মেধার সুরক্ষা, মূল্য ও স্বীকৃতি চাই – মোস্তাফা জব্বার (দৈনিক জনকন্ঠ)

শিরোনামঃ মেধার সুরক্ষা, মূল্য ও স্বীকৃতি চাই

লেখকঃ মোস্তাফা জব্বার

তারিখঃ ২৩ এপ্রিল, ২০১০

ইউনিকোডে রূপান্তরঃ এস এম মাহবুব মুর্শেদ

ইউনিকোড কনভার্সন টুলঃ http://bnwebtools.sourceforge.net/

লিংকঃ
http://www.bijoyekushe.net/html/news042404.html [বিজয়]
http://www.sachalayatan.com/mukit_tohoku/31714 [ইউনিকোড]

কপিরাইট: মোস্তাফা জব্বার

শুধুমাত্র ইউনিকোডে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অবিকৃত অবস্থায় কপি করা হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রকাশঃ দৈনিক জনকন্ঠ

লেখাঃ

মেধার সুরক্ষা, মূল্য ও স্বীকৃতি চাই
মোস্তাফা জব্বার

আমি ধারণা করি এই লেখাটি পাঠ করে আরও কিছু লোক বা আগে যারা গালি দিয়েছিলেন তারাই নতুন করে আমাকে আরও কিছু নতুন গালি দেবেন। গালি দেবার কারণ হবে-আমি তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পাইরেসিকে সমর্থন করছিনা। তারা যার মেধাসম্পদ খুশি চুরি করে ব্যবহার করবে তাকেও সমর্থন করছিনা। কিন্তু তারপরেও মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণ ও সৃষ্টি করার লড়াই থেকে আমি সরে দাড়াবোনা। এই ঘটনার শুরুটা এভাবে: গত ৪ এপ্রিল ২০১০ ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠে একুশ শতক কলামে অভ্র, নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপিকে নিয়ে কিছু কথা বলা হয়েছে। সেই লেখাটির জবাবে অভ্র-এর ‘জনক’ জনাব মেহেদী হাসান খান একটি ব্লগ লিখেছেন। গত ২৩ এপ্রিলের দৈনিক প্রথম আলোতে আমার বক্তব্যের পাশাপাশি তারও একটি বক্তব্য ছাপা হয়েছে। এর বাইরেও অনেকেই ব্লগ লিখেছেন, মেইল করেছেন, স্ট্যাটাসে লিখেছেন। কোন কোন ব্লগ সরাসরি অভ্রকে সমর্থন করেছে। কেউ কেউ অশ্লীল ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেছেন। কেউ কেউ আমার ছবিকে বিকৃত করেছেন-কার্টুণ বানিয়েছেন এবং যা খুশি তাই লিখেছেন। আমি ধারণা করি, এই অবস্থা আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। স্মরণ করতে পারি যে, কার্যত এটি নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগেও আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে, সেজন্য আমি প্রস্তুত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিষয়টির গভীরে যাওয়া। আমি প্রশ্নোত্তর আকারে প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা দিতে চাই।

