ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং মেধাসম্পদ সৃষ্টি ও রক্ষা – মোস্তাফা জব্বার (ukbdnews)

শিরোনামঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং মেধাসম্পদ সৃষ্টি ও রক্ষা

লেখকঃ মোস্তাফা জব্বার

তারিখঃ ২৫ এপ্রিল, ২০১০

লিংকঃ

কপিরাইট: মোস্তাফা জব্বার
শুধুমাত্র ইউনিকোডে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অবিকৃত অবস্থায় কপি করা হয়েছে।

লেখাঃ

প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশেও বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশের প্যাটেন্ট ও ডিজাইন অফিস, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বা এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, আইপি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বেসরকারি খাতের আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই দিনে অন্তত একটি সেমিনারের আয়োজন, সংবাদপত্রে একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিটিভিতে একটি টিভি অনুষ্ঠান ইত্যাদির আয়োজন করা হয়ে থাকে। বছরের বাকি ৩৬৪ দিনে অবশ্য মেধাসম্পদ আলোচনার কোনো বিষয় হিসেবেই থাকে না। বরং উল্টোটা থাকে। পুরো বছর জুড়ে পাইরেসি থাকে এবং যারা মেধাসম্পদের মালিক তাদেরকে ইচ্ছেমতো গালি দেয়া হয়।

সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান কারো নজরেই এই বিষয়টি পড়ে না। সরকারের কোনো মাথাব্যথা থাকার কারণ নেই। বেসরকারি খাতেও অবস্থা এমন যেন যার পেট ব্যথা কুকানিটা কেবল তার। বরং চারপাশে পাইরেসি হয়ে পড়ে একটি প্রাত্যহিক বিষয়। মতিঝিলের শিল্পভবনে অবস্থিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অফিস নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে বছর জুড়ে শীতের গরম উপভোগ করতে থাকে। অন্যদিকে আগারগাঁওয়ের কপিরাইট অফিস ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে আরো একটি অকার্যকর দিন অতিক্রমের অপেক্ষা করতে থাকে। এরই পাশাপাশি এ দেশে যারা মেধাসম্পদ তৈরি করে তারা অপেক্ষা করে কবে তাদের সকল অস্তিত্ব একেবারে বিপন্ন হবে।

টাস্কফোর্স কই? বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কপিরাইট অফিস পাইরেসি প্রতিরোধ করার জন্য একটি এ্যান্টি পাইরেসি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্স কয়েকটি অভিযান চালানোর পর এখন প্রায় নীরব হয়ে পড়েছে। এর কোনো কার্যক্রম আপাতত চোখে পড়ে না। এই সংস্থার সদস্য হিসেবে নিজেকে খুব লজ্জায় পড়তে হয়, নিজের কাছে নিজেকে অপরাধীও মনে হয়। কিছুই করতে না পারার বেদনা আমাকে হতাশ করে। যখনই টাস্কফোর্সের সভা হয়, তখনই এসব প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলি- কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। সভার সভাপতি সভায় বসে চরম আগ্রহ দেখান। কার্যবিবরণীতে লেখা হয় যে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে অভিযান পরিচালিত হবে। কিন্তু সভাশেষে সভাপতি এবং তার পারিষদবর্গ বেমালুম ভুলে যান কার্যবিবরণীতে কী লেখা হয়েছে সেটি। আমলাকেন্দ্রিক এই কমিটিতে আমলারা যখন সরব থাকেন তখন চাকা চলে, আর তারা যখন নীরব হন তখন সবকিছুই থেমে থাকে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, মেধাসম্পদ বাংলাদেশে সবচেয়ে বিপন্ন হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প পাইরেসির জন্য দেউলিয়া হতে বসেছে। এভাবে চললে নিকট-ভবিষ্যতে এ দেশে কেউ সিনেমা বানাবে বলে মনে হয় না। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়া হয়েছে। বই পাইরেসিতে আমরা বিশ্বের সেরা দেশে পরিণত হয়ে পড়েছি। বিদেশের বইতো এখানে পাইরেসি হয়ই, দেশের লেখকদের বইও এখানে দেদার চুরি হয়।

মেধা সম্পদের মালিক হওয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ! সফটওয়্যারের মেধাসম্পদ থাকাটাই এক বিপদে পরিণত হয়ে পড়েছে। আমি সফটওয়্যার তৈরি করেছি বলে আমার অপরাধ হচ্ছে, আমি কেন মেধাসম্পদের মালিক এবং কেন আমি অন্যকে আমার সম্পদ চুরি করতে দেই না। আমার নিজের কথাই বলি। আমার মেধাসম্পদ অন্যরা চুরি করবে কিন্তু আমি কিছু বলতে পারবো না, এটাই এখন নিয়ম। আমার বিজয় কিবোর্ড আমার অনুমতি ছাড়া কেউ কারো সফটওয়্যারে পুরো বা আংশিক যুক্ত করবে বা কিবোর্ডে প্রিন্ট করা হবে, কিন্তু চোরই আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে। কপাল ভালো যে, মামলায় আমি জিতেছি। কিন্তু তাতে কি? সেতো আমাকে ইন্টারনেটে গালি দিতে পারছে। তাকে ধরা যায় না, তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। যত্রতত্র ব্লগিং করছে এবং অশ্লীল-বিশ্রী ভাষায় আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছে। দেশের আইনে তাদের বিরুদ্ধে কিছু করার বা দেখার কোনো উদ্যোগ নেই। আমাকে কেউ চোর বলবে- বাটপার বলবে, ধান্ধাবাজ বলবে, ঠগ বলবে কিন্তু তার বিচার চাইবার জায়গা নেই। কিছু লোক বা প্রতিষ্ঠান কিছু লোককে কারো বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে- কারো মানহানি করার জন্য সর্বত্র অপপ্রচার চালাচ্ছে- কিন্তু কোথাও বিচার দেয়ার জায়গা নেই। বাংলাদেশের মতো আর কোনো দেশে চোরের মার এতো বড় গলা আমি দেখিনি। চোরের এতো বেশি সমর্থকও বোধহয় দুনিয়ার আর কোনো দেশে নেই। যে লোকটি একের পর এক চুরির দায়ে অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত তার গলায় ফুলের মালা দেয়ার মানুষের স্রোত বয়ে যায় এই দেশে। যে লোকটি আমাকে গালি দেয় সেই লোকটি এটি ভাবে না যে আমি প্রতিবাদ করেছি আমার সম্পদ সে চুরি করেছে বলে। কোথায় মানুষ আমার পক্ষে দাঁড়াবে- তার বদলে পরিকল্পিতভাবে আমাকে গালি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রচলিত প্রায় সকল বাংলা লেখার সফটওয়্যারে বিজয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়- এটির নাম পাইরেসি। ওরা বুক ফুলিয়ে চলে আর অপরাধী আমি- আমাকে মাথা নিচু করতে হবে। বেশকিছু ব্লগ সাইটে বিজয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- সেটিও অনুমতি ছাড়া। এর বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করতে পারবো না। একটি সফটওয়্যারে আমার কিবোর্ডই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তবে তাতে পেটকাটা ব, বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু, খণ্ড ত এমন কয়েকটি কম ব্যবহৃত পজিশন বদলিয়ে। আমি কেন সেই কিবোর্ড অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ করেছি তার জন্য আমার হেনস্থার শেষ নেই। এমন সব বাক্য আমার বিরুদ্ধে-ব্লগে, মেইলে, ফেসবুকে বলা হচ্ছে যা অনেকের মুখে আনাও কঠিন।

সফটওয়্যার বিক্রি অপরাধ? বাংলাদেশে সফটওয়্যার বিক্রি করা অপরাধ। সফটওয়্যারের বিক্রি ঠেকাতে পারলে কেউ কেউ আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। কোটি কোটি টাকার বিদেশী সফটওয়্যার কেনায় কোনো দোষ নেই- দোষ কেবল দেশের একশ টাকা দামের বাংলা লেখার সফটওয়্যার কেনায়। সফটওয়্যারের বা আবিষ্কারের কপিরাইট করা বা প্যাটেন্ট করা অপরাধ। ১৯৮৮ সালে বাংলাকে সহজভাবে লেখার যখন কোনো সুযোগ ছিল না তখন কেন আমি একটি সহজ কিবোর্ড তৈরি করলাম এবং কেন সেটি কপিরাইট বা প্যাটেন্ট করলাম সেটি আমার অপরাধ। সফটওয়্যার যদি বিক্রিই না হয় তবে যারা সফটওয়্যার তৈরি করবে তারা বাঁচবে কি দিয়ে? আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বা এনজিওদের টাকায় কি আমাদের পুরো সফটওয়্যার শিল্প গড়ে উঠবে? শুধু স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কি ডিজিটাল দুনিয়াটা গড়ে উঠবে?

কিবোর্ডের কি প্যাটেন্ট বা কপিরাইট হয়? বহুজন প্রশ্ন তুলে, বাংলা কিবোর্ডের কপিরাইট হবে কেন? সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্তে পাওয়া বাংলা ভাষার কিবোর্ডের জন্য অর্থ দিতে হবে কেন? ভাবটা এমন যে, বাংলা ভাষার বর্ণমালার বই আমি টাকা দিয়ে কেন কিনবো? বরকত-সালাম-রফিক-জব্বার তো এজন্য রক্ত দিয়ে গেছে। বাংলায় কবিতা লিখেছেন তাই আপনার বই আমি বিনে পয়সায় চাই। তাদের গুরু লেখকরা যখন বই বেচে গাড়ি কিনে সেটি অপরাধ নয় – অপরাধ হচ্ছে আমি কিবোর্ড আবিষ্কার করে বা বাংলা লেখার সফটওয়্যার বানিয়ে কেন তার বিনিময়ে পয়সা নেবো। এর আগে রেমিংটন পয়সা নিয়েছে – বাংলা একাডেমী পয়সা নিয়েছে – দেশবাংলা পয়সা নিয়েছে _ সেসবে কোনো দোষ নেই। তারা বলেন, ইংরেজি কিবোর্ডে তো কপিরাইট বা প্যাটেন্ট নেই। তারা জানেন না যে, ইংরেজির প্রচলিত কিবোর্ডের কপিরাইট বা প্যাটেন্ট থাকার কোনো সুযোগ নেই। কপিরাইট বা প্যাটেন্টের মেয়াদ আছে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের পর সেটি পাবলিক ডমেইন হয়ে যায়। ইংরেজি যে কোয়ার্টি কিবোর্ডটি আমরা এখন বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করি তার প্যাটেন্ট ছিল এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বলে সেটি এখন যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে। বিজয়-এর ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজ্য হবে। প্যাটেন্টের ও কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হলে সেটি যে কেউ আবিষ্কারক বা কপিরাইটধারীর অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে এখন নতুন করে নানা ধরনের কিবোর্ডের প্যাটেন্ট হচ্ছে। গুগলে কিবোর্ড প্যাটেন্ট লিখে একটু সার্চ দিলেই সেটি দেখা যাবে।

কপিরাইটের মালিক কে? এখানে আমার সম্পদ চুরি করে আমাকেই গালি দেয়া হয়। বিপদটা এখানেই শেষ নয়। যে কেউ কোম্পানির কাজের মালিক বনে যায়। যারা সফটওয়্যারের ব্যবসা করেন তারা জানেন যে, কোনো একটি সফটওয়্যারের সব কাজ নিজের হাতে একা করা যায় না। বিল গেটস তাহলে কোনোদিন এতো সফটওয়্যার বানাতে পারতেন না। সবাইকেই কোড লেখার, ডিজাইন করার, গ্রাফিক্স তৈরির, ছবি তোলার বা ডকুমেন্ট লেখার লোককে চাকরি দিতে হয়। আমি যখন বিজয় তৈরি করেছি তখন আমার কোড লেখার লোকের দরকার হয়েছে – টাইপ ডিজাইন করার লোকের দরকার হয়েছে, টাইপ ডিজিটাইজ করার লোকের দরকার হয়েছে। আমি চাকরি দিয়ে লোক নিয়োগ করেছি। এখন দেখি ওদের কেউ কেউ দাবি করে বসে আছে যে, সে-ই বিজয় তৈরি করেছে। ১৯৮৮ সালে যে কিবোর্ড তৈরি এবং যে ছেলে তখন স্কুলেও যায়নি সেই নাকি বিজয়-এর জনক। একজন তো আমার চাকরি থেকে যাওয়ার সময় আমার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে এবং সেই কোড দিয়ে একটি বাংলা সফটওয়্যার বানিয়ে বেশ ভালো বাজারও পেয়েছে।

দেশের প্রচলিত আইনে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে কোনো আইন, সমঝোতা স্মারক, কনভেনশন বা চুক্তিতে একের মেধাজাত সম্পদ তার অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা মেধাস্বত্বের লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে এবং কোনো সফটওয়্যারের কাজ করলে সেই কাজের কপিরাইট বা প্যাটেন্ট চাকরিদাতার। এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে হয় না বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে মতামত নিতে হয় না। এটি একটি সরল সত্য তথ্য। কেউ যদি বিজয় এর নির্দেশিকা পাঠ করেন তবে দেখতে পাবেন তাতে যারা এ যাবৎকালে এটি তৈরির সঙ্গে জড়িত তাদের সকলের নাম এতে আছে।

বিজয় নাম কেন? কেউ কেউ এটি বলেছেন যে বিজয় নামটি আমার ছেলের এবং ছেলের নামেই এই সফটওয়্যার তৈরি। তাদেরকে বলা দরকার বিজয় প্রকাশিত হয়েছে ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। আমার ছেলের জন্ম ১৯৯৩ সালের ১৩ অক্টোবর। পাঁচ বছর আগে বিজয় সফটওয়্যারের জন্ম। বরং বিজয় সফটওয়্যারের নামে আমি আমার ছেলের নাম রেখেছি।

ওপনে সোর্সের সঙ্গে বিরোধ কোথায়? দুনিয়াজুড়ে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। একদিকে প্রপ্রাইটরি সফটওয়্যারের বিশ্ব বাজার আছে। এর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার তৈরি। যারা ওপেন সোর্স সফটওয়্যার তৈরি করেন তারা খুব শ্রদ্ধেয় মানুষ। কারণ তারা তাদের শ্রম জনগণকে বিলিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু আমার মতো যারা ব্যবসায়ী-যাদেরকে প্রোগ্রামারদেরকে বেতন দিতে হয়, বাড়ি ভাড়া ও বিদ্যুতের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয় বা যাদেরকে নিজের সংসার চালাতে হয় তারা সফটওয়্যারের লাইসেন্স বিক্রি করি। দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আমাদের এই ব্যবসাকে সরকার এমনকি আয়করমুক্ত করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা অনুসারে যখন যেখানে এটি ব্যবহার করা দরকার তখন সেখানে সেটি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ওপেন সোর্স কখনো এই কথা বলে না যে, বিজয় কিবোর্ড কেউ কারও সফটওয়্যারে কপি করবে এবং সেটি বিনামূল্যে বিতরণ করবে। ওপেন সোর্স এই কথাও বলে না যে, ওপেন সোর্সের নামে কোনো ব্যক্তির অধিকার হরণ করা হবে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওপেন সোর্সের নাম বাংলাদেশে পাইরেসির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। একই কারণে সরকারের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। খুব ভালো হয় যদি বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলে। ওপেন সোর্স যে পাইরেসিকে সহায়তা করে না সেটিও তাদের বলা উচিত। এমনকি ওপনে সোর্সের নামে যে পাইরেসি হচ্ছে তার বিরুদ্ধেও বাংলাদেশের ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকা উচিত।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পাইরেসির বিদ্যমান অবস্থা চলতে দেয়া যায়না – চলা উচিত নয়। বিশেষ করে সরকার মেধাসম্পদের বিষয়ে চুপ করে থাকতে পারে না। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছে। তারা বিষয়টিকে একেবারে হেলাফেলা করছে তা বলা যাবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করা। আর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ মানেই হচ্ছে জ্ঞান তৈরি ও রক্ষা করা। এটি আলু-পটলের মতো নয় যে, গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। এসব রক্ষা করার জন্য যেমন আইন চাই, তেমন চাই সচেতনতা। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক বা সুশীল সমাজের কাছেই আমরা আমাদের মেধাসম্পদের নিরাপত্তা চাই। দেশে যে একেবারে আইন নেই সেটি সত্য নয়। বিদ্যমান আইনেই অনেকক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ দেশে আইনের লড়াই কেবল জটিল নয় – সময়সাপেক্ষ। ফলে যদি কেউ আইনের দরজায় টোকা দেয় তবে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। আমাদের সমাজে বিচার চাওয়াই বরং অপরাধের বিষয়। সে জন্যই আমরা কামনা করবো যে, সুশীল সমাজ নামক যে জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে সমাজের রক্ষক মনে করেন তারা দেশের সৃজনশীল মানুষদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। যদি আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে না পারি ও তা রক্ষা করতে না পারি তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কাগজে-কলমেই থাকবে, বাস্তবে পরিণত হবে না।

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০১০ ॥ লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা ॥ ই-মেইল: mustafajabbar@gmail.com, ওয়েবপেজ: http://www.bijoyekushe.net

চূড়ান্ত প্রকাশঃ

%d bloggers like this: