ পর্যন্ত কি টাইপ হলো সেটাই যদি বড় কথা হয়, তাহলে তো অটো কারেক্ট কোনো সমস্যা না।

১৯. আপনি একমত হয়েছেন যে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা বলা ঠিক না। তাকে শ্রদ্ধা জানালেন। ব্যবসা করা অন্যায় না। এটাও বলেছেন। ইউকে তে মাইক্রোসফ্টকে অন্য ব্রাউজার বেছে নিতে দিতে হয়। ঠিক কথা। এটা তো যারা ও এস বানান তাদের বিষয়। ও এস এর সঙ্গে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার না করতে দিলে মনোপলি হয়ে যায়। একমত। জব্বার সাহেব এর তো আর বাধা দেয়ার ক্ষমতা নেই আপনি যদি অভ্র বেছে নেন। তিনি তো ও এস নির্মাতা নন। বরং তিনি লিনাক্সে অভ্রকে একচেটিয়া খেলার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন আগেই। আর উইন্ডোজেও অভ্র ফ্রি পাওয়া যায় আর তারটা কিনতে পয়সা লাগে। তিনি কেবল বাধা দিয়েছেন লেআউটে। এটা নিয়ে কথা বলেন। নাকি আপনি আশা করছেন জব্বার সাহেব বিজয় বেচার সময় ক্রেতাকে একটা অভ্র সাধবেন? অভ্রের এত বেশি সুবিধা থাকার পরও একটা লেআউটের জন্য এত হৈচৈ কেন? কারণ লেআউটটি না থাকলে অভ্রের লস।

আপনি একমত হয়েছেন যে কারো সম্পর্কে কটূক্তি করা অভদ্রতা। ধন্যবাদ। তার মানে আপনি যখন আমাকে টেকান্ধ, পাগলের প্রলাপ বকা, গরু রচনা লেখা ছাত্রের সঙ্গে তুলনা করা, পড়তে উপদেশ দেয়া, আমার গুনতে জানা নিয়ে প্রশ্ন করা, চাটুকার, পা-চাটা ইত্যাকার অসম্মানজনক বক্তব্য লেখেন, আপনার লেখার নিচে নানাবিধ পশুর সঙ্গে জব্বার সাহেবও আমাকে তুলনা করার বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেন, তখন আপনি নিজেই কি অভদ্র ও দুষ্টলোক হয়ে যান না?

আমি কোথাও বলিনি অভ্র পাইরেটেড। আমি বলেছি বিজয়ের সঙ্গে মিল আছে যে কী-বোর্ড লেআউট সেটি নিয়ে। সেটি যদি অভ্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয় তাহলে আমার কথা অভ্রের গায়ে লাগে। আর যদি সেটি অবিচ্ছেদ্য না হয় তবে সেটি অভ্রের গায়ে লাগে না। আমি অভ্রকে একবারও চোর বলি নাই। আমি কপিরাইট আইনের বিষয়টি বোঝাতে কলম ও চোরের উদাহরণটি ব্যবহার করেছি। আর অভ্র টিম যদি গালাগালিতে জড়িত না থাকে তাহলে যারা গালাগালি করছে তাদেরকে বিপ্ল¬বী, প্রতিবাদী বলে উৎসাহ দিচ্ছে কারা। দেখেন তো আনিসের লেখাতে কে বলেছে এই কথাগুলো? আর অভ্রকে যারা চোর বলেছে তাদের ব্যাপারে আইনি লড়াইয়ে যাবার কথা আপনি শুনেছেন। আমার লেখা জব্বার সাহেব ঠিক করে দেন, এটাও শুনেছেন। আপনার লেখার নিচে যারা আমাকে এবং আরো কাউকে কাউকে উদ্দেশ করে কুমন্তব্য করেছে তাদের জন্য আমিও ভাবছি, আইনি লড়াই করব কিনা? তবে একটা কথা বলতে পারেন, এই লোকগুলো গালি না দিয়ে কথা বলতে পারে না কেন? এরাই তো তারা, যাদের কাছে ভাষা উন্মুক্ত? এরাই তো সেই বিপ্ল¬বী? এদের কাছেই তো অভ্রের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা?

২০. আমি এই দেশে তৈরি আরো অনেক সফটওয়্যারের নাম জানি। ব্যবহারও করি। তাদের কোনোটিই জনপ্রিয়তায় বিজয়ের ধারেকাছে নাই। এটাও সত্য। শতকরা ৯০% ব্যবহারকারী বিজয় ছাড়া আর কোনো দেশি সফটওয়্যারের নাম জানেন না। আর আমি কোথাও বলি নাই যে আমি ব্যক্তিগতভাবে পাইরেটেডে সফটওয়্যার ব্যবহার করি। আমি নিজেকে নিয়ে আলাদা করে বলব না বলে বিনয় করে বলেছিলাম আমরা সবাই। আমার ব্যবহার করা প্রতিটি সফটওয়্যার আসল। কারণ আমি যে ব্যবসা করি সেখানে আসল সফটওয়্যার রাখতেই হয়। মাথা কার ঠিক নাই সেটা ১৬০০ কোটি টাকার হিসাবেই বোঝা গেছে।

২১. আমি যাকে প্রশ্ন করেছি বুঝেই করেছি। কার জ্ঞান কতটুকু সেটা বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। আপনার বায়ো ছেপে দেয়ার দরকার ছিল না। তবে আপনার ব্যবসা জ্ঞান নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে আনিসের মতোই। ব্যবসার খরচ কেবল বেতন আর অফিস খরচ, ২০ বছরে ৪০টা ৬ কোটি টাকা আয়ের প্রজেক্ট…….বায়ো না দিলেও বুঝি, আপনার ব্যবসা জ্ঞানের গভীরতা।

২২. যদি সেই বলপয়েন্টের নাম এর অংশ, প্যাকেট কিংবা ডিজাইনের সঙ্গে অন্যেরটা মিলে যায়, তখন আপনি মামলা করতে পারেন। তবে আপনার যে ব্যবসাবুদ্ধি তাতে আপনার পেন বাজারে চলবে না।

সব শেষে আমার লেখাটিকে আবর্জনা বলেছেন। যেটা আবর্জনা সেটা তো আবর্জনাই। সেটা নিয়ে দুই পর্বে লিখে হাজার হাজার শব্দ খরচ করলেন কেন? কেন এত সময় ব্যয়? আপনি লিখেছেন আপনার লেখাতে সব যুক্তি অকাট্য হলেও তবু মানুষ মুখচেনা তুষারকে মূল্য দেবে। আমি মেনে নিচ্ছি আমার কোনো জ্ঞান নাই। আমি মূর্খ। তাই বলে বাংলাদেশের সব মানুষ মূর্খ? তারা আপনার যুক্তি না বুঝে, বিশ্বাস করবে আমাকে?

আমাকে জ্ঞানহীন, প্রলাপে লিপ্ত পাগল, টেকান্ধ, বিজয়ের পা-চাটা, চাটুকার, লেখাটিকে আবর্জনা এতসব বলবার পর কেবল আমি তার্কিক এজন্য আপনি আশাবাদী হয়েছেন। আর কেবল মুখচেনা এই লোকটির কাছে আবার করজোরে অনুরোধও করেছেন। মুখচেনা এই লোকটি হঠাৎ এত মূল্যবান হয়ে গেল লেখার শেষে এসে? আপনার স্ববিরোধিতা এখানেই। যাকে মুখচেনা প্রলাপসর্বস্ব আবর্জনা লেখক বলেন তার কাছে হাতজোড় করতেও পারেন।

আপনার জায়গায় আমি থাকলে সক্রেটিসের বলা কথাটি স্মরণ করতাম। যে মূর্খ সে জানে না সে নিজে মূর্খ আর যে জ্ঞানী সে জানে যে সে নিজে মূর্খ। এবার আপনাকে নিয়ে লিখি।

১. আপনি লিখবেন বলেছিলেন আমার লেখার উত্তর। লিখলেন ব্যবসার হিসাব, সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তার সূত্র, শর্টিংয়ের নিয়ম। যার সঙ্গে আমার লেখার কোনো সম্পর্ক নেই। গরুর রচনা আর কাকে বলে?

২. আপনার কাছে বা আনিস রায়হানের কাছে আমার প্রশ্ন। তর্কটা কোথায়? তর্ক এটি নিয়ে নয় যে সফটওয়্যার হিসেবে কোনটা ভালো? বিজয় না অর্ক? তর্কটা হলো বিজয়ের লেআউট কি কোনো ভাবে আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে? হয়ে থাকলে সেটা কি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন? এ ব্যাপারে আপনারা বলছেন যে, লঙ্ঘন হয়নি। জব্বার বলছেন হয়েছে? রায় দেবে আদালত। অপেক্ষা করতে অসুবিধা কি?

৩. আনিস রায়হান তার প্রতিবেদনে কেন দুটি সফটওয়্যারের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে লিখতে গেলেন? এটার সঙ্গে তর্কের সম্পর্কটা কি?

৪. ভাষা হোক উন্মুক্ত না বলে আপনিও কিন্তু বলেছেন সোনার ছেলেরা সফটওয়্যার উন্মুক্ত করেছে। তাহলে একটা কী-বোর্ড নিয়ে এত হাহুতাশ কেন?

৫. কোনো পণ্য বাজারে থাকলে বা তার পাইরেটেড ভার্সন বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায়। তাই বিজয়ের লেআউটটা উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। এটা মেহেদী হাসান খান বলেছেন বলে সাপ্তাহিকের প্রতিবেদক লিখেছেন। আপনি এই বিষয়ে কিছু বললেন না কেন?

৬. আপনার লেখায় কোথাও আসল দাবির কথা কিছু বলা নাই। আমি কম্পিউটার সম্পর্কে জানি কিনা সেটা প্রমাণ করার চাইতে, যা লিখেছেন সেটা সাধারণ পাঠক বোঝে কিনা সেটাই আসল কথা। তাই আমি আসকি আর ইউনিকোড নিয়ে কিছু বলি নাই। শর্টিং ও সার্চিং নিয়ে কিছু বলি নাই।

৭. আর আমাকে যে গালিগুলো দিয়েছেন সেগুলো প্রমাণ করে আমার শেষ লাইনটির প্রয়োজনীয়তা। গালাগাল করে যত খুশি ব্যান্ডউইথ খরচ করেন। আমি অভদ্রদের সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলি না।

tushar@gatimedia.com

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

অভ্র-বিজয় বিতর্কে আব্দুন নূর তুষারের অসার বক্তব্য – এস এম মাহবুব মুর্শেদ

2010/05/24 at 12:04 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

লেখকঃ এস এম মাহবুব মুর্শেদ

সাইটের প্রকৃতিঃ সচলায়তন কমিউনিটি

সময়ঃ (তারিখ: বুধ, ২০১০-০৫-১৯ ০৭:০৬)

লিংকঃ

জনাব আব্দুন নূর তুষার অতি সম্প্রতি সাপ্তাহিক নামক পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। প্রতিবেদনটি আনিস রায়হানের লেখা আরেকটি আর্টিকেলের সমালোচনা।

প্রতিবেদন দুটির লিংক আমি লেখার শেষে দিচ্ছি। উল্লেখ্য যে সাপ্তাহিকের লিংকটিতে একটি ম্যালওয়ার ইনস্টল করতে চায় কম্পিউটারে। তাই সাপ্তাহিকের লিংকটি না খোলার উপদেশ থাকল। পাঠকের সুবিধার্থে রায়হানের মূল লেখাটি এবং তুষারের প্রতিবাদের একটি কপিও নিচে দেয়া হল।

আরও জানতে পারলাম জব্বার সাহেব এই লেখাটি ঘষামাজা করে বিচিত্রায় ছাপার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বোঝাই যায় লেখকের সাথে জব্বার সাহেবের দহরম মহরম কীরকম এবং কেন লেখাটি পক্ষপাতদুষ্ট।

দুই খন্ডে প্রকাশিত এই লেখায় আমি তুষারের লেখাটির পয়েন্ট বাই পয়েন্ট যুক্তি খণ্ডন করব। এখানে আপাতত আমার অবস্থান পুরোপুরি ব্যাখ্যা করবনা। আমার উদ্দেশ্য আব্দুন নূর তুষারের এই গরু-রচনাবৎ লেখাটির অসারতা তুলে ধরা।

‘গরু রচনা’ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি মুখস্থ/শেখানো বিদ্যাকে যে কোনো সুযোগে ব্যবহার করার অপচেষ্টার কথা। এটি একটি কৌতুক থেকে এসেছে। এক ছেলে গরু রচনা মুখস্থ করে গেছে পরীক্ষা দিতে। কিন্তু পরীক্ষায় এসেছে নদী রচনা। ছেলেটি কোনোভাবে নদীতে গরুকে পানি খাইতে নিয়েছে রচনায়। তারপর বাকি পৃষ্ঠা ভরেছে গরু রচনা লিখে। আমার কাছে তুষারের যুক্তি প্রদর্শন এই রকমই মনে হয়েছে। আগে থেকেই তিনি বায়াসড ছিলেন। তাই যুক্তি নামের কুযুক্তি ব্যবহার করে দাঁড় করাতে চেয়েছেন তার বক্তব্য।

ব্যক্তি আক্রমণ নিয়ে একটি নোট
ব্যক্তি আক্রমণ হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যেখান একটি বিষয়ে তর্কের সময় একজন ব্যক্তির ধর্ম, বর্ণ, কিংবা তার অন্যান্য অসর্ম্পকিত কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিকে খাটো করা কিংবা বিষয় থেকে সরে যাবার চেষ্টা করা হয়। এই রূপে বিষয়টিতে জিতে যাবার একটা প্রচেষ্টা থাকে।

আমার এই বিশ্লষণে আমি সচেতনভাবে এই ব্যক্তি আক্রমণ এড়ানোর চেষ্টা করেছি। ব্যক্তি আব্দুন নূর তুষার সম্মানিত ব্যক্তিত্ব এবং কলামিস্ট। তার সাথে আমার শত্রুতা নেই এবং সেটা শুরুও করতে চাই না। কিন্তু এমন একটি বিষয়ে তিনি এহেন একটা আর্টিকেল লিখেছেন যে আমি তার যুক্তি গুলো খণ্ডাতে বাধ্য হচ্ছি।

প্রসঙ্গতঃ কিছু মন্তব্য চলে এসেছে এই বিষয়টিতে তার জ্ঞানের অসারতা লক্ষ্য করে। কিন্তু সেটা মোটেই তাকে মানুষ হিসেবে খাটো করবার জন্য নয়, কিংবা তাকে অপমান করে জিতে যাবার চেষ্টা করার জন্য নয়। আমার আলোচনার গণ্ডি শুধুমাত্র তার এই আর্টিকেলটাই। আশা করি তার্কিক আব্দুন নূর তুষার তর্কটাকে তর্ক হিসেবেই নিবেন। তবুও তিনি আহত হলে আমি শুরুতেই তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

বিশ্লেষণ

১।

প্রথমে আব্দুন নূর তুষার রায়হানের স্ট্যাটিসটিকস তুলাধুনা করেছেন। কিন্তু তুষার কি অবগত আছেন যে মুস্তাফা জব্বার বিবিসিকে বলেছেন যে, ‘বর্তমানে কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ বিজয় দিয়েই কাজ করছেন’? তুষার কি আদৌ জানেন, শতকরা ৯৯ শতাংশের কৃতিত্বের দাবি করতে কত শক্ত পরিসংখ্যানগত ভিত্তি এবং উপাত্ত থাকা প্রয়োজন?

পাঠকের গোচরে আনার জন্য বলি, শতকরা ৯৯ মানে একটি ঘরে যদি দশজন বাংলায় কম্পিউটার ব্যবহার করে তাহলে জব্বার সাহেবের দাবি অনুযায়ী তাদের দশজনকে (আরো সঠিকভাবে ৯.৯ জন) ই বিজয় ব্যবহার করে। চট করে একটা টেস্ট করা যায়। আপনার পাঁচজন বন্ধু, যারা বাংলায় লেখে, তাদের জিজ্ঞেস করুন তারা বিজয় ব্যবহার করে কি না। যদি একজনও বিজয় না ব্যবহার করে তাহলে জব্বার সাহেবের এই দাবি ভুল। কিন্তু তুষারকে এই যুক্তি বোঝাবে কে?

তুষার সাহেব রায়হানের তথ্য থেকে বের করলেন, ৬০% (বাংলা) × ১৫% (ইন্টারনেট) × ২০% (ইন্টারনেটে বাংলা) = ১.৮%। কিন্তু রায়হান যে এই হিসেবে বিরাট একটা ভুল করেছেন সেটা লক্ষ্য করলেন না। রায়হান বাংলা ব্যবহারকারীদের দুবার অর্ন্তভুক্ত করেছেন। সুতরাং সূত্রটা হবে ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহারকারী = X (বাংলা ব্যবহারকারী)% × Y (বাংলায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী)%। এই হিসেবে শতকরা হিসাবটি আরো বড় আসা উচিত।

যদি এই ভুল হিসাবটাই ধরি, শুধুমাত্র ১.৮% লোকই অভ্র ব্যবহার করে; তাহলেও জব্বার সাহেবে হিসেবের ৯৯% লোক বিজয় ব্যবহার করেন না। গুরুর এহেন ম্যানিপুলেশনের জবাবে এখন কী বলবেন তুষার সাহেব?

উপরন্তু কিন্তু রায়হান কোথাও দাবি করেন নাই বিজয় কতখানি ব্যবহার করে। তুষার কেন রায়হানের মুখের উপর কথা বসিয়ে দিতে চাইলেন বোধগম্য হলো না।

২।

আমি জানতাম তুষার বির্তক করেন। অভ্রের শ্লোগান কেন আপনার গাত্রদাহের কারণ হল বুঝলাম না। বিতার্কিকরা মূল প্রসঙ্গে যুক্তি না পেলে সম্ভবত এই “রেড হেরিং” উপস্থাপন করতে শেখেন। অভ্রের শ্লোগানটিকে অভ্রের কৌশল মনে হয়? নাকি একটি সৎ আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ?

৩।

সফটওয়্যার সেবা আর সফটওয়্যার পণ্যের মধ্যে পার্থক্য আছে। বিজয় পণ্যটি পয়সার বিনিময়ে দেয়া হয়। সঙ্গে হয়ত কর্পোরেটদেরকে সেবাও বিক্রয় করা হয়। কিন্তু অভ্রে সফটওয়্যারটি এবং সেবা (ওমিক্রনল্যাব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে) দুটোই বিনামূল্যে দেয়া হয়। অর্থাৎ বিজয় পণ্য এবং সেবা দুটোই বিক্রয় করছে, অভ্র দুটোই ফ্রি দিচ্ছে। তাই আপনার আর্গুমেন্ট ভিত্তিহীন।

অভ্র কোনোভাবেই কারো বুদ্ধি ধার করেনি। এই কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবে। তুষার সাহেব বুঝতে পারেননি। যদিও মেহদী হাসান খান একজন চিকিৎসক, কিন্তু সব চিকিৎসকই প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখেন না, অন্তত ‘একজন চিকিৎসক’ এ ব্যাপারে চরম মূর্খতার পরিচয়ও দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের আলোচ্য তুষার। আফসোস, তিনিও কলম ধরেছেন এই বিষয়ে!

৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

সারা পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় লেআউট

মাই গুডনেস! চোখে কী আপনার ঠুলি পরা নাকি? বিজয় নাকি সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেআউট!!! চাটুকার কি গাছে ধরে?

আব্দুন নূর তুষার wrote:

এখন সেই জনপ্রিয় লে আউটটির কয়েকটি কী বদলে একটু সুবিধা বাড়িয়ে বা কমিয়ে সেটিকে ফ্রি করে দেয়া কখনোই নতুন কোনো সৃজনশীলতা না।

আপনি ওপেন অফিসের নাম শুনেছেন? কিংবা গিম্প? সম্ভবতঃ না। ওপেন অফিস, মাইক্রোসফট অফিসের একটি ফ্রি অল্টারনেটিভ। আর গিম্প হল অ্যাডোবি ফটোশপের ফ্রি অল্টারনেটিভ। এখন ফ্রি সফটওয়্যারের জন্য মাইক্রোসফটের বা অ্যাডোবির ব্যবসা কি শেষ হয়ে গেছে? হয়ে যায়নি। কেননা তার প্রতিযোগিতায় এইসব ফ্রি সফটওয়্যারের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। প্রতিযোগীতার বাজারে এইটাই সুবিধা – টেকনলজি এগিয়ে যায়। সুবিধা ভোগ করে উভয়পক্ষই। অপরপক্ষে গত বিশ বছরে কিছু চাটুকার, সুবিধাভোগী হায়েনার সহায়তায় বিজয় বাজার দখল করে আছে একই জায়গায়। নিজেও আগেও বাড়েনি কাউকে আগে বাড়তেও দেয়নি। নতুন কোনো টেকনলজি বাজারে আনেনি, কাউকে আনতেও দেয়নি।

আপনার কি ধারণা অভ্র তৈরি করতে শ্রম দিতে হয় নাই? নাকি আপনিও মনে করেন যে অভ্র বিজয়ের কোনো কম্পিউটার থেকে পাইরেট করে তৈরি করে দিয়েছেন। সফটওয়্যার তৈরির শ্রম বুঝবেন কীভাবে? সফটওয়্যার তৈরি করে দেখেছেন কখনও? প্রক্রিয়াটা সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে? অভ্র কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তৈরি, আর বিজয় কোনটি দিয়ে তৈরি, বলতে পারবেন তুষার?

৫।

কোনো পণ্য দীর্ঘদিন বাজারে থাকলে এবং তার পাইরেটেড কপি বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায় না। কিন্তু এটাকে বাজার দখলের নীরব পদ্ধতি হিসেবে লক্ষ্য করা যায়। অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কথা জানেন নাকি তুষার সাহেব?

পিসি উত্তরণের সাথে সাথে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের মাধ্যমে এক চেটিয়া বাজার দখল করে। তখন থেকে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের সাথে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার সরবরাহ করতে শুরু করে। শর্ট টার্মে এতে মাইক্রসফটের ক্ষতি। কিন্তু লং টার্মে এটা একটা বিরাট জনগোষ্ঠীকে বাধ্য করবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করতে। সেইসাথে পুরো ইন্ডাস্ট্রি তাদের ইন্টারনেটভিত্তিক প্রোডাক্ট বানাবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জন্য। অর্থাৎ মাইক্রোসফট থেকে মুক্তি নেই।

এর ফলাফল হল বাজারে অন্যান্য প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা না পাওয়া। অন্য প্রোডাক্ট দাঁড়াতে না পারা। বিজয় এই দোষে দুষ্ট। এই কারণেই বাজারে দ্বিতীয় কোনো বাংলা প্রোডাক্ট দাঁড়াতে পারছে না। এটা বিজয়ে কৃতিত্ব নয়, এটা বিজয়ের কুচক্র।

সমস্যাটির ব্যপ্তিটি ছবিতে দেখুন। বাংলাদেশের সরকারি ফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে বিজয় দিয়ে যেন ফর্ম পূরণ করা হয়। বাংলা লেখার বাজার বিজয়ের এমনই দখলে যে, সরকার পর্যন্ত বিনামূল্যে বিজয়ের বিজ্ঞাপন করছে। কারণ অল্টারনেট সমস্ত প্রচেষ্টাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আর এই খুনের রক্ত জব্বার সাহেবের সাথে তুষারের হাতেও লেগে আছে।

সরকারি চিঠিতে বিজয় ব্যবহারের নির্দেশসরকারি চিঠিতে বিজয় ব্যবহারের নির্দেশ

কিন্তু আফসোসের ব্যাপার হল বাংলাদেশে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন নাই। তাই বিজয় আস্ফালন ঠেকানোর কোনো উপায় নাই।

৬।

যাক একটা বিষয় ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। একটা লিংক দেই এটা শুনুন: http://www.bbc.co.uk/bengali/in_depth/2010/03/100311_sma_big_interview_jabbar.shtml। তাছাড়া মুস্তাফা জব্বারের ব্যক্তিগত পেইজে কিছু আর্টিকেল আছে ওইগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

৭।

অভ্র সর্ম্পকে কিছু লেখার আগে আপনারও উচিত ছিলো ভালো করে জেনে নেয়া। অভ্র ডেভলপ করেছে মেহদী হাসান খান। তার সাথে অন্যান্য কয়েকজন আছেন, যাদের নাম আমি এখানে উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। অভ্র সফটওয়্যারটিতে লেখা আছে যে এটি ফ্রি। চিরকালের প্রশ্নটি কেন আসছে বুঝছি না – সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ফ্রি বললে সেটা চিরদিনের জন্যই বুঝায়। কালকে যদি অভ্র বা অভ্র ক্লোন ফ্রি না হয় তাহলেও অভ্রর বর্তমান ভার্সন ফ্রি থাকবে। আপনার দ্বিমত থাকলে সফটওয়্যার লাইসেন্সের আইনি রেফারেন্স দেখতে পারেন (এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী দাবি করবেন)।

বাই দ্যা ওয়ে, আপনার কিন্তু অভ্র বিষয়ে লেখার আগে অভ্রের ডেভলপারের সাথে কথা বলে নেয়া দরকার ছিলো।

৮।

ফোনেটিকে বাংলা লিখলে মানুষ বাংলা ভুলে যাবে?????

প্রথমতঃ অভ্র ফোনেটিক মানুষকে বাংলা ভোলানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাংলা লেআউটকে সহজ করার উদ্দেশ্যে। এ-এম-আই লিখলে ‘আমি’ তৈরি হয় কিন্তু ‘এ-এম-শিফট-আই’ কিংবা অন্য কোন কম্বিনেশনে লিখলে ‘আমী’ হয়। অর্থাৎ বানানটি কিভাবে লেখা হচ্ছে তার সাথে বানান জানার বিষয়টি সর্ম্পকযুক্ত নয়। ‘আমি’ লিখতে হলে ‘আমি’ বানানটাই জানা চাই। অর্থাৎ বানান না জানা থাকলে ফোনেটিকও যা, বিজয়ও তাই।

অভ্র বা বিজয় “কীভাবে” লেখা হবে তার সমাধান দেয়। কিন্তু অভ্র বা বিজয় দিয়ে “কী” লেখা হবে তার দায় বা কৃতিত্ব অভ্র বা বিজয় কোনোটাই দাবি করতে পারে না? অভ্র বা বিজয় দিয়ে লিখে যদি কেউ নোবেল পুরস্কার পায় তাহলে কী এই সফটওয়্যারের কোনোটি তার ভাগ দাবি করতে পারবে? তাহলে ভুল বানানের দায়ই এদের কোনটা বা নেবে কেন?

বরং এই ফোনেটিক বিষয় অত্যন্ত এমপাওয়ারিং। যে কেউ যে কোনো কম্পিউটারে বাংলা টাইপিং না শিখেই বাংলা লেখা শুরু করতে পারবে। এটা কম্পিউটারে বাংলা ভাষার ব্যবহারকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

বিদেশে জন্ম হওয়া বড় হওয়া বাচ্চাদের কথা ভাবুন। শুধুমাত্র ফোনেটিক আছে বলেই অন্তঃত এরা বাংলা লেখার কথা ভাবতে সাহস করবে। এই ফোনেটিক টেকনোলজীটা যে কতবড় একটা রেভোল্যুশন তা বলে বোঝানো যাবে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ফোনেটিক বাংলা প্রথম ১৯৯৯ সালে আবিষ্কার (উন্মোচন অর্থে) করে ন্যাচারাল বাংলা। পরে স্বতন্ত্রভাবে ২০০২ এ শাব্দিক এবং ২০০৩ এ অভ্র এটি উদ্ভাবন করে। শাব্দিক টিম গবেষণা করে এও দেখিয়েছে যে ফোনেটিক টাইপিংয়ে প্রথাগত টাইপিংয়ের সমমানের গতি আনা সম্ভব। এই পেপারটি আইত্রিপলীতে প্রকাশিত। বিজয়ের পা চাটতে গিয়ে আপনি তিনটি সফটওয়্যার এবং আইত্রিপলীতে প্রকাশিত একটি পেপারকে শুণ্যমানের বলেছেন। কীসের ভিত্তিতে তুষার সাহেব?

৯।

বিভ্রান্তিমূলক প্রচারনা তো করছেন আপনি। জব্বার সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন ৬টি কী তে পার্থক্য আছে (অর্ধসত্য)। মেহদী দেখিয়েছে ৮ টি কীতে পার্থক্য আছে। আর আপনি বলছেন একটি!!! গুনতে শিখবেন কবে?

১০।

মূল লেখার কিছু ইন্ডিকেট করছেন হয়ত। অপ্রাসঙ্গিক বিধায় আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছি না।

১১।

বোঝা গেল না এই পয়েন্টটি যুক্তি নাকি পাগলের প্রলাপ।

১২।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা এটা ভালো বলবেন।

আপনি অভ্র ব্যবহার না করেই কথা বলছেন? বিজয় ব্যবহার করেন বুঝি? এতো বিবিসির মতো হয়ে গেল – নিজেদের ওয়েবসাইট বিজয় দিয়ে বানিয়ে বিজয়ের গুণগান করা। “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” কথাটি শুনেছেন?

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি আমি বিজয় কিংবা অভ্র কোনোটাই ব্যবহার করিনা। আমি আমার নিজের তৈরি করা সফটওয়্যারে প্রভাত লেআউট ব্যবহার করি। তবে দুটিই দীর্ঘ সময় নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ফন্ট কেবল কোডিং না, এটার চেহারাটাই আসল।

বলেছেন মহামতি আব্দুন নূর তুষার! আপনার এই দাবিটির পিছনে আপনার কত দিনের ফন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা কাজ করছে? ফন্টের কোনো অংশটি আসল দাবি করার আগে ফন্ট তৈরির একটা অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি না? আমার তো তা-ই মনে হয়।

আপনার যুক্তিতে তো তাহলে জমজ ভাই বোন বা ক্লোনিং করা শিশুরা সব পাইরেটেড! বাই দ্যা ওয়ে সফটওয়্যার পাইরেসির সংজ্ঞা জানেন তো?

উপরন্তু ফন্ট নিয়ে এই আলোচনাও হয় “রেড হেরিং“এর অথবা জ্ঞানের অগভীরতার আরেকটি উদাহরণ। ফন্ট টেকনলজির সাথে অভ্রর কোনো সরাসরি সর্ম্পক নেই। ইউনিকোড টেকনলজিতে তৈরি অভ্র ফন্টের উপর নির্ভর করে না। আবার বলি, ইউনিকোড টেকনলজিতে তৈরি কোনো সফটওয়্যার ফন্টের উপর নির্ভর করে না। এটাই ইউনিকোড টেকনলজির বৈশিষ্ট্য। তাই উপরের সরকারি চিঠির মত কোনো নির্দিষ্ট ফন্টের কথা উল্লেখ করতে হয়না। ইউনিকোডে লেখা যেমন অমিক্রন ল্যাবের যে কোনো ফন্টে পড়া যাবে, তেমনি একুশ.অর্গের ফন্টে পড়া যাবে; পড়া যাবে মাইক্রোসফটের ভ্রিন্দায়। বিজয়ের সাথে অভ্র এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ভিন্ন কোডিংএ একই চেহারার ফন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেটাও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন কারণ সেখানে ডিজাইন নকল করা হয়েছে।

পাইরেসি বা কপিরাইট এই বিষয়ের কিছুই যে জানেন না সেটা আপনার এই লাইনটি পরিষ্কার করে দিল। তুষার সাহেব, কোনো বিষয় নিতে জানতে সেটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করে নিতে হয়। নাহলে এইরকম পাগলের প্রলাপ লেখার ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

১৩।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ এগুলো মৌলিক পার্থক্য না।

এটার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে কে? বিশেষজ্ঞ তুষার সাহেব?

ইউনিকোড এবং সর্টিং পদ্ধতির একটা ধারণা দেই। তাহলে হয়ত আকার একার আগে পরে করার কারণ বুঝতে পারবেন। অন্ধ হলে সবকিছু চোখে পড়ে না।

বাংলা সর্ট অর্ডার এইরকম হওয়া উচিত যেন – ব্যঞ্জনবর্ণ অনুযায়ী শব্দগুলো আগে আসে। যদি দুটি শব্দের প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণটি একই হয় তাহলে যুক্তাক্ষরের ক্ষেত্রে তুলনা করা হবে সঙ্গের ব্যঞ্জনবর্ণটিকে। তৃতীয় তুলনায় আসবে সঙ্গের স্বরবর্ণটি। এরপরে, শুধুমাত্র এরপরেই আসবে দ্বিতীয় অক্ষর তুলনার ব্যাপারটি।

প্রতিটি বাংলা যৌগিক বর্ণ তুলনার গ্রামারটি নিম্নাকারে উপস্থাপন করা যেতে পারে:

[ব্যাঞ্জনবর্ণ+ব্যাঞ্জনবর্ণ+…][স্বরবর্ণ]

ঠিক এইকারণেই, ঠিক এইভাবেই ইউনিকোডে অক্ষর গুলো সংরক্ষণ করা হয়। এতে করে স্বরবর্ণ অক্ষরের পূর্বে বসে সর্ট অর্ডার ভন্ডুল না করে।

সুতরাং ইউনিকোড অনুযায়ী: “ক্ষরা, কিরে, কাক, খাওয়া, কিসে” শব্দগুলো সর্ট হবে (আপাত তুলনায় ম্যানুয়ালী সর্ট করা):

কাক (কা এর আকার)
কিরে (কি এর হ্রস্ব-ই-কার)
কিসে (দন্ত স)
ক্ষরা (ক-হসন্ত-ষ)
খাওয়া (খ)

এখানে স্বীকার করছি যে, বাংলা সর্টিং নিয়ে আমার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। বিষয়টি জটিল। এমনকি এব্যাপারে একটি পেপারও প্রকাশিত হয়েছে আইত্রিপলীতে। যতদূর জানি অংকুর এ বিষয়ে কাজ করছিল।

মোদ্দকাথা, ইউনিকোড বাংলা সর্টিংয়ের সমস্যা বর্ণবিন্যাসের মাধ্যমে আংশিক ভাবে সমাধান করে। বাকীটুকু সমাধানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থা কাজ করছে। বিজয় কিন্তু সর্টিং নিয়ে আমার জানামতে কোন কাজ করেনি। সর্টিং এবং সার্চিং কম্পিউটারের এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে বিজয় দিয়ে ডাটাবেইজ জাতীয় অ্যাপ্লিকেশনে কাজ করা যাবে না (বা গেলেও শ্রমসাধ্য হবে)।

তাই টেকান্ধ চোখে মনে হতে পারে যে স্বরবর্ণ আগে বা পরে বসে, এটা এমন বড় কী বিষয়? কিন্তু বিষয়টি ক্ষুদ্র হলেও এর পিছনে একটি অত্যন্ত শক্ত এবং গভীর বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। আর এটি অভ্রেরও আবিষ্কার নয়, ইউনিকোড কনসোর্শিয়াম এটি প্রণয়ন করেছে।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে দেখতে হবে, জে চাপলে ক হয় কিনা? কিংবা জি চাপ দিয়ে দিয়েই যুক্তাক্ষর বানাতে হয় কিনা?

দুটি কিবোর্ডে আশিংক মিল থাকলেই তাদের মৌলিকভাবে একই কিবোর্ড দাবী করা যায় না। এবিষয়ে QWERTY কিবোর্ডের ভ্যারিয়েশন নিয়ে তৈরী কিবোর্ড প্যাটেন্টের ঘটনাটি স্মর্তব্য। বিস্তারিত পাবেন এই লিংকে

তাছাড়া আপাত দৃষ্টিতে ৮ টি বোতামের পার্থক্য দেখা গেলেও “আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ” এসব মৌলিক পার্থক্য ধরলে অভ্র এবং বিজয়ের পার্থক্য শুধুমাত্র ৮ টি বোতামেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো ব্যাপরটি মিলিয়ে পার্থক্য গুলো দুটো কিবোর্ডকে একেবার ভিন্ন ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিণত করে। উপরন্তু অভ্যন্তরীণ টেকনোলজিও একেবারে ভিন্ন।

আবারও এই মন্তব্য এই বিষয়ে আপনার জ্ঞানের ঘাটতিই প্রমাণ করল!

১৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্রে ভুল তাড়াতাড়ি সংশোধন করা যায় এটা অবশ্যই একটি সুবিধা। কিন্তু এটা তো লে আউটের সঙ্গে সম্পর্কিত না।

সঠিক। রায়হান ভুল প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন হয়ত। আপনার সাথে আমি একমত।

কিন্তু এটাসহ আরও অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি ফিচারই আসলে অভ্রকে জনপ্রিয় করেছে। বিজয় কিবোর্ডের সাথে আপাত মিল এর জনপ্রিয়তার কারণ নয়।

সফটওয়্যারের সাফল্য অনেকে বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে কতগুলো মুখ্য উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার এমন একটি পণ্য যা ক্রমাগত বিবর্তনের ভেতর দিয়ে যায়। ইউজারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত ঘষে মেজে উন্নততর করতে হয়। ছোটখাটো সমস্যা সারাতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন তৈরী করে দিতে হয়। নন-ফ্রি সফটওয়্যার বিক্রির জন্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে হয়। সেটা ব্যবহারে ঝামেলা হলে পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। এত বিশাল একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আসে সফটওয়্যারের সাফল্য।

শুধুমাত্র বিজয় লেআউটের সাথে অভ্রর একটি লেআউটের আপাত আংশিক মিল আছে বলেই অভ্র এতগুলো মানুষের হৃদয় জয় করেনি। এই কলেজ পড়ুয়া ছেলেগুলো মানুষের হৃদয় জয় করেছে অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া সফটওয়্যারের কোয়ালিটি, সার্ভিস এবং তাদের মেধা দিয়ে।

১৫।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

বিজয়ের ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত বলেই বিজয় তার ফন্ট সিলেকশন ও স্টার্টিংয়ের ব্যাপারটি একই রেখে দিয়েছে।

আমি আপনার সাথে একমত নই। ফন্ট হল আসকি ভিত্তিতে গড়া বিজয়ের টেকনোলজির অন্যতম একটি অংশ। ফন্ট বদলালে লেখা ভেঙে যাবে। তাই বিজয়ে ফন্ট পরিবর্তনের জটিলতা দূর হবে না।

কিন্তু অভ্র ইউনিকোড ভিত্তিতে গড়া বলে ফন্টের উপর লেখা নির্ভর করে না। যেকোন ইউনিকোড ফন্টে লেখা একই থাকবে।

ঠিক এই কারনে বিজয় দিয়ে লেখা ডকুমেন্ট আপনি অন্য কম্পিউটারে কিংবা অন্য প্রোগ্রামে খুলতে পারবেন না। বিজয়ের ফন্টগুলোও এক ভার্সন আরেক ভার্সনের সাথে মেলে না। যেমন বিজয় ২০০০ এর সাথে পাওয়া ফন্ট ব্যবহার করে লেখা ডকুমেন্ট পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ভার্সনে পাওয়া ফন্টে ভিন্ন চেহারা নিতে পারে। ইউনিকোডে এই সমস্যা নেই।

১৬।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্রের লিনাক্স ভার্সন আছে কারণ এটি ফ্রি। বিজয় যেহেতু ব্যবসায়িক পণ্য তাই এটার লিনাক্স ভার্সন না থাকাটাই স্বাভাবিক।

হা হা হা… অনেক দিন এরকম মজার কোন কথা শুনিনা!

লিনাক্সের জন্য সফটওয়্যার বানালেই সেটা ব্যবসায়িক পণ্য হবে না সেটা একদম ভুল। আজকাল একটা বাচ্চা ছেলেও মনে হয় এটা জানে। আমি যে সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকুরী করি তাদেরও একটা পণ্য আছে লিনাক্সের জন্য – ফ্রি তো নয় মোটেও। আজই আমি লিনাক্সের জন্য আমাদের প্রোডাক্টের একটা মডিউল বানাচ্ছিলাম।

লিনাক্সের জন্য ব্যবসায়িক পণ্যের উদাহরণ দেই কিছু। যেকোন ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার (ইউনিগ্রাফিক্স, প্রো-ই, অ্যানসিস) লিনাক্স ভার্সন বিক্রি হয়। তাছাড়া অ্যাডোবী কিছু প্রডাক্ট যেমন অ্যাডোবী রিডার, ফ্লেক্স বিল্ডার, বোরল্যান্ডের ডেভলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ইত্যাদি প্রচুর প্রোডাক্ট লিনাক্সের জন্য হলেও পয়সা দিতে কিনতে হয়। এমনকি রেডহ্যাট এন্টারপ্রাইজ এবং সুস লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমও কিন্তু বিক্রি হয়। আসলে উইন্ডোজের মত সুবিশাল সফটওয়্যার লাইব্রেরী না থাকলেও লিনাক্সের জন্য অনেকর কমার্শিয়াল ভেন্ডর আছে। একটা কষ্ট করে গুগল করলেই জানতে পারবেন।

বিজয় লিনাক্সের জন্য তৈরী করা হয়নি কারণ বাংলাদেশে লিনাক্সের বাজার ছোট। লিনাক্সের জন্য ডেভলপ করলে কোন মুনাফার সুযোগ নেই। বাঙালি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করুক তাতে মুস্তাফা জব্বারের কী? তার তৈরি সফটওয়্যার কিনলেই হল। একেবার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।

এহেন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি লিনাক্স ভার্সন বের করে তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধের একটা সুযোগ তৈরী করতে পারতেন। তিনি তা করেননি। বৈশাখী টিভিতে বড় বড় কথা বলার সময় কিন্তু ঠিকই বলেছেন।

একটা প্রকাশনা সংস্থার কথা চিন্তা করুন। তারা বিজয় কিনেই ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু যেহেতু বিজয় লিনাক্সের জন্য পাওয়া যায় না তাই তারা বাধ্য হয়ে পাইরেটেড উইন্ডোজের সাথে বিজয় ব্যবহার করতে শুরু করে। ইটস অল অ্যাবাউট চয়েস, এবং বিজয় সেই চয়েসটা রাখে নি।

অভ্র কিন্তু ব্যবসার কথা চিন্তা করেনি। লিনাক্সে ডেভলপমেন্ট কিন্তু ছেলেমানুষী কথা না। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, প্রায় পাঁচগুণ বেশী কাজ করতে হয় ডেভলপ করতে গিয়ে। তবু এই সোনার ছেলেরা সেটা করেছে। কারণ তারা সফটওয়্যারের মুক্তি চায়, মুনাফা নয়।

১৭।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অভ্র বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় আর বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এটা অবশ্যই পার্থক্য।

একমত।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

যেমন সাপ্তাহিকে নেট ভার্সন ফ্রি কিন্তু আমি ছাপানো পত্রিকা টাকা দিয়ে কিনি। আমি কি এখন বলতে পারি যে ছাপানো সাপ্তাহিক বের করা যাবে না অথবা এটা ফ্রি করে দেয়া উচিত? প্রতিবেদক চাকরি না করে শুধু নেটে লেখালেখি করে ফ্রি সংবাদ দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো এতে? কিন্তু একদিন তিনি নিজেই সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতেন পেট চালাতে গিয়ে। এ কারণেই সফ্টওয়্যারও বিক্রি করতে হয় কাউকে কাউকে।

সফটওয়্যার পত্রিকা নয়। সফটওয়্যারের সাথে ম্যানুফ্যাকচার করা পণ্যের সরাসরি তুলনা চলে না। এই যে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ ফ্রি জিমেইল ব্যবহার করছে, ফেইসবুক ব্যবহার করছে পয়সাটা কোথা থেকে আসছে? কিংবা ওপেন অফিস, গিম্প, উবুন্তু ওএস এইগুলো যে ফ্রি ব্যবহার করছে মানুষ সেগুলোর রেভিনিউ সোর্স কী?

আপনাকে উপদেশ দিব কিছু বই পড়াশোনা করতে। ক্যাথিড্রাল এন্ড দ্যা বাজার বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। তাছাড়া ওপেন সোর্স মডেলে কীভাবে আয় করা যায় সেটাও গুগল করে কিছু আর্টিকেল পড়ে দেখতে পারেন।

তাছাড়া বিজয়ের খরচ কতটুকু? বিশ বছরে নতুন কোন ডেভলপমেন্ট তো দেখি নাই। আমি একলাই (অরূপ কামালের প্রাথমিক সাহায্যের পর) অনলাইন কিবোর্ড ইনপুট সেস্টেম তৈরী করেছি একমাসে। অভ্র মেহেদী একলাই বানিয়েছে। একই ভাবে ন্যাচারাল বাংলা, হাসিন হায়দারের উদাহরণ দেয়া যায়। অর্থাৎ বিজয় বানাতে একজন প্রোগ্রামার অ্যাপয়েন্ট করলেই চলে।

তবু ধরি, দুজন প্রোগ্রামার আর দুজন টেস্টার দিয়ে বছর বছর বিজয় ডেভলপ করা হয়। এতে কেমন খরচ হতে পারে? আসুন একটা সহজ এবং রাফ হিসাব করি।

ধরি, দুজন প্রোগ্রামার বিশ হাজার করে এবং টেস্টার পনের হাজার করে বেতন নেন। আর মোস্তফা জব্বার নেন মাসে একলাখ। ধরি আরও গোটা পাঁচেক কর্মচারী আছে যাদের বেতন গড়ে ধরি দশ হাজার করে মাসে। বছরে তাহলে খরচ মাসে কর্মচারীর বেতন বাবদ ২লাখ বিশ হাজার করে খরচ ২৬ লাখ চার হাজার টাকা।

অফিস খরচা মাসে ২০ হাজার করে বছরে দুই লাখ চল্লিশ। মোট হল ২৮ লাখ ৮০ হাজার। ধরি মোট ৩০ লাখের মত খরচ।

গত বিশ বছরে তাহলে খরচ মোট ছয় কোটি টাকা। শুনেছি সফটওয়্যার পন্য ডেভলপমেন্টে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না। আরও আন্দাজ করছি তিনি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। তাই প্রতি ডেভলপারদের জন্য ১২ হাজার ডলার করে মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কিনতে হয় না প্রতিবছর। তাছাড়া আমার ধারণা আমি একটু ওভার এস্টিমেট করেছি, খরচ অবশ্য এর অনেক কম কিংবা বেশী হলে মার্জিনালী বেশী হবে।

তাহলে শুধুমাত্র একটা সরকারী প্রজেক্টেই তার এই ছয় কোটি উঠে আসার কথা। বিশ বছরে কম পক্ষে তিনি চল্লিশটি এইরকম প্রজেক্টের বেশী পেয়েছেন আন্দাজ করছি।

এতকিছুর পরও মুস্তাফা জব্বারের বিরুদ্ধে প্রোগ্রামারকে পয়সা পরিশোধ না করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এই ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন।

সুতরাং সরকারী (আসলে সেটাও জনগনের টাকা) কিছু প্রজেক্টে উনার সমস্ত খরচ উঠে আসে এসে আরও লাভ থাকার কথা। অর্থাৎ খাওয়া পরে টিকে থাকার যে যুক্তিটা দেয়া হয় সেটা খুবই ঠুনকো।

কিন্তু তারপরও মুস্তাফা জব্বার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বিজয় ফ্রি করবেন না। ঠিক আছে। এটা অবশ্য আমি মেনে নিতে পারি। এটা উনার বিজনেস পলিসি হতেই পারে।

কিন্তু কারও সফটওয়্যারে বিজয়ের সাথে ন্যূনতম মিল থাকলেই কেন তিনি হা হা করে ছুটে আসবেন? কারণ আসলে কিছুই না – মনোপলি। একচেটিয়া বাজার ধরে রাখার চেষ্টা। নিজেও টেকনোলজিকে সামনে আগাবেন না কাউকে আগাতেও দেবেন না।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এটাও বলেছেন নতুন কোন টেকনলজি তিনি বের করেন নি কেননা তিনি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পাননি। পাইরেটেড সফটওয়্যার দিয়ে (আন্দাজ করছি) সফটওয়্যার বানাবেন তিনি, সরকার এবং জনগণের কাছে বিক্রি করে মুনাফা করবেন তিনি আর দাবি করবেন সরকার জনগনের টাকা দিয়ে তার গবেষণার পৃষ্ঠপোকতা করবেন! মামা বাড়ির আবদার নাকি?

১৮।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

কেননা এরপর সেই ডকুমেন্টটি এডিট করতে হলে সেই লোকটাকেই লাগবে আপনার। আপনার প্রতিষ্ঠানের একেকটি কম্পিউটারে থাকবে একেক লে আউটের কী-বোর্ড। সাপ্তাহিক-এর কর্তৃপক্ষ নিজে এটি তার অফিসে করতে রাজি হবেন?

না লাগবে না! এটাই তো ইউনিকোডের মজা। ইনপুট মেথড এবং রেন্ডারিং এর সাথে টাইপিং এর কোন সর্ম্পক নেই। ইনফ্যাক্ট এটা প্রতিটা ব্লগে ব্লগে ঘটে থাকে প্রতিদিন। কে কোন কিবোর্ডে টাইপ করছে কেউ জানে না। কিন্তু শেষমেষ এন্ড প্রোডাক্ট সবার জন্যই একই। এখানটাতেই ইউনিকোডের জয়।

এখানে কিন্তু আবারও তুষারের অজ্ঞানতা বিকট ভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ল। একটু জেনেবুঝে কথা বলার জন্যে মুখটা খুলবেন দয়া করে।

১৯।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

অটো কারেক্ট ফিচারের সমস্যাটিও কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য না। অটো কারেক্ট অফ করে দিলে বিজয়ের অক্ষর বা শব্দ পাল্টে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

কথাটা অ্যাম্বিগিউয়াস। বিজয়ের (মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের?) অটো কারেক্ট নাকি অভ্রের অটো কারেক্ট (একার, ইকার অবস্থান শুধরে নেয়া) ফীচারের কথা বলছেন সেটা বোধগম্য নয়।

যদি অভ্রের অটো কারেক্ট ফীচারের কথা বলে থাকেন তাহলে ১৩ নম্বর পয়েন্ট দেখুন। বিজয় দিয়ে মানুষ ভুল সর্ট অর্ডারে (একার, ইকার অক্ষরের আগে) টাইপ করে। অভ্র সেটাই ঠিক করে দেয়।

যদি বিজয়ের (মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের?) অটো কারেক্ট ফীচারের কথা বলেন তাহলে বলতে হয় যে, বিজয়ে আসকি ব‍্যবহৃত হওয়ায় তা স্পেলচেকার বা গ্রামার চেকার ইংরেজী বর্ণের সমন্বয় এবং ভুল শব্দ মনে করে অটোকারেক্ট করতে চায়। কিন্তু ইউনিকোডে তা যেহেতু ইংরেজী বর্ণে থাকে না তাই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের অটোকারেক্টে ধরার প্রশ্নই আসেনা।

২০।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

মোস্তফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করাটা অন্যায়। একজন মানুষ ৩০ বছর একটি খাতে শ্রম দিলেন, দেশের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের বার বার নেতৃত্ব দিলেন,

একমত। মুস্তাফা জব্বার তৎকালীন সময়ে একটি সফল সফটওয়্যার পণ্য তৈরী, বাজারজাত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাপ পূরণ করেছেন। তাকে এজন্য অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাই।

উদ্ধৃতি

বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। এর সঙ্গে সুদে ধার দেয়া কাবুলিওয়ালার মিল কোথায়? তার নিজের ধারণাপ্রসূত সফ্টওয়্যারটির স্বত্ব নিজের কাছে থাকবে না এটা কি দাবি করা উচিত? তার মানে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা ফেসবুকের জুকারবার্গ সবাই তো কাবুলিওয়ালা। ফেসবুকের ভেতরে বিজ্ঞাপনের টাকা তো তাহলে জুকারবার্গের উচিত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা।

একমত। ব্যবসা করাটা অবশ্যই অন্যায় কিছু নয়।

কিন্তু ব্যবসা করতে গিয়ে টেকনলজির পথ রোধ করা, যে কোন মূল্যে উঠতি প্রতিদ্বন্দ্বী সফটওয়্যারের পথ রোধ করা অন্যায় – মোনোপলি। এই মনোপলির চেষ্টা থেকে মাইক্রোসফটেরও মুক্তি মেলেনি। এই মাইক্রোসফট পিসির রেভোল্যুশনের জন্মদাতা। কিন্তু এখন ইউকে তে উইন্ডোজের সাথে অন্যান্য ব্রাউজার বাছাই করার সুযোগ দিতে হয় মাইক্রোসফট কে। বাজারের সেরা সফটওয়্যার বানায় বলেই কিন্তু ছাড় পায়নি মাইক্রোসফট। বরং সেকারণেই তাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে। মুস্তাফা জব্বার কেন ব্যতিক্রম হবেন?

২১।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

২০০৩ সালে ইউনিবিজয় তৈরি করেছেন যারা, তার অনেক আগে থেকেই মোস্তফা জব্বারের বিজয় লে আউট বাজারে ছিল। তাই মাত্র ৮টা কি অদল বদল করে ১০৫ টা কী-বোর্ডের একটি লে আউটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলাটা কতটুকু যৌক্তিক দাবি।

এ প্রসঙ্গ আগেও এসেছে। পয়েন্ট ৯ এবং ১৩ দেখুন।

২২।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

একজন ব্যবসায়ী যদি মনে করেন কেউ তার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে তিনি তো তার প্রতিকার চাইতেই পারেন। এটা নিয়ে আইনসঙ্গত লড়াই না করে, পত্রপত্রিকা, নেট কিংবা ব্লগে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা, লোভী, কার্টুন ক্যারেকটার কিংবা তাকে নিয়ে অসম্মানজনক ছড়া কবিতা লেখা প্রকৃতপক্ষে অভদ্রতা ছাড়া আর কিছু না।

একমত।

উদ্ধৃতি

তবে সেটা করতে গিয়ে আরেকজনের কলমের ডিজাইন বা কনসেপ্ট চুরি করে নিজে সেই একই ধরনের কলম বাজারে ফ্রি ছেড়ে দিলে সেটা কি ঠিক হবে?

ভুল তুলনা। ১৭ নম্বর পয়েন্ট দেখুন।

অভ্র কিছু চুরি করেনি। একদম স্বতন্ত্র্য ভাবে নিজের মেধা দিয়ে, প্রোগ্রামিং করে প্রতিটি লাইন লিখেছে। শুধু মাত্র, এবং শুধু মাত্র কিবোর্ডের কয়েকটি অক্ষর মিলে গেলেই তাকে চোর বলাটা খুবই অনৈতিক। উপরন্তু চুরির সংজ্ঞানূযায়ী জব্বার সাহেবকে প্রমাণ করতে হবে যে অভ্র তার বিজয়ের সোর্স চুরি করেছে। আইন বলে কেউ যদি নিজস্ব মেধা দিয়ে কিছু একটা তৈরী করে যা অন্য কারো উৎপাদনের সাথে মিলেও যায় তাহলে সেটা চুরি না। অভ্র আর বিজয়ের সোর্স সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব।

আপনার মত বিজ্ঞ (!) ব্যক্তি অভ্রকে চোর বললে ইন্টারনেটে আস্ফালন করা দুষ্ট লোকের সাথে আপনার কী পার্থক্য থাকে তুষার সাহেব?

উপরন্তু জব্বার সাহেবে কে গালাগালির ব্যাপারটা সুকৌশলে অভ্র এর উপর চাপানোর প্রয়াসটাও অবশ্যই নিন্দনীয়। এমন কোন প্রমাণ নেই যে এতে অভ্র টিম জড়িত। অভ্র আইনী পথেই অগ্রসর হচ্ছে এবং যারা জব্বারের সাথে তাল মিলিয়ে অভ্রকে চোর বলছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনী লড়াইয়ে যাবার কথা ভাবছে বলে শুনেছি।

২৩।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

একটি দেশে জনপ্রিয় স্বদেশী সফ্টওয়্যার মাত্র একটি। তার নাম বিজয়। দেশে ভালো সফ্টওয়্যার প্রোগ্রামাররা থাকতে চান না কারণ এই দেশের চাইতে বিদেশে তাদের কাজের দাম বেশি। এই দেশে সফ্টওয়্যার শিল্প দাঁড়ায়নি ভালোভাবে তার কারণ আমরা সবাই পাইরেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে পছন্দ করি কারণ আসলের দাম অনেক বেশি। সবাই তাদের সব সফ্টওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে গেলেই যদি ফ্রি করে দিতে বাধ্য হন সেটা কি এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিকাশের জন্য সহায়ক হবে।

নিজেই স্বীকার করছেন পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। আবার নিজেই সেটার বিরুদ্ধে কথা বলছেন!!!! কিরকম হাস্যকর রকমের কন্ট্রাডিক্টরী!!!! তার্কিক মহাশয়ের মাথা ঠিক আছে তো? আর দেশে ডেভেলপ করা কয়টা সফটওয়্যারের নাম জানেন আপনি, সে ব্যাপারেও আপনার পাঠক জানলো।

২৪।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

প্রতিবেদকের কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না। তবে তার উচিত ছিল এই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া।

আমি আপনার কম্পিউটার জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই। কম্পিউটার নিয়ে কী কাজ করেছেন আপনি?

আমার কম্পিউটার বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আন্দাজ করছি। ছোট্ট একটা বায়ো দিয়ে দেই। তবে, কবে কী করেছি সেটা ব্যবহার করে বাহবা না কুড়িয়ে আমি সবসময় আমার লেখা, মন্তব্য এবং কাজ দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে আগ্রহী। এখানে নিজের বায়ো দিতে বাধ্য হলাম বলে আমাকে ক্ষমা করবেন পাঠক।

আমি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ব্যাচলর করেছি। মার্স্টাসে মেজর ছিল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইনর কম্পিউটার সায়েন্স। আমার আন্ডারগ্রাজুয়েট গবেষণা ছিল কম্পিউটার এইডেড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এবং মাস্টার্সে কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বিষয়ে। এ পর্যন্ত আমার তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাচেলর শেষের পর অল্প কিছুদিন আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকুরীরত ছিলাম। বর্তমানে আমি একটি কম্পিউটার এইডেড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীতে সফটওয়্যার ডেভলপার পদে নিয়োজিত।

একাডেমিক/প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট ছাড়াও আমি এসিএম প্রোগ্রামিং কনটেস্টে প্রায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছি একসময়। বুয়েটের আইআইসিটিতে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও পড়িয়েছি এক সেমিস্টার। নিজের প্রয়াসে বেশ কিছু প্রোগ্রাম বানিয়েছি একসময়, যেগুলোর বেশীরভাগ বাজারজাত করা হয়নি। তাছাড়া নিজে থেকে অফলাইন বাংলা পরিবর্তক এবং অরূপ কামালের ইনিশিয়েটিভে অনলাইন বাংলা লেখনী এবং পরিবর্তক বানিয়েছি ২০০৬/২০০৭ সময়কালে। সচলায়তন ওয়েবসাইটটাও অরূপ কামালের সাথে যৌথভাবে ডেভলপ করেছি।

২৫।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

ভাষা উন্মুক্ত করার নামে সফটওয়্যার ফ্রি করে দিতে হবে এই দাবি করার আগে তাহলে দেশে সব কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত। কারণ কলম দিয়েও তো আমরা লিখি। ওটার জন্য পয়সা নেয়াও তাহলে অন্যায়। ভাষা তাহলে বন্দি হয়ে গেল কলম বিক্রেতার কাছে?

বারবার একই কথা বলছেন কেন? পয়েন্ট বাড়ালেই যুক্তি বাড়ে না। কলম আর সফটওয়্যারও একই ধরণের বস্তু নয়। দেশে যদি আমি একটি বলপয়েন্ট পেনের কপিরাইট করে অন্য সব বলপয়েন্ট পেনের বিরুদ্ধে মনোপলি করা শুরু করি, আপনি মানবেন?

আব্দুন নূর তুষার wrote:

আশা করছি আদালতে দেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী বিজয় ও অভ্রের এই দ্বন্দ্ব মিটবে।

মিটবে আর কীভাবে? যা টের পাচ্ছি জড়িত সবাই হয়ত জব্বার সাহেবের পকেটে।

আব্দুন নূর তুষার wrote:

পত্রিকাতে যারা লিখবেন তারা যুক্তি দিয়ে লিখবেন এবং গালাগাল করে দামি নিউজপ্রিন্ট এবং ব্যান্ডউইথ খরচ করবেন না।

আমিও তাই আশা করি। সেইসাথে একটু জ্ঞানও দরকার। নাহলে আপনার আবর্জনা পড়ে আমাদের সময় নষ্ট করাই সার হবে।

উপসংহার
তুষারের প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে আমার দ্বিমত থাকলেও একটা বিষয়ে আমি আশাবাদী। তুষার একজন তার্কিক। সুতরাং আমি আশা রাখি যুক্তির আলোকে তিনি তার ভুল গুলো শুধরে নিতে পারবেন।

একজন এস এম মাহবুব মুর্শেদের লেখায় যত অকাট্য যুক্তিই থাকুক না কেন একজন সাধারণ মানুষ মুখচেনা আব্দুন নূর তুষারের কথার মূল্যই বেশী দেবে। তাই তুষারের কাছে আমার করজোড়ে অনুরোধ নিজের ভুল গুলো শুধরে আপনার অবস্থানটাকে শুধরে নিন। তাহলেই বিজয়ের মনোপলির এই অপপ্রয়াস আমরা রুখতে পারব।

এটা তাই শুধু অভ্র বনাম বিজয় যুদ্ধ নয় এটা আমাদের ডিজিটাল বাংলা মুক্তির রূপরেখা। আসুন আমরা এক সাথে গলা মিলিয়ে বলি, “ভাষা হোক উন্মুক্ত”।

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

প্রযুক্তি বিতর্ক-বিজয় বনাম অভ্র – আব্দুন নূর তুষার

2010/05/24 at 12:03 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

অভ্র-বিজয় বিতর্ক নামে সাপ্তাহিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নিয়ে একজন বাংলা ব্যবহারকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হিসেবে আমার মতামত জানাতে চাই।

১. শুরুতেই প্রতিবেদক একটি জটিল শতকরা হিসেব দিয়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং এদের মধ্যে অভ্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে অংক ফেঁদেছেন। এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করার কৌশল। মোট ব্যবহারকারীর ৫০-৬০ শতাংশ ব্যবহার করেন বাংলা। ৫০ থেকে ৬০ এর মধ্যে ১০% পার্থক্য। কোন অ্যাপ্রক্সিমেট বা অনুমিত হিসেবে এত বড় রেঞ্জ বা সীমানা, প্রমাণ করে হিসাবটি মনগড়া। তার পরেও ধরে নিলাম এটা ঠিক। এই ৬০%-এর মধ্যে ১৫% যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে মোট ব্যবহারকারীর ৯% ব্যবহার করেন ইন্টারনেট। আবার এই ১৫% এর মধ্যে ২০% ব্যবহার করেন ইন্টারনেট বাংলা। তার মনে মোট বাংলা ব্যবহারকারী জনসংখ্যার মাত্র ১.৮% ইন্টারনেটে বাংলা লেখেন। যদি তাদের সবাইকে ধরে নেয়া হয় অভ্র ব্যবহারকারী তাহলেও বিজয়ের সঙ্গে অভ্রের কোনো তুলনা চলে না। কারণ লেখক শুরুতেই বলেছেন যে মোট ৫০-৬০ শতাংশ বাংলা ব্যবহারকারীর প্রায় সবাই বিজয় ব্যবহার করেন। এই হিসাবটি এভাবে বলা হয়েছে সুকৌশলে বিজয়ের পাশে অভ্রকে দাঁড় করানোর জন্য। অভ্রর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী বলে আসলে মিথ্যাচার করেছেন আনিস রায়হান। ১.৮% মানুষের পাশে ৬০%। অভ্র যদি আকাশ ছোয় তাহলে বিজয় তো তার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি জনপ্রিয় প্রতিবেদকের হিসাবমতেই।

২. ভাষা সবার জন্য উন্মুক্ত। এটা স্বতঃসিদ্ধ। সফ্টওয়্যার কিন্তু সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কারণ এটি কারো না কারো সৃজনশীলতার ফলে সৃষ্ট হয়। পৃথিবীতে যারা সফ্টওয়্যার উন্মুক্ত করে দেয়ার পক্ষপাতী তাদের পক্ষে যুক্তি আছে। কিন্তু সে যুক্তি মেনে নিলে লেখক, সাহিত্যিক, গানের শিল্পী, সুরকার কারোই কপিরাইট বা সৃজিত পণ্যের ওপর মালিকানা থাকা উচিত না। ভাষা উন্মুক্ত হলে গানও উন্মুক্ত, ছায়াছবিও উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। কারণ এরা সবাই ভাষা ব্যবহার করেই নিজেকে প্রকাশ করেন। তাই ভাষা হোক উন্মুক্ত এই কথাটিই ভুল। বলা যেতে পারে, সফ্টওয়্যার হোক উন্মুক্ত। মোস্তফা জব্বার বাংলা ভাষার কপিরাইট দাবি করেন নাই। তিনি দাবি করেছেন বিজয় সফ্টওয়্যার ও এর কী-বোর্ড লে আউট এর ওপর কপিরাইট। ভাষা হোক উন্মুক্ত বললে দরিদ্র বাঙালির আবেগ নিয়ে খেলা যায়। তাই এটাও অভ্র তৈরিকারীদের একটি কৌশল বলেই মনে হয়।

৩. মূল্য এবং বিনামূল্য, যেভাবেই কোনো বস্তু পাওয়া যাক না কেন দুটোই সেবা। হোটেল সেবা, মোটেল সেবা, সফ্টওয়্যারও সেবা। অভ্রকে তাই আলাদাভাবে সেবা আর বিজয়কে ব্যবসা বলাটাও ভুল। অভ্রর জনক মেহেদী হাসান খান বলেছেন বিনামূল্যে সেবা কেউ দিলে তাতে কারো বাধা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই মানবেন যে অন্য কারো বুদ্ধি ধার করে সেটা বিনামূল্যে দিয়ে দিলে তাতে বাধা দেয়া যেতে পারে।

৪. বিজয় কী-বোর্ডের লে আউটে কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু সারা পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় লে আউট এবং বাংলা ব্যবহারকারীরা এটাতে অভ্যস্ত হয়েছেন যেটা মোস্তফা জব্বার ও তার কর্মী দলের কৃতিত্ব। এখন সেই জনপ্রিয় লে আউটটির কয়েকটি কী বদলে একটু সুবিধা বাড়িয়ে বা কমিয়ে সেটিকে ফ্রি করে দেয়া কখনোই নতুন কোনো সৃজনশীলতা না। কেউ যদি কবি নজরুলের কবিতার মহাশ্মশান কে গোরস্তান বানিয়ে পুরো কবিতার মালিকানা দাবি করে তাহলে সেই দাবি কি গ্রহণযোগ্য? কারো যদি নতুন বাংলা ফন্ট বা ওয়ার্ড প্রসেসর তৈরি করতে ইচ্ছা করে তবে তিনি সেটি মৌলিকভাবে করলেই পারেন। মোস্তাফা জব্বার সবাইকে চা বানানো এবং খাওয়া শেখালেন নিজের অর্থ, শ্রম ও বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে, তাতে দু চামচ চিনি বেশি দিয়ে সেটা ফ্রি করে দিলাম। কারণ নতুনভাবে এটা তৈরি করলে নতুনভাবে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। এতে অভ্র তৈরি যারা করেছেন তাদের কৌশলটা টের পাওয়া যায়, বিজয়ের লে আউটের ঘাড়ে চড়ে নিজেদের জনপ্রিয় করার চেষ্টা।

৫. কোনো পণ্য দীর্ঘদিন বাজারে থাকলে এবং তার পাইরেটেড কপি বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায় এটা কি যুক্তিসঙ্গত কথা? জনস্বার্থে কেউ তার ব্যবসায়িক পণ্যের লে আউট উন্মুক্ত করে দেবে এটা তো মামার বাড়ির আবদার হয়ে গেল।

৬. ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে মোস্তাফা জব্বারকে কেউ বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এটা তিনি নিজে কোথাও দাবি করেছেন বলেও আমি জানি না। করে থাকলে এটা ঠিক হয় নি। কারণ এটা কোনো একজনের কাজ না, এটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল।

৭. মোস্তফা জব্বারের আক্ষেপ বা স্মৃতিচারণের বর্ণনা না দিয়ে প্রতিবেদকের উচিত ছিল তার সরাসরি মতামত নেয়া। বার বার লেখাটিতে মেহেদি হাসান খানকে অভ্রের জনক বলার মানেটা কি? তিনি কি নিজে একলা এটি ডেভেলপ করেছেন? আর তিনি যদি ওমিক্রনল্যাবের মালিক হয়ে থাকেন তাহলে এটা কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাকি কোনো চ্যারিটি? এই অভ্র সফ্টওয়ারটির কোথাও লেখা নেই যে এটি চিরকালের জন্য ফ্রি। লেখা আছে এটা ফ্রি ডাউনলোড করা যায়। কালকে এটা যে পণ্যে পরিণত হবে না এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা কোথাও নেই।

৮. অভ্রে রোমান হরফে এ এম আই টাইপ করলে সেটা আমি হিসেবে দেখানোর সুযোগ আছে। বিষয়টি ভয়াবহ। তরুণ সমাজ আর বানান শিখবে না। ভবিষ্যতে পেপারলেস সমাজে তাকে আর বাংলা বানান লেখা বা শেখার দরকার অনুভব করতে হবে না। আমাদের বর্ণমালা টিকে আছে তার ব্যবহারে, সেটা ভুলে গিয়ে তরুণ সমাজ বানান করবে টি ইউ এম আই, তুমি। এভাবে যদি বাংলা লেখা ঠিক হয় তাহলে একসময় বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারীরা আমাদের উর্দু হরফে বাংলা লিখতে বলেছিল আবার ইংরেজি হরফেও বাংলা লিখতে বলেছিল। তাদের ভূত দেখতে পাই আমি। কম্পিউটারে বাংলা বানান রীতি মনে রেখে কাউকে বানান করতে হবে না। ২৫ বছর পরে এর কি প্রভাব হবে সেটা কেউ ভেবেছেন?

৯. বিজয় এবং অভ্রের পার্থক্য বলতে গিয়ে কিছু অর্ধ সত্য এবং কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য লেখা হয়েছে। ইউনিজয় এবং বিজয়ে অন্তত একটি কি পজিশনে পার্থক্য আছে। এটা দিয়ে কখনো একে সম্পূর্ণ আলাদা বলা যাবে না। আর নামটি ইউনি অভ্র না রেখে ইউনিজয় রাখা হলো কেন?

১০. বিজয় উইন্ডোজ ৯৫, ৯৮ সাপোর্ট করে কারণ এটা অনেক আগে তৈরি। স্বাভাবিকভাবেই এটা অভ্রের সাপোর্ট করার কথা নয়। সমস্যা তো লে আউট নিয়ে। কে কোনটা সাপোর্ট করে সেটা তো সমস্যা নয়। কোডিং ধার করা হয়েছে কিনা সেটা বিজয় ও অভ্রের কোডিং পরীক্ষা করে বলা যাবে। তবে লে আউট এর মিল দেখে মনে হয় এখানে খানিকটা হলেও একই কোডিং থাকতেই হবে।

১১. ইউনিকোড পুরনো বিজয়ের ভার্সনে থাকবে না এটাও তো স্বাভাবিক। পুরনো টয়োটা গাড়িতে কি এখনকার মতো টিভি, ন্যাভিগেটর এসব ছিল?

১২. অভ্র ফন্ট পাইরেসি করে নাই এটা বলা যাবে যদি অভ্রের ফন্টগুলোর চেহারা বিজয়ের ফন্টগুলোর চাইতে একদম আলাদা হয়। যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা এটা ভালো বলবেন। ফন্ট কেবল কোডিং না, এটার চেহারাটাই আসল। ব্যবহারকারী ফন্টের কোডিং দেখেন না এর চেহারা দেখেন। ভিন্ন কোডিংএ একই চেহারার ফন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেটাও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন কারণ সেখানে ডিজাইন নকল করা হয়েছে।

১৩. আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ এগুলো মৌলিক পার্থক্য না। মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে দেখতে হবে, জে চাপলে ক হয় কিনা? কিংবা জি চাপ দিয়ে দিয়েই যুক্তাক্ষর বানাতে হয় কিনা?

১৪. অভ্রে ভুল তাড়াতাড়ি সংশোধন করা যায় এটা অবশ্যই একটি সুবিধা। কিন্তু এটা তো লে আউটের সঙ্গে সম্পর্কিত না।

১৫. এক বাটনে চাপ দিয়ে ফন্ট বদলানো এটা অনেক অনেক পেছনে পড়ে থাকার বিষয় না। যারা একসময় ওয়ার্ড স্টার আর ওয়ার্ড পারফেক্ট ব্যবহার করতেন তারা জানেন যে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে এমএস ওয়ার্ডের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এটা ব্যবহারকারীর অভ্যাসের বিষয়। বিজয়ের ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত বলেই বিজয় তার ফন্ট সিলেকশন ও স্টার্টিংয়ের ব্যাপারটি একই রেখে দিয়েছে।

১৬. অভ্রের লিনাক্স ভার্সন আছে কারণ এটি ফ্রি। বিজয় যেহেতু ব্যবসায়িক পণ্য তাই এটার লিনাক্স ভার্সন না থাকাটাই স্বাভাবিক।

১৭. অভ্র বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় আর বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এটা অবশ্যই পার্থক্য। যেমন সাপ্তাহিকে নেট ভার্সন ফ্রি কিন্তু আমি ছাপানো পত্রিকা টাকা দিয়ে কিনি। আামি কি এখন বলতে পারি যে ছাপানো সাপ্তাহিক বের করা যাবে না অথবা এটা ফ্রি করে দেয়া উচিত? প্রতিবেদক চাকরি না করে শুধু নেটে লেখালেখি করে ফ্রি সংবাদ দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো এতে? কিন্তু একদিন তিনি নিজেই সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতেন পেট চালাতে গিয়ে। এ কারণেই সফ্টওয়্যারও বিক্রি করতে হয় কাউকে কাউকে।

১৮. অভ্রতে নিজের কী-বোর্ড নিজে তৈরি করে নেয়া যায়। এটা যেমন সুবিধা তেমন অসুবিধাও। মনে করেন আপনি কারো বাংলা টাইপিং স্পীড পরীক্ষা করবেন। অথবা কাউকে টাইপ করার জন্য বা কম্পোজ করার জন্য চাকরি দেবেন। সবাই সঙ্গে যার যার একটা কী-বোর্ড লে আউট নিয়ে এলো। এটা পার্সোনাল ব্লগ লেখার জন্য ঠিক হতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিক না। কেননা এরপর সেই ডকুমেন্টটি এডিট করতে হলে সেই লোকটাকেই লাগবে আপনার। আপনার প্রতিষ্ঠানের একেকটি কম্পিউটারে থাকবে একেক লে আউটের কী-বোর্ড। সাপ্তাহিক-এর কর্তৃপক্ষ নিজে এটি তার অফিসে করতে রাজি হবেন?

১৯. অটো কারেক্ট ফিচারের সমস্যাটিও কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য না। অটো কারেক্ট অফ করে দিলে বিজয়ের অক্ষর বা শব্দ পাল্টে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

২০. মোস্তফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করাটা অন্যায়। একজন মানুষ ৩০ বছর একটি খাতে শ্রম দিলেন, দেশের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের বার বার নেতৃত্ব দিলেন, বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। এর সঙ্গে সুদে ধার দেয়া কাবুলিওয়ালার মিল কোথায়? তার নিজের ধারণাপ্রসূত সফ্টওয়্যারটির স্বত্ব নিজের কাছে থাকবে না এটা কি দাবি করা উচিত? তার মানে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা ফেসবুকের জুকারবার্গ সবাই তো কাবুলিওয়ালা। ফেসবুকের ভেতরে বিজ্ঞাপনের টাকা তো তাহলে জুকারবার্গের উচিত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা।

২১. ২০০৩ সালে ইউনিবিজয় তৈরি করেছেন যারা, তার অনেক আগে থেকেই মোস্তফা জব্বারের বিজয় লে আউট বাজারে ছিল। তাই মাত্র ৮টা কি অদল বদল করে ১০৫ টা কী-বোর্ডের একটি লে আউটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলাটা কতটুকু যৌক্তিক দাবি।

২২. একজন ব্যবসায়ী যদি মনে করেন কেউ তার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে তিনি তো তার প্রতিকার চাইতেই পারেন। এটা নিয়ে আইনসঙ্গত লড়াই না করে, পত্রপত্রিকা, নেট কিংবা ব্লগে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওয়ালা, লোভী, কার্টুন ক্যারেকটার কিংবা তাকে নিয়ে অসম্মানজনক ছড়া কবিতা লেখা প্রকৃতপক্ষে অভদ্রতা ছাড়া আর কিছু না।

বাজারে ফ্রি থাকবে, পয়সা দিয়ে কেনার সফ্টওয়্যারও থাকবে। তবে একটি আরেকটির নকল হতে পারবে না। ভাষার স্বাধীনতার সঙ্গে একটি সফ্টওয়্যার এর বিক্রির কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি বাংলা লিখবেন, লেখেন। যেভাবে চান সেভাবে লেখেন। যা দিয়ে পারেন তাই দিয়ে লেখেন। তবে সেটা করতে গিয়ে আরেকজনের কলমের ডিজাইন বা কনসেপ্ট চুরি করে নিজে সেই একই ধরনের কলম বাজারে ফ্রি ছেড়ে দিলে সেটা কি ঠিক হবে? ওপেন সোর্স পণ্য অনেক আছে, কিন্তু সেগুলোর সমস্যাও আছে। তাই এখনো উইন্ডোজ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ জন্য বিল গেটসকে গালি দেয়া যেমন অন্যায়, জব্বার সাহেবকে কাবুলিওয়ালা বলাও একইরকম অন্যায়।

২৩. একটি দেশে জনপ্রিয় স্বদেশী সফ্টওয়্যার মাত্র একটি। তার নাম বিজয়। দেশে ভালো সফ্টওয়্যার প্রোগ্রামাররা থাকতে চান না কারণ এই দেশের চাইতে বিদেশে তাদের কাজের দাম বেশি। এই দেশে সফ্টওয়্যার শিল্প দাঁড়ায়নি ভালোভাবে তার কারণ আমরা সবাই পাইরেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে পছন্দ করি কারণ আসলের দাম অনেক বেশি। সবাই তাদের সব সফ্টওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে গেলেই যদি ফ্রি করে দিতে বাধ্য হন সেটা কি এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিকাশের জন্য সহায়ক হবে।

২৪. প্রতিবেদকের কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না। তবে তার উচিত ছিল এই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া। আর ধরা যাক তাকে কেউ বাজে কথা বলল। আমি কি সেটা এখানে উল্লেখ করে দেব? বার বার এই প্রতিবেদনটিতে মোস্তফা জব্বার সম্পর্কে কে কি বাজে কথা বলছে সেটি উল্লেখ করা কখনোই সৎ সাংবাদিকতা নয়। ভাষা উন্মুক্ত করার নামে জিহ্বা উন্মুক্ত করাটা ভদ্রতা নয়। কিছুদিন আগে ন্যাপস্টারের সঙ্গে লড়াই করেছে আমেরিকার গানের কোম্পানিগুলো। বিল গেটস এর সঙ্গে নেটস্কেপ এর লড়াই হয়েছে। এতে কি কেউ কাউকে গালাগাল দিয়েছে?

২৫. ভাষা উন্মুক্ত করার নামে সফটওয়্যার ফ্রি করে দিতে হবে এই দাবি করার আগে তাহলে দেশে সব কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত। কারণ কলম দিয়েও তো আমরা লিখি। ওটার জন্য পয়সা নেয়াও তাহলে অন্যায়। ভাষা তাহলে বন্দি হয়ে গেল কলম বিক্রেতার কাছে?

আশা করছি আদালতে দেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী বিজয় ও অভ্রের এই দ্বন্দ্ব মিটবে। পত্রিকাতে যারা লিখবেন তারা যুক্তি দিয়ে লিখবেন এবং গালাগাল করে দামি নিউজপ্রিন্ট এবং ব্যান্ডউইথ খরচ করবেন না।

tushar@gatimedia.com

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক ডট কম-এর লেখাসমূহ

2010/05/24 at 12:01 পুর্বাহ্ন (বিভাগবিহীন)

সাপ্তাহিক ডট কম সাইটে ম্যালওয়্যার থাকায় তাতে প্রকাশিত লেখাগুলি এখানে সংকলিত করা হচ্ছে।

গত ০৬ মে, ২০১০ তারিখে “অভ্র-বিজয় বিতর্ক : ব্যবসা নাকি সেবা?” শিরোনামে লিখেছেন আনিস রায়হান। “প্রযুক্তি বিতর্ক-বিজয় বনাম অভ্র” শিরোনামে ২০ তারিখে তার প্রতিক্রিয়া লিখেছেন আব্দুন নূর তুষার।

সচলায়তনে এই লেখার যুক্তিখন্ডন করেছেন এস এম মাহবুব মুর্শেদ

তারপর আবদুন নূর তুষার আবারও লিখেছেন ২৩ মে তারিখে। লেখাটির শিরোনামঃ “অভ্র বিজয় বিতর্ক, অভদ্র আচরণ ও আমার অবস্থা

একই সাথে জনাব মোস্তাফা জব্বার লিখেছেন “প্রসঙ্গ বিজয় কীবোর্ডের মেধাস্বত্ব” শিরোনামে।

পার্মালিঙ্ক মন্তব্য করুন

অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে

2010/04/24 at 9:43 অপরাহ্ন (বিভাগবিহীন)

শিরোনামঃ অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে

লেখকঃ জ্বিনের বাদশা

সাইটের প্রকৃতিঃ সচলায়তন কমিউনিটি

সময়ঃ ২০১০-০৪-২৪ ১৮:৫৮

লিংকঃ http://www.sachalayatan.com/mukit_tohoku/31714

লেখাঃ

অভ্রবিষয়ে জনাব মোস্তফা জব্বার তাঁর অভিযোগটা ঠিক কোন জায়গায় সেটাকে একদম সরাসরি প্রকাশ করেছেন, যেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। এটা এখন নিশ্চিত যে অভ্র বিষয়ে তাঁর সমস্যা একটিই, সেটা হলো অভ্রতে অপশন হিসেবে ইউনিবিজয় নামে একটি লেআউটের সংযোজন হয়েছে। কেন সমস্যা বোধ করছেন সেটাও তিনি জানিয়েছেন, তিনি বলছেন, অভ্রতে ব্যবহৃত ঐ ইউনিবিজয় লেআউটটি আসলে তাঁর বাজারজাত করা এবং বছর দুয়েকের খানিক বেশী আগে পেটেন্ট করা বিজয় লেআউট। গতকাল প্রথম আলোতে ছাপা তাঁর পক্ষের বক্তব্যে এটা দাবী করা হয়েছে যে ইউনিবিজয় হলো বিজয়ের “হুবহু” বা “অবিকল” নকল!

এই “হুবহু” কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিবিজয় যদি বিজয়ের হুবহু অনুরূপ হতো তাহলে নৈতিকতা যেটাই হোক, দাবী করা যেত যে অভ্র থেকে যেন লে-আউটটি সরিয়ে ফেলা হয়।

কিন্তু অভ্রের প্রণেতা মেহদী হাসান খানের “ভাষা উন্মুক্ত হবেই” শীর্ষক পোস্টে (সচলায়তনের নীড়পাতায় স্টিকি করা আছে) জানা গেলো যে, ইউনিবিজয় লে আউটটি বিজয়ের হুবহু অনুরূপ লেআউট না, বরং মোট আটটি বাটনের ক্ষেত্রে বিজয় আর ইউনিবিজয়ের পার্থক্য আছে। মেহদী ঐ পৃথক বাটনগুলোকে চিহ্নিত করা একটি ছবিও ঐ পোস্টটিতে তুলে দিয়েছেন। মেহদীর তুলে ধরা পয়েন্টের প্রেক্ষিতেই এই পোস্টের অবতারণা। দেখার চেষ্টা করা যে পেটেন্টের ঝামেলায় ইউনিবিজয়কে মোস্তফা জব্বার ফেলতে পারেন কিনা।

পেটেন্ট আইন সম্পর্কে আমার ধারনা খুব বেশী না। আমি বরং এই পোস্টে ইউনিবিজয়কে যাতে বিজয় পেটেন্টের ভয় দেখিয়ে ঘাঁটাতে না পারে, সে বিষয়ে আইনের হাত ধরে কিভাবে বের হওয়া যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করবো। সরাসরিই বলি, আইন কখনই চুড়ান্ত কিছুনা। আইন হলো দূর্বল কিছু নীতিমালার সমষ্টি, যেগুলো মানুষের সমাজে নীতিবোধকে টিকিয়ে রাখার জন্য, সঠিক পথে চলা মানুষকে অসতের খড়গের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করা যায়। কাজেই নীতিবোধ আগে না আইন আগে সে প্রশ্নে আমার অবস্থান পরিস্কার, নীতিবোধ। সেজন্যই অভ্র টীম তাদের কাজ করে আইন মানছে কি মানছেনা এই প্রশ্নের চেয়েও যেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো বিনামূল্যে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কম্পিউটারে বাংলা লেখার সুযোগ করে দেয়ার অভ্রের চমৎকার প্রচেষ্টাটিকে কিভাবে দৃশ্যমান খড়গ আর প্রভাবের হাত থেকে বাঁচানো যায়, সেটার সম্ভাবনা যাচাই করা। কয়েকটা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবো।

১। অবিকল না আলাদা লেআউট?

মূল প্রশ্ন:দুটো কী বোর্ড লেআউট যদি হুবহু অবিকল না হয়, তাহলে কি পরে ডিজাইন করা লেআউটটি আগের ডিজাইন করা লেআউটের পেটেন্ট অধিকার নষ্ট করে কিনা।
মানে, কয়টি বোতাম আলাদা হলে ভিন্ন লেআউট বলা যাবে? এর কোন উত্তর নেই, এটা নির্ভর করবে লেআউটের পেছনে টেকনিকাল অরিজিনালিটিটা কতটুকু শক্তিশালী তার ওপর।

এজন্য আসুন আমরা একটু ইতিহাসের দিকে তাকাই। ১৮৫৯ সালের নভেম্বরে জর্জ মে ফেল্পস এবং ডেভিড এডওয়ার্ড হিউজ উদ্ভাবন করেন একটি টেলিগ্রাফ প্রিন্টারের, যাতে ইংরেজী বর্ণগুলো ABC… টাইপের বর্নমালার ক্রমেই দুটো সারিতে সাজানো ছিলো, কিন্তু উপরের সারিতে বর্ণমালার প্রথম অর্ধেক (A থেকে N) সাজানো ছিলো বাঁদিক থেকে ডানের ক্রমে, আর নিচের সারিতে শেষ অর্ধেক (O থেকে Z) সাজানো ছিলো ডান থেকে বাঁয়ের ক্রমে। এই যন্ত্রের যে পেটেন্ট “ইউএস পেটেন্ট ২৬০০৩“, সেই ডকুমেন্টের ফিগার ১ এ লেআউটটি দেয়া আছে। সম্ভবতঃ বোতাম চাপার পর যে যন্ত্রের ভেতর কাজ করা ম্যাগনেটিক জ্যাম এড়াতে এই লেআউট করা হয়।

এর ৮ বছর পরে ১৮৬৭ সালের জুলাই মাসে কোয়ের্টি কী বোর্ডের জনক ক্রিস্টোফার লাথাম শোলজ তাঁর উদ্ভাবিত প্রথম টাইপরাইটারের পেটেন্ট করেন, (ইউ এস পেটেন্ট ৭৯৮৬৮)। এটিরও ফিগার ১ এ আপনি উদ্ভাবিত টাইপরাইটারটির লেআউট দেখতে পাবেন। ভালো মতো খেয়াল করলে দেখবেন, এতে নিচের সারিতে (A থেকে N) সাজানো ছিলো বাঁদিক থেকে ডানের ক্রমে, আর উপরের সারিতে (O থেকে Z) সাজানো ছিলো ডান থেকে বাঁয়ের ক্রমে। ফেল্পস/হিউজের লেআউটের সাথে শোলজের লেআউটের ব্যবধান একটিই, তা হলো বর্ণের সারিদুটোকে উপর-নীচ করে দেয়া। শোলজও এই লেআউটটি বেছে নিয়েছিলেন জ্যাম বন্ধ করতেই, তবে পরে তিনি টাইপিং, ইংরেজী ভাষায় বর্ণের বিন্যাস এরকম আরো কিছু প্যারামিটার যোগ করে তাঁর লেআউটটিকে আরো বদল করেন, যার মোটামুটি পরিপূর্ণ রূপ আমাদের আজকের ব্যবহার করা কোয়ের্টি কী-বোর্ড। প্রশ্ন আসতে পারে, শোলজ কেন ফেল্পসের লেআউটটি হুবহু ব্যবহার না করে উপর-নিচ করে বদলে দিলেন। কারণটা তিনি কোথাও উল্লেখ না করলেও, উদ্ভাবকদের দুনিয়ায় এটা অনুধাবন করতে কোন কষ্ট হয়না যে পেটেন্টের ঝামেলা এড়াতে তিনি এই সামান্য পরিবর্তন করেছেন।

এখন এই কেইসটির আলোকে আমরা বিজয়-ইউনিবিজয় নিয়ে একটু ঘেঁটে দেখি।
ফেল্পসের পেটেন্টে বর্ণের বিন্যাসের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করার ফলেও, তিনি এই বিন্যাসের সারি দুটোকে উলট পালট করে নিলেও যে একই সুবিধা পাওয়া যাবে সেরকম কোন দাবী বা ক্লেইম পেটেন্টে করেননি। এই ক্লেইম না থাকায় তাঁর বিন্যাসের সেরকম ব্যবহারকে তাঁর পেটেন্টটি প্রতিহত করতে পারেনি। আর এদিকে মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের ক্লেইমগুলো দেখলে দেখা যায়,

উদ্ধৃতি

“1. A new Keyboard layout to write Bongolipi characters with a QWERTY based Keyboard in a computer or any other microprocessor based device has been invented and 55 Bangla characters are placed in a unique way so that all Bangla characters (Bongolipi) can be written without any hardware modification and to make it effective pairs of Bangla charactaers e.g অ+া (f), ি+ ী (d) , ু + ূ (s), ৃ +র্ (a), +ে ৈ(c), ও + ৗ (x), ক+খ (j), গ+ঘ (o), ং + ঙ (q), চ + ছ চলুক, জ + ঝ (u), ঞ + হ(i), ট + ঠ (t), ড + ঢ (e) , ন + ণ (b), ত+থ (k), দ + ধ (l), প+ফ (r), ব + ভ (h), ম + শ (m), য + য় (w), র + ল (v), স + ষ অফ যা, ্র+্য(z), ৎ + ঃ (),৭+ ঁ (7), ্‌্‌ + । (g),
has been created whereas Roman character (g) or Bangla character && (hasanta) has been defined as the link key to create vowels except A & I and almost all conjuncts.2. A few special encoding has been done to implement the claim described in Claim 1.”

কোন যুক্তিতে বা কোন কোন প্যারামিটারের ভিত্তিতে তিনি এই বিন্যাস করেছেন তার কোন ব্যাখ্যা বা ক্লেইম নেই। যার ফলে তাঁর এই বিন্যাসের পেছনে যদি কোন “অরিজিনাল” যুক্তি বা প্যারামিটার তিনি ব্যবহার করেও থাকেন, এবং সেটা কোনভাবে জেনে গিয়ে ব্যবহার করে অন্য কেউ যদি কাছাকাছি ধরনের কোন লেআউট ডিজাইন করে, তাহলে তাঁর এই পেটেন্টের ক্লেইম ঐ যুক্তি/প্যারামিটারের ব্যবহারকে রদ করতে পারবেনা।

এমনকি তাঁর এই ক্লেইমে হসন্তের জন্য g বোতামটিকে ব্যবহারের যে ট্রিভিয়াল উল্লেখ আছে, সেটাও আলাদা কোন ক্লেইম হতে পারেনা। অর্থাৎ, আর কোন লে-আউটে হসন্তের জন্য বা দুটো অক্ষরকে যুক্ত করার জন্য g কে ব্যবহার করা যাবেনা এই দাবী তিনি করতে পারবেননা। কারণ এটা তাঁর “ইউনিক” লেআউটের একটা বর্ণনা, এটাকে আলাদা ক্লেইম হিসেবে দাবী করলে যৌক্তিকতার অভাবে এটি বাদ হয়ে যেত।

বাকী কী ম্যাপিংয়ের বেলায়ও একই কথা খাটে, যেমন, “ক+খ” এর জন্য আর কোন লে-আউটে (j) ব্যবহার করা যাবেনা, এরকম কোন ক্লেইম এই পেটেন্টে নেই; কারণ পরিস্কার, এ ধরনের ক্লেইমের কোন ভিত্তি নেই। আপনি একটা গাড়ী ডিজাইন করে এর জানালায় “কটকটে টিয়া” রং লাগালেন, তারপর সেটার ক্লেইম গাড়ীর পেটেন্ট ডকুমেন্টে ঢুকিয়ে দিলেন, তখন কি হবে? যাস্ট ঐ ক্লেইমটি অপসারিত হবে।

বরং বিজয়ের পেটেন্টের ক্লেইমে “ইউনিক” লে-আউট শব্দটির ব্যবহার একে খুব দূর্বল একটা ক্লেইমে পরিণত করেছে। তাঁর ডকুমেন্টের দ্বিতীয় ক্লেইমটি প্রায় মূল্যহীন, “স্পেশাল কোডিং” এত বেশী সারফেস লেভেলের ক্লেইম যে এটা কোন কিছুকেই কাভার করেনা।

ফেল্পসের ডকুমেন্টের ক্লেইমের তুলনায় তাঁরটির ক্লেইম যে অনেক অনেক দূর্বল সেটা আমরা দেখলাম। এখন, এত শক্ত কারণসমৃদ্ধ লেআউটের বেলায়ও বর্ণের সারি ওপর-নীচ করে যদি পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানো যায়, তখন বিজয়ের এত দূর্বল ক্লেইমের বেলায় আটটি বোতামে ব্যবধান থাকার পরও বিজয়ের “ইউনিক” লেআউট কেন দাবী করবে যে ইউনিবিজয় আমার হুবহু নকল!

একটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এখানে। ফেল্পস-শোলজ কেইস থেকে মনে হতে পারে, নকল করা কি এতই সোজা! একটু উল্টে-পাল্টে দিলেই হলো! আসলে তা না। বাস্তব কথা হলো কীবোর্ড লেআউটের মতো সহজ জিনিস যেটা যে কেউ নকল করতে পারে সেটার ব্যাপারে অত শক্ত ক্লেইম করা যায়না। ফেল্পসের টেলিগ্রাফপ্রিন্টার আর শোলজের টাইপরাইটারের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো (যেগুলোর মাধ্যমে শক্ত ক্লেইম করা যায়) ছিলো আলাদা, সেখানেও যদি শোলজ একটু উল্টেপাল্টে দেয়ার প্রয়াস নিতেন তাহলে ফেল্পস ছেড়ে কথা বলতেননা।

আসলে এত কথার দরকার নেই। কী বোর্ড লে আউট কতটা অর্থহীন পেটেন্ট তার একটা চিত্র এখানে আছে, ইয়াসুওকা’স ডায়রী নামক একটি জাপানী ভাষার ব্লগ, লেখক এনটিটি পাবলিশার্স থেকে কোয়ের্টির ইতিহাস নিয়ে একটি বই বের করে বিখ্যাত হয়েছেন, খুব ডিটেইলড বই। সেসময়ে পেটেন্ট করানো কয়েকটি লেআউটের সাদৃশ্য থেকে আসুন এটা বোঝার চেষ্টা করি।

১৮৭৩ এর নভেম্বরে ক্লাফ-ম্যাকেন্ড্রির পেটেন্ট করা লেআউট
2 3 4 5 6 7 8 9 – , _
Q W E R T U I O P Y :
┇ A S D F G H J K L M
& Z C X V B N ? ; . ‘

১৮৭৪ এর এপ্রিলে শোলজের পেটেন্ট করা লেআউট
2 3 4 5 6 7 8 9 – , _
Q W E R T Y U I O P :
┇ A S D F G H J K L M
& Z C X V B N ? ; . ‘

১৮৭৮ এর জানুয়ারীতে শোলজের আরেকটি কী-বোর্ড
2 3 4 5 6 7 8 9 –
q w e r t y u i o p
a s d f g h j k l m
z c x v b n , ; !

১৮৮২ তে যখন রেমিংটনের কর্ণধার হয়ে দাঁড়ান ওয়াইকফ, সীম্যানস আর বেনেডিক্ট, তখন শোলজের পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানোর জন্য তারা ব্যবহার করেন নীচের লেআউট
2 3 4 5 6 7 8 9 –
q w e r t y u i o p
a s d f g h j k l ;
z x c v b n m , !

ওয়াইকফদের লেআউটে শোলজের লেআউটের সাথে পার্থক্য শুধু m x c ; এর অবস্থানে। এটার মূল কারণ লেআউট পেটেন্টের ঝামেলা এড়ানো।

ইতিহাস থেকে আশা করি বোঝা সম্ভব হবে যে কী-বোর্ডের লেআউটের পেটেন্ট কতটা দূর্বল হতে পারে। আমার ধারনা, পেটেন্টের আইনের বিষয়ে যারা জানেন, তাঁরা এ বিষয়টা আরো অনেক শক্তভাবে আদালতে তুলে ধরতে পারবেন।

২। এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন, টেকনিকাল অরিজিনালিটি কতটুকু?

এখানে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই সচলায়তনে কয়েকদিন আগে দেয়া একটি পোস্ট, যেখানে সিউল রায়হান তাঁর রোকেয়া কী-বোর্ডটির বর্ণনা দিয়েছেন। এই আলোচনায় ঐ পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন?

সিউল তাঁর কাজে যা করেছেন, তার একটি অংশ হলো, কী-বোর্ড ডিজাইনের জন্য স্বীকৃত যে প্যারামিটারগুলো, সেগুলো ব্যবহার করে বাংলা টাইপিংয়ের জন্য অপটিমাইজড একটি কী-বোর্ড লেআউট বের করা।

এই লেআউটে যদি সিউল তাঁর নিজের চিন্তা করা কোন প্যারামিটার ব্যবহার না করে শুধু লিটারেচারে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার ব্যবহার করেন, তাহলে সেই লেআউট পেটেন্ট করা যাবেনা, কারণ টেকনিকাল অরিজিনালিটি নেই। এখন মজার ব্যাপার হলো, সিউল একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ওখানে, যেটা হলো, স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার ব্যবহার করে যে লেআউটটি বাংলার বেলায় পাওয়া যায় সেটি বিজয়ের লেআউটের সাথে ভীষন সাদৃশ্যপূর্ণ।

বিজয়ের ব্যাপারে তাঁর এই আপাতঃ প্রশংসাটি বিজয়ের পেটেন্টের শক্তিকে আরো নাজুক করে ফেলছে। যেমন এখন যদি সিউল নিজের হিসেব করে প্রাপ্ত সেই “বিজয়ের লেআউটের সাথে ভীষন সাদৃশ্যপূর্ণ” লেআউটটি তাঁর সফটে ব্যবহার করেন এবং তাতে যদি মোস্তফা জব্বার অভিযোগ করেন, তখন কিন্তু সিউলের প্রমাণ করার সুযোগ থাকে যে তিনি ডেভেলপমেন্টের সময় বিজয় সফটওয়ারটির দিকে তাকিয়েও দেখেননি। তিনি স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে এই লেআউটটি নির্ণয় করেছেন।

ব্যাপারটাকে আমরা যদি উল্টো করে দেখি, তাহলে বলা যায় যে বিজয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যে কোন লেআউটের বেলায়ই দাবী করা যায় যে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে এটি বানানো হয়েছে, মানে বিজয় নিজেও ওভাবেই নির্ণীত হয়েছে। কাজেই “নট ওনলি” চোখ টিপি ইউনিবিজয় যে সেভাবে তৈরী হয়নি আদালতে এটা দাবী করার যৌক্তিকতা জব্বার সাহেরবের জন্য থাকেনা, “বাট অলসো” চোখ টিপি আদালতই তাঁকে প্রশ্ন করতে পারে যে লিটারেচারে থাকা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর অনুসরণ করে বানানো তাঁর এই লেআউটের অরিজিনালিটি কি?কেন এর পেটেন্টশীপকে বাতিল করা হবেনা?

৩। পেটেন্ট সাবমিশনের সময়কাল
মোস্তফা জব্বার তাঁর এই লেখাটিতে বলছেন,

উদ্ধৃতি

“২০০৪ সালের ২৯ জুলাই এই ব্যতিক্রমী প্যাটেন্টটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ১৯৯২ সালে প্রথম এই প্যাটেন্টটির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্যাটেন্ট অধিদপ্তর এই আবেদনটি গ্রহণ করেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল, এটি সফটওয়্যার হিসেবে কিভাবে প্যাটেন্ট অনুমোদন পাবে সেটি তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এই প্যাটেন্টটি পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তাও তখন ছিল না।
কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়। সুদীর্ঘ সময় পরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ মে ২০০৭ তারিখে এই প্যাটেন্টটির গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে এর ব্যাপারে কোন আপত্তি না ওঠায় এর প্রত্যয়ণপত্র প্রদান করা হয়। আপাতদৃষ্টে এটি একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্ব্বপূর্ণ ঘটনা।”

বাংলাদেশের পেটেন্ট অধিদপ্তরের “পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তা” থাকুন বা না থাকুন, তাঁর লেআউটের পেটেন্টটির আইনের চোখে সাবমিশন হয়েছে ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষে। এর আগ পর্যন্ত তাঁর বিজয় সফটওয়ার কপিরাইটকৃত ছিলো, লেআউটের পেটেন্ট ছিলোনা।

এদিকে মেহদী বলছেন যে ২০০৩ সালেই তাঁরা ইউনিবিজয় তৈরী করেছেন। তাহলে পেটেন্ট বিষয়ক আইন অনুযায়ী জব্বার সাহেব কোনভাবেই ইউনিবিজয়ের তৈরীতে বাঁধা দিতে পারেননা। সত্যি বলতে, ইউনিবিজয় আর বিজয় যদি অবিকল হতো, তখন বরং অভ্র কর্তৃপক্ষের এই আইনগত অধিকার চলে আসতো যে আমাদের প্রোডাক্টেরও লেআউট যেটি, সেটি শুধু উনি পেটেন্ট করছেন কেন?

এখানে সময়কালের ব্যাপারে মোস্তফা জব্বার দাবী করতে পারেন যে ১৯৮৭ সাল থেকে তাঁর কপিরাইট ছিলো। তবে কপিরাইটের দাবী দিয়ে তিনি অভ্র টিমকে একটা মামুলি লে আউট ব্যবহারে বাঁধা দিতে পারেননা। তিনি নিজেও অবশ্য সেটা স্বীকার করেছেন, এবং আমার ধারনা অভ্র টিমের ২০০৩ সালে পাঠানো প্রস্তাবের পর তিনি ভয় পান যে তাঁর একচেটিয়া বাজার নষ্ট হতে পারে, যেজন্য ১৯৯২ তে রিজেক্টেড হওয়া পেটেন্টের ব্যাপারটি নিয়ে আবারও তিনি ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, এবং ২০০৪ এ সেটা জমা দেন। কপিরাইট বিষয়ে তিনিই বলছেন,

উদ্ধৃতি

“আমাদের সাধারণ ধারণা যে, কপিরাইটই হলো সফটওয়্যারেরও প্রধান মেধাস্বত্ত্ব সুরক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কপিরাইট সফটওয়্যারের কপি বিতরণ করা বন্ধ করে। কিন্তু সফটওয়্যারের সঙ্গে যে নির্মাণ কৌশল ও কর্মপ্রক্রিয়া জড়িত সেটি কপিরাইটে রক্ষা করা হয়না।”

ঠিক বলেছেন তিনি। কপিরাইট তাঁর পণ্যটির নকল বিক্রী বন্ধ করতে পারবে, যেটাকে আসলে “পাইরেসী” বলা হয়। অর্থাৎ, অন্য কেউ যদি অবিকল বিজয়ের মতো সফট/হার্ড বানায় এবং বিজয় নামে বিক্রী করে, তখন কপিরাইট আইন তাঁকে বাঁচাবে।

৪।টাইমিংয়ের ব্যাপারে আরেকটা প্রশ্ন

২০ বছর ধরে একটা প্রডাক্টের কপিরাইট ধরে রেখে, সেটার বাজারজাত করে, লোকজনকে সেটাতে অভ্যস্ত করে অতঃপর যখন দেখা গেলো যে সেরকম প্রোডাক্ট বানানোর মতো আরো অনেক টেকনিকাল হ্যান্ড দেশে আছে, তখন সেটার পেটেন্টশীপ আবেদন করা — এটা বাংলাদেশের আইনে যৌক্তিক কিনা সেটাও খতিয়ে দেখার দরকার আছে।

কারণ এটি বিজয় বা এর কাছাকাছি লেআউট ব্যবহারে অভ্যস্ত কাস্টমারদেরকে বিজয় কিনতে বাধ্য করার মতো একটি অপরাধ।

৫।রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ইস্যু

সফটওয়ারের পেটেন্টশীপের কাভারেজ এরিয়া কতটুকু হবে এই নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এজন্য এখনও আমরা যখন একটা সফট লেভেলের পেটেন্ট সাবমিট করি, সাথে এটির ইমপ্লিমেন্ট করা একটি হার্ডের বা যন্ত্রেরও পেটেন্ট করে রাখি — কারণ তা নাহলে আসলে কিছুই প্রোটেক্ট করা হয়না। যেমন চিন্তা করুন, এম এস ওয়ার্ডে বোল্ডের মতো আরেকটা অপশন রাখা হলো, যাতে একটা লেটারকে ডাবল লেয়ারড দেখাবে। এখন একই অপশন যদি অন্য কেউ তার এডিটরে যোগ করে, মাইক্রোসফট বাঁধা দিতে পারবেনা। যদি মাইক্রোসফট দেখাতে পারে যে তাদের কোড চুরি করে ওটা করা হয়েছে, তখনই কেবল ওটাকে থামানো সম্ভব। এজন্যই আমরা সব ধরনের সফটওয়ার এ্যাপ্লিকেশনের ফ্রিওয়ার ভার্সন আজকাল দেখতে পাই। যেজন্য সফটওয়ার ভেন্ডরদের দিনরাত নতুন নতুন ফিচার যোগ করে ফ্রিওয়ারওয়ালাদের চেয়ে দৌড়ে এগিয়ে থাকতে হয়। মাইক্রোসফট, এডোবি, ম্যাটল্যাব — কারো ছাড়ান নাই।

এখন মোস্তফা জব্বার আপনিই বলুন, একটা টাইপরাইটার সফটওয়ারের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেলায় একই রকম লেআউট ছাড়া আর কি নিয়ে কি করা যাবে?
মনে রাখবেন, কী-বোর্ড লেআউটের পেটেন্ট এতটাই দূর্বল।

৬।স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন এবং শেষকথা

জনাব মোস্তফা জব্বারের প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিজয়ের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন একটি পণ্যের তৈরীর উদ্যোগ ও বাজারজাতকরণের দক্ষতার কারণে এ ব্যাপারে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য। নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষায় কম্পিউটিংয়ে তাঁর এই অবদান অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে থাকবে।

তবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে এট জনরোষ? কারণটা সবাই জানি, তাঁর সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা, এবং সেই প্রবণতাজনিত মিথ্যাচার (অভ্রবিষয়ে, আবারও বলছি ইউনিবিজয় “অবিকল” বিজয় না)।

কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে লেআউট-বেইসড কম্পিউটার টাইপরাইটিংয়ে বিজয়ের লেআউটটিতেই মনে হয় ৯০ ভাগ বা তারও বেশী ব্যবহারকারী অভ্যস্ত। আবার সোনায় সোহাগার মতো বাংলাদেশের আইটি বিষয়ক নানান কমিটির নানান বড় পদেও তিনি আসীন।

এজন্যই মোস্তফা জব্বার যা করতে পারেন, তা হলো তাঁর এই বিজয় লেআউটটিকে পেটেন্টমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারেন। যেহেতু এত লোক এতে অভ্যস্ত, তাই এটিই হতে পারে লেআউট-বেইসড বাংলা কীবোর্ডের স্ট্যান্ডার্ড। খানিকটা আর্থিক ত্যাগ স্বীকারই তাঁর “বিজয়”কে বাংলা কম্পিউটিংয়ের জগতে চিরস্থায়ী করে ফেলতে পারে।
তিনি অভ্র টিমকে এই অনুরোধও করতে পারেন যে ইউনিবিজয় যেহেতু বিজয়ের খুব কাছাকাছি, কাজেই এটিকে একটু বদলে বা এর পাশাপাশি পুরোপুরি অবিকল বিজয়ের লেআউট একটা করে ফেলা হোক, যাতে বিনামূল্যে যারা “অবিকল” বিজয় লেআউটে লিখতে চায়, তারা সেই সুবিধাটুকু পায়।

এমনকি আর্থিক ত্যাগ স্বীকার না করেও তিনি এভাবে বিজয়কে মুক্ত ও চিরস্থায়ী করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা কিভাবে হতে পারে সেই মডেলের কথা বিনামূল্যে বিতরনের ইচ্ছে আপাততঃ আমার নেই। চোখ টিপি

(পোস্টটিতে বানান, ব্যকরণ, বাংলিশজনিত অনেক সমস্যা আছে, আগেই সার্বিক দুঃখ প্রকাশ করে রাখছি।)

পার্মালিঙ্ক অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে তে মন্তব্য বন্ধ