ক. অভ্র-র বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি কি-সফটওয়্যার বিক্রি কি অপরাধ? অভ্র নামক একটি বাংলা সফটওয়্যার এখনকার দিনের অনেকেই ব্যবহার করেন। ধারণা করা হয়, প্রধানত কম বয়সি মানুষেরা ইন্টারনেটে ইউনিকোড পদ্ধতিতে লেখার জন্য এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে থাকেন। যিনি এই সফটওয়্যারটি উদ্ভাবন করেছেন তিনি দাবী করেন যে, এটি একটি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার। তবে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক একে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার মনে করেনা (ওমর শিহাবের ব্লগ দেখুন) অভ্র বাজারজাতের অর্থ হচ্ছে, এটি বিণামূল্যে বিতরণ করা হয় এবং এটি ব্যবহার করার জন্য উদ্ভাবনকারীর কাছ থেকে কোন লাইসেন্স কেনার প্রয়োজন নেই। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি নিজেও বাংলা সফটওয়্যার তৈরী করেছি। কিন্তু নিজের পেট চলা ও যারা এই সফটওয়্যার বানাতে আমার অধীনে চাকুরী করে তাদের বেতন দেওয়াসহ অন্যান্য খরচের জন্য আমি বিণামূল্যে এই সফটওয়্যার দিতে পারিনা। ১৯৮৭-৮৮ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মেকিন্টোস কম্পিউটারে এটি আমি বিণামূল্যে প্রদান করতাম। সাথে দুজনের প্রশিক্ষণও বিণামূল্যে দিতাম। তখন কম্পিউটারের কার্ডওয়্যার বিক্রি করে এর উন্নয়নের ব্যয় বহন করতাম। কিন্তু পরে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা ছেড়ে দেবার পর আমি বিজয়-এর লাইসেন্স বিক্রি করি। এটি নিশ্চয়ই আমার অক্ষমতা। অভ্র তৈরী করে মেহেদী সাহেব অবশ্যই একটি ভালো কাজ করেছেন এবং নিশ্চয়ই জনগণ তাতে উপকৃত হচ্ছে। আমি তাকে পূজনীয় দেবতা মনে করি। এমন মানুষ কয়জন দুনিয়াতে আাছে, যিনি নিজের শ্রমকে অন্যের জন্য দিতে পারেন! আমি হতভাগাও যদি খাওয়া পরার নিশ্চয়তা পেতাম-ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ, মায়ের চিকিৎসার টাকা, সন্তানের পড়ার খরচ, বৌ-এর ইনজেকশনের টাকা বা নিজেদের ইনসুলিন কেনার অর্থ পেতাম কিংবা রাষ্ট্র বা সমাজ যদি আমার নিরাপত্তা দিতে পারতো তবে নিজের শ্রমটাও এভাবেই দিতে পারতাম। অন্য কোন চাকরী বাকরী বা ব্যবসা করতে পারলে নিজের মেধাটা ওভাবে কাজে লাগাতে পারতাম। কিন্তু সেটি হবার নয়। হয়নি। সবার দ্বারা সবকিছু হয়না। আমার দ্বারাও এখন আর বিণামূল্যে সফটওয়্যার দেয়া হয়তো হবেনা। তাই আমি কোনভাবেই চাইনা যে, মেহদি সাহেবরা তাদের এমন নিঃস্বার্থ কাজ থেকে বিরত থাকুন। কিন্তু আমার অনুরোধটি হচ্ছে- এমন একটি ভালো কাজের মাঝে পাইরেসির বিষয়টা যুক্ত না করলে কি হয়? অভ্র নামক বাংলা লেখার সফটওয়্যারটিতে বিজয় কীবোর্ডকে আমার অনুমিত ব্যতীত ইউনিবিজয় নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেহেদি সাহেব লিখেছেন যে, তিনি বিজয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন এবং আমি টাকা চেয়েছি। এটি একদম সত্য কথা। আমি টাকা কামাই করার জন্যই বিজয় আবিষ্কার করেছি। আমার মাঝে কোন মহত্ত্ব নেই। আমি দেবতা হতে চাইনি। আমি জানি সেটি আমি হতে পারবোনা। আমি একজন সফটওয়্যার ব্যবসায়ী এবং সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশের জন্য আমি নিজে প্রানপন চেষ্টা করি। যতো বেশি দামে পারি সেই দাম দিয়ে সফটওয়্যার বেচার চেষ্টা করি। সরকার এই ব্যবসাকে উৎসাহিত করার জন্য অনেক প্রনোদনাসহ কর অবকাশ দিয়েছে। আমি সেই সুযোগও গ্রহণ করি। বিণামূল্যে কোন সফটওয়্যার বা সেবা দেয়া হবে সেটি আমি কখনও ভাবিনা। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমি তেমন কাজ করার কথা স্বপ্নেও দেখিনা। যদি তাই করতাম তবে কপিরাইট বা প্যাটেন্ট করতাম না।

কিন্তু মেহেদি সাহেব আমার অনুমতি না পেয়ে যে কাজটি করেছেন সেটি আমার পছন্দ হয়নি। মেহেদী হাসান খানের মতে, বিজয় থেকে ইউনিবিজয় করার সময় তিনি এতে ৮টি পরিবর্তন করেছেন। আমিও সেই পরিবর্তনগুলো দেখেছি। কিন্তু তাতেও আমার মেধাস্বত্ত্বের লঙ্ঘন হয়েছে। কারণ মূল কীবোর্ডে কোন পরিবর্তন নেই। তাছাড়া এর ফলে আমার প্যাটেন্ট অধিকারও লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভ্র সফটওয়্যারের অন্য কোন বিষয় বা প্রেক্ষিত নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।

খ. নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপির সাথে পাইরেসির কি সম্পর্ক? নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে এখন কিছু কথা বলতে পারছি। কিন্তু যখন তারা আমার মেধাস্বত্ত্ব লঙ্ঘন শুরু করে তখন আমাকে কমিশনের সচিব হূমায়ূন কবির সাহেব তার ঘর থেকে প্রায় তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তিনি তখন ভীষণ ক্ষমতাবান লোক। সেনাবাহিনী তার পেছনে ছিলো। সেই দাপটে নির্বাচন কমিশন ‘অভ্র’ নামক সফটওয়্যার দিয়ে বিজয় কীবোর্ড ব্যবহার করেছে এবং ইউএনডিপি বিজয় কীবোর্ডের হার্ডওয়্যার কিনে দিয়ে সেই পাইরেসিকে সহায়তা করেছে। কেউ কেউ মনে করেন যে, অর্থ দিয়ে বিজয় সফটওয়্যার না কিনে নির্বাচন কমিশন দেশের বিশাল অর্থ সাশ্রয় করেছেন। কিন্তু তারা কি জানেন বিজয় কিনতে তাদের কতো টাকা লাগতো। অতি নগন্য হাতে গোনা কিছু টাকা।অথচ তারাই কোটি কোটি টাকা দিয়ে আঙুলের ছাপ যাচাই করার বিদেশি সফটওয়্যার কিনেছে।

গ. ইউনিবিজয় কি বিজয়ের নকল? অভ্র সফটওয়্যারে ইউনিবিজয় লেআউট নামে যে লেআউট যুক্ত করা হয়েছে তাতে নাকি ৮টি পার্থক্য আছে। কেউ যদি ইউনিবিজয় লেআউট দেখেন তবে দেখতে পাবেন যে তাতে পেটকাটা ব, বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু, খন্ড ত, াে, ৗে এমনসব প্রায় অব্যবহৃত বাংলা বর্ণকে বিজয় লেআউটের সাথে ভিন্ন করা হয়েছে। বাংলা মূল বর্ণগুলো যার ব্যবহার শতকরা ৯৯ ভাগ তার কোন পরিবর্তন করা হয়নি। এটি এজন্য যে, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা হলে বিজয় কীবোর্ডে অভ্যস্ত ব্যবহারকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন এই কাজটি স্পষ্ট করে দিয়েছে বাজার থেকে ইউএনডিপির মাধ্যমে বিজয় কীবোর্ড লেআউট মুদ্রিত কীবোর্ড কিনে সেগুলো ছবিসহ ভোটার তালিকার ডাটা এন্ট্রির কাজে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে। প্রসঙ্গত আমি কপিরাইট আইন ২০০৫ এবং প্যাটেন্ট আইন ১৯১১ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি। সংশ্লিষ্ট আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে কোন মেধাস্বত্ত্ব বা তার অংশ বিশেষ এবং আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে মেধাস্বত্ত্বের লঙ্ঘন বলে সনাক্ত করা হয়েছে। যারা এ বিষয়ে কথা বলছেন তাদেরকেই আমি দু’টি আইন ভালোভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করছি।

মেহেদী হাসান খানও তার লেখায় দু’টি আইনের কোনটির কোন অংশ উল্লেখ করেননি। তিনি মেধাস্বত্ত্ব লঙ্ঘনের যেসব দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন তার কোথাও দেশের আইনের কোন ধারা নেই। তার মতে কেবলমাতক্র একটি বোতাম বদল করলে নাকি কীবোর্ড বদল হয়ে যায়। তেমন হলে আমি রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার একটি লাইন বদল করে সেটিকে আমার কবিতা বলে চারিয়ে দিতে পারতাম।

ঘ. কপিরাইট ও মেধাস্বত্ত্ব প্রত্যয়ন করেছে কে? ব্লগ, মেইল, স্প্যাটাস ইত্যাদি থেকে আমি এটি নিশ্চিত হয়েছি যে, বিষয়টা চিলে কান নিয়ে গেছে এরকম হয়েছে। বিজয় কীবোর্ডের কপিরাইট ১৯৮৯ সালে দেয়া হয় এবং সেটি দিয়েছে রেজিষ্ট্রার অব কপিরাইট। বিজয় কীবোর্ডের প্যাটেন্ট ২০০৪ সালে দেয়া হয় এবং সেটি দিয়েছে রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড মার্কস, প্যাটেন্ট ও ডিজাইন। কপিরাইট বা প্যাটেন্ট যদি সঠিকভাবে দেয়া না হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবাদ করা বাঞ্ছনীয়। আমিতো মেধাস্বত্ত্বের অধিকারী। আমি সরকারের দেয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লড়াই করছি মাত্র।

ঙ. কীবোর্ড কি কপিরাইট বা প্যাটেন্ট হয়? অনেকেই খুব আবেগময় ভাষায় লিখেছেন, বাংলা নিয়ে ব্যবসা করার ব্যাপারে। সাথে বরকত, সালাম, রফিক জব্বারের (মোস্তাফা জব্বারের নয়) নামও যুক্ত করা হয়েছে। এমনও বলা হয়েছে যে, বাংলা লেখার কীবোর্ড প্যাটেন্ট হয় কিভাবে। সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কীবোর্ড প্রথম প্যাটেন্ট হয় ১৮৭৮ সালে। বর্তমানে প্রচলিত QWERTY কীবোর্ডটি প্যাটেন্ট হয় সোলেস এর নামে। The keyboard arrangement was considered important enough to be included on Sholes’ patent granted in 1878, some years after the machine was into production. (Source: http://www.ideafinder.com/history/inventions/qwerty.htm)

যদি কেউ কীবোর্ড প্যাটেন্ট লিখে গুগলে অনুসন্ধান করেন তবে দেখবেন এখনও কীবোর্ডের প্যাটেন্ট হচ্ছে। বাংলা টাইপরাইটারের মুনির কীবোর্ড কেন্দ্রিয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলা একাডেমীর সম্পদ। এর আগে রেমিংটন বাংলা কীবোর্ডের স্বত্ত্বাধিকারী ছিলো। খুব যুক্তিসঙ্গতভাবেই এটি বলা যায় যে, রেজিস্ট্রার অব ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও ডিজাইন যাচাই বাছাই করেই আমাকে প্যাটেন্ট স্বত্ত্ব দিয়েছেন। আমি ধারণা করি, মেহেদি সাহেবও তার নিজের উদ্ভাবিত কীবোর্ডগুলোর প্যাটেন্ট পেতে পারেন।

অন্যদিকে একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিজয় কীবোর্ড লেআউট ও ম্যাকের সফটওয়ার এবং তার নির্দেশিকা প্রথমে কপিরাইট হয় এবং পরে বিজয় কীবোর্ড লেআউট ও সফটওয়্যার হিসেবে অব্যাহতভাবে এর কপিরাইট হচ্ছে। ২০০০ সালে ১৯৬২ সালের আইনটির সংশোধন করে তাতে সফটওয়্যারের কপিরাইট করার ব্যবস্থা করা হয়। জনাব মেহেদি যদি মনে করেন যে তিনি মেধাস্বত্ত্ব লঙ্ঘন করেননি তবে তিনি তার ইউবিজয় কীবোর্ড কপিরাইট করার আবেদন করতে পারেন এবং কপিরাইট রেজিস্ট্রার যদি তাকে সার্বিক বিবেচনায় কপিরাইট প্রদান করেন তবে সেটি নতুন বা মৌলিক কাজের স্বীকৃতি পাবে।

বিজয় কে তৈরী করেছে? ব্লগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রশ্নও তোলা হয়েছে যে বিজয় কে তৈরী করেছে। পাঠক পাঠিকাদেরকে আমি জানাতে চাই ১৯৮৭ সালের ১৬ মে আমি প্রথম বাংলা পত্রিকা কম্পিউটারে কম্পোজ করে প্রকাশ করি, যার ফন্ট ছিলো কলিকাতার এবং কীবোর্ড তৈরী করেছিলেন সৈয়দ মাইনুল হোসেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য আমি বিজয় প্রকাশ করি যার কীবোর্ড ও ফন্ট ছিলো আমার তৈরী এবং প্রোগ্রামটি তৈরী করেছিলেন ভারতের দেবেন্দ্র জোশি। ১৯৯২ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় যেটির প্রোগ্রাম লিখেছিলো গোলাম ফারুক আহমেদ। তার নেতৃত্বের একটি টীম ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত বিজয় এর উইন্ডোজ সংস্করণ তৈরী করে। তার সাথে নিয়াজ মুহম্মদ ও কামরুজ্জামান নামক আরও দুজন প্রোগ্রামার ছিলো। ১৯৯৯ সালে প্রোগ্রামিং-এর কাজ করে কামরুজ্জামান। ২০০০ সালে প্রোগ্রামিং-এর কাজ করে মনিরুল আবেদিন পাপ্পন। ২০০৪ সালে কাজ করে রিফাত উন নবী। এখন কাজ করছে রজব, নান্টু, তাহা, রেনেসাসহ একটি বেশ বড় দল। তবে বলে রাখা ভালো, শুধু কোড লেখাটাই বিজয় নয়। বিজয় সফটওয়্যারের সাথে ফন্ট আছে, টাইপোগ্রাফি আছে, লেআউট আছে, ডিজাইন আছে, নির্দেশিকা আছে। এখনতো ফন্টেরও প্রোগ্রামিং করতে হয়-কারণ ইউনিকোড ফন্ট শুধুমাত্র ডিজাইন নয়। আমি অভ্রকে যে কপিরাইট ও প্যাটেন্ট নিয়ে আপত্তি করেছি সেটি বিজয় কীবোর্ড। এবং ঐ কীবোর্ডটি আমার মতো একটি অতি সাধারণ লোকের মাথা থেকেই এসেছে। এই মাথায় কোন অংশীদার নেই।

অন্যান্য: আমি ইন্টারনেটের ব্লগে আমাকে নিয়ে আরও অনকে আলোচনা দেখেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়েও কথা ওঠেছে। কেউ কেউ আমাকে চোর-বাটপার-রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে যতো রকমের খারাপ বাক্য তার সবই শুনিয়েছে। এমন সব ছেলেরা এমন মন্তব্য করেছে যাদের বয়স আমার ছেলের চাইতেও কম। সম্ভবত এটি আমার প্রাপ্য ছিলো। তেউশ বছরের কাজ করার পুরষ্কার এটি। আমি তাদের জন্য দোয়া করি। ওরা ভালো থাকুক এবং দেশকে ভালোবাসুক।

বাংলা কি রোমান হরফ দিয়ে লেখার ভাষা? পরিশেষে একটি ব্লগ সাইটে দেখলাম-বাংলা লেখা শেখানোর ব্যবস্থা আছে। তাতে বলা হয়েছে, ইংরেজীতে ধসর লিখলে সেটি বাংলা আমি হবে। একজন জানালো, এটি নাকি ফনেটিক উপায়। আমি নিজে নিজে কষ্ট পেয়েছি এটি দেখে (এজন্য আমাকে কেউ গালি দেবেন না-কারণ এই কষ্ট একান্তই আমার। আপনাদেরকে নিয়ে লেখা নয়।) যে আরবী বা রোমান হরফে বাংলা চালু করার জন্য অতীতে অনেকে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে কি হবে, আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলাকে নাকি ওভাবে লিখতেই পছন্দ করে। বেচে থাকাকালে আমি সেটি করবো না। বাংলা হরফ দিয়েই আমি বাংলা লিখতে চাই। যেখানে আমি তা পারবো না সেখানে রোমান হরফ দিয়ে ইংরেজী লিখতে চাই।
(দৈনিক জনকণ্ঠের জন্য)

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০১০ ॥ লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা ॥ ই-মেইল: mustafajabbar@gmail.com, ওয়েবপেজ: http://www.bijoyekushe.net

%d bloggers like this